যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে নজরে থাকবে যেসব বিষয়
- প্রকাশঃ ০৮:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / 4
ইরান যুদ্ধের অবসান এবং যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার আলোচনা চলছে। তবে সংক্ষিপ্ত এই নথি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, কারণ প্রতিটি শব্দ, শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিকে আরও স্থায়ী রূপ দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু শর্ত তেহরানে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে কি?
সম্ভাব্য সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা। গত কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা বিধিনিষেধ ছাড়া জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং সেখানে স্থাপন করা সামুদ্রিক মাইন অপসারণের দায়িত্ব ইরানকে নিতে হবে। এর বিনিময়ে ইরানি বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
তবে ইরানের অবস্থান ভিন্ন। তেহরান মনে করে, ওমানের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় তাদের বৈধ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই ইস্যুতে গ্রহণযোগ্য ভাষা খুঁজে বের করা আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কী হবে?
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ট্রাম্প পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংসের কথাও বলেছেন।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো তৃতীয় দেশে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
অবরুদ্ধ সম্পদ ও অর্থনৈতিক সুবিধা
যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। বর্তমানে দেশটি বিদেশে জব্দ থাকা বিপুল অঙ্কের সম্পদ দ্রুত অবমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।
তেহরানের আশা, সমঝোতা হলে কয়েক দশক ধরে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করা হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাওয়ার পরই এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব।
আলোচনায় ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য একটি বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়ও উঠে এসেছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কতটা সম্ভব?
ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় সম্ভব বলে মনে করছে তেহরান।
তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির সঙ্গে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।
লেবানন প্রশ্ন কি অন্তর্ভুক্ত হবে?
আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত সমঝোতা স্মারকের অংশ হবে কি না।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধের অবসান বলতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ হওয়াকে বোঝানো উচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান এখনো সে ধরনের কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি।
আস্থার সংকটই সবচেয়ে বড় বাধা
সমঝোতা আলোচনার ওপর সবচেয়ে বড় ছায়া ফেলেছে পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের দাবি, আলোচনার মধ্যেই গত এক বছরে তারা একাধিকবার মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। ফলে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
এই পরিস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলেও এর বাস্তবায়ন, সময়সূচি এবং শর্ত পালনের বিষয়গুলোই আগামী সপ্তাহগুলোতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।























