ঢাকা ০৮:০৭ , Sun, ১৬ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকায় বাংলাদেশিসহ বিদেশিরাও জমি কিনতে পারেন, তবে রাজ্যভেদে নিয়ম ও দামে বড় পার্থক্য

নূজহাত নাছিম
  • প্রকাশঃ ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:৫৮
  • / 5
ছবি: লিঙ্কডইন

ওয়াশিংটন (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে জমি, বাড়ি বা অন্যান্য রিয়েল এস্টেট কিনতে বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ড থাকা সাধারণভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে সম্পত্তি কিনলেই ভিসা, গ্রিন কার্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। সম্পত্তির মালিকানা এবং অভিবাসন সুবিধা দুটি পৃথক আইনি বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি নাগরিক বাড়ি, জমি বা অন্য কোনো রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলেও এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসন সুবিধা পাওয়া যায় না। সম্পত্তির মালিকানা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আলাদাভাবে বৈধ ভিসা বা অভিবাসন স্ট্যাটাস প্রয়োজন।

তাই শুধু জমি কেনাকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বা স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম ভিন্ন

বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তি কেনার সুযোগ থাকলেও সব অঙ্গরাজ্যে একই আইন প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বিদেশি মালিকানার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

কৃষিজমি, সামরিক স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা অন্যান্য কৌশলগত এলাকার কাছাকাছি সম্পত্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ফলে কোনো জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বর্তমান আইন যাচাই করা জরুরি।

কৃষিজমির ক্ষেত্রে AFIDA রিপোর্টিং

বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কৃষিজমিতে মালিকানা বা নির্দিষ্ট স্বার্থ থাকলে Agricultural Foreign Investment Disclosure Act (AFIDA)-এর আওতায় তথ্য রিপোর্ট করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) নির্ধারিত নিয়ম ও ফরম অনুসরণ করতে হয়।

অর্থাৎ কৃষিজমি কেনার ক্ষেত্রে শুধু জমির মালিকানা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়; বিদেশি মালিকানা-সংক্রান্ত ফেডারেল রিপোর্টিংয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে জমির নির্দিষ্ট কোনো একক দাম নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি একর ৫০০ বা ২ হাজার ডলারের মতো নির্দিষ্ট দামে জমি পাওয়া যায়—এমন দাবি দেখা গেলেও পুরো দেশের ক্ষেত্রে এমন দাম নির্ধারণ করা যায় না।

জমির দাম নির্ভর করে অবস্থান, জমির ধরন, আয়তন, রাস্তা ও ইউটিলিটি সুবিধা, জোনিং এবং স্থানীয় বাজারের ওপর।

USDA-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিজমি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা মিলিয়ে farm real estate-এর জাতীয় গড় মূল্য প্রতি একর ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। তবে এটি জাতীয় গড়; নির্দিষ্ট কোনো জমির বাজারদর নয়। অঙ্গরাজ্য ও এলাকার ভিত্তিতে প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি বা কম হতে পারে।

সরকারি নিলামেও জমি বিক্রি হয়

মার্কিন সরকারের অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত রিয়েল প্রপার্টির মধ্যে খালি জমি ও অন্যান্য অনুন্নত সম্পত্তিও থাকতে পারে। General Services Administration (GSA) এসব সম্পত্তি পাবলিক সেল ও অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে।

তবে সরকারি নিলামে অংশ নিলেই বাজারদরের চেয়ে কম দামে জমি পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি সম্পত্তির অবস্থান, ব্যবহার, শর্ত এবং নিলামে অংশগ্রহণকারীদের দর অনুযায়ী মূল্য নির্ধারিত হতে পারে।

জমি কেনার আগে যেসব বিষয় যাচাই জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে জমি বা অন্য কোনো রিয়েল এস্টেট কেনার আগে—

জমির প্রকৃত মালিকানা ও Title যাচাই করুন;

সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বিদেশি মালিকানা আইন দেখুন;

Zoning ও জমিটির অনুমোদিত ব্যবহার যাচাই করুন;

জমিতে বৈধ রাস্তা বা প্রবেশাধিকার রয়েছে কি না দেখুন;

পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় Utility সুবিধা আছে কি না নিশ্চিত করুন;

সম্পত্তি কর ও অন্যান্য স্থানীয় কর সম্পর্কে জানুন;

কৃষিজমি হলে AFIDA-সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজন আছে কি না যাচাই করুন;

জমির ওপর কোনো ঋণ, দায় বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।

সারকথা: বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ক্ষেত্রেই জমি বা অন্যান্য রিয়েল এস্টেট কিনতে পারেন। কিন্তু জমি কিনলেই গ্রিন কার্ড বা ভিসা পাওয়া যায় না, আর বিদেশি মালিকানার নিয়মও সব অঙ্গরাজ্যে এক নয়। তাই কোনো অনলাইন বিজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কম দামের দাবি দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন, জমির Title, Zoning, কর ও ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করে তারপর কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

❤️
👏
🙂
😞

আমেরিকায় বাংলাদেশিসহ বিদেশিরাও জমি কিনতে পারেন, তবে রাজ্যভেদে নিয়ম ও দামে বড় পার্থক্য

প্রকাশঃ ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:৫৮

ওয়াশিংটন (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে জমি, বাড়ি বা অন্যান্য রিয়েল এস্টেট কিনতে বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ড থাকা সাধারণভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে সম্পত্তি কিনলেই ভিসা, গ্রিন কার্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। সম্পত্তির মালিকানা এবং অভিবাসন সুবিধা দুটি পৃথক আইনি বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি নাগরিক বাড়ি, জমি বা অন্য কোনো রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলেও এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসন সুবিধা পাওয়া যায় না। সম্পত্তির মালিকানা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আলাদাভাবে বৈধ ভিসা বা অভিবাসন স্ট্যাটাস প্রয়োজন।

তাই শুধু জমি কেনাকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বা স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম ভিন্ন

বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তি কেনার সুযোগ থাকলেও সব অঙ্গরাজ্যে একই আইন প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বিদেশি মালিকানার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

কৃষিজমি, সামরিক স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা অন্যান্য কৌশলগত এলাকার কাছাকাছি সম্পত্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ফলে কোনো জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বর্তমান আইন যাচাই করা জরুরি।

কৃষিজমির ক্ষেত্রে AFIDA রিপোর্টিং

বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কৃষিজমিতে মালিকানা বা নির্দিষ্ট স্বার্থ থাকলে Agricultural Foreign Investment Disclosure Act (AFIDA)-এর আওতায় তথ্য রিপোর্ট করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) নির্ধারিত নিয়ম ও ফরম অনুসরণ করতে হয়।

অর্থাৎ কৃষিজমি কেনার ক্ষেত্রে শুধু জমির মালিকানা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়; বিদেশি মালিকানা-সংক্রান্ত ফেডারেল রিপোর্টিংয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে জমির নির্দিষ্ট কোনো একক দাম নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি একর ৫০০ বা ২ হাজার ডলারের মতো নির্দিষ্ট দামে জমি পাওয়া যায়—এমন দাবি দেখা গেলেও পুরো দেশের ক্ষেত্রে এমন দাম নির্ধারণ করা যায় না।

জমির দাম নির্ভর করে অবস্থান, জমির ধরন, আয়তন, রাস্তা ও ইউটিলিটি সুবিধা, জোনিং এবং স্থানীয় বাজারের ওপর।

USDA-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিজমি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা মিলিয়ে farm real estate-এর জাতীয় গড় মূল্য প্রতি একর ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। তবে এটি জাতীয় গড়; নির্দিষ্ট কোনো জমির বাজারদর নয়। অঙ্গরাজ্য ও এলাকার ভিত্তিতে প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি বা কম হতে পারে।

সরকারি নিলামেও জমি বিক্রি হয়

মার্কিন সরকারের অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত রিয়েল প্রপার্টির মধ্যে খালি জমি ও অন্যান্য অনুন্নত সম্পত্তিও থাকতে পারে। General Services Administration (GSA) এসব সম্পত্তি পাবলিক সেল ও অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে।

তবে সরকারি নিলামে অংশ নিলেই বাজারদরের চেয়ে কম দামে জমি পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি সম্পত্তির অবস্থান, ব্যবহার, শর্ত এবং নিলামে অংশগ্রহণকারীদের দর অনুযায়ী মূল্য নির্ধারিত হতে পারে।

জমি কেনার আগে যেসব বিষয় যাচাই জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে জমি বা অন্য কোনো রিয়েল এস্টেট কেনার আগে—

জমির প্রকৃত মালিকানা ও Title যাচাই করুন;

সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বিদেশি মালিকানা আইন দেখুন;

Zoning ও জমিটির অনুমোদিত ব্যবহার যাচাই করুন;

জমিতে বৈধ রাস্তা বা প্রবেশাধিকার রয়েছে কি না দেখুন;

পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় Utility সুবিধা আছে কি না নিশ্চিত করুন;

সম্পত্তি কর ও অন্যান্য স্থানীয় কর সম্পর্কে জানুন;

কৃষিজমি হলে AFIDA-সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজন আছে কি না যাচাই করুন;

জমির ওপর কোনো ঋণ, দায় বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।

সারকথা: বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ক্ষেত্রেই জমি বা অন্যান্য রিয়েল এস্টেট কিনতে পারেন। কিন্তু জমি কিনলেই গ্রিন কার্ড বা ভিসা পাওয়া যায় না, আর বিদেশি মালিকানার নিয়মও সব অঙ্গরাজ্যে এক নয়। তাই কোনো অনলাইন বিজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কম দামের দাবি দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন, জমির Title, Zoning, কর ও ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করে তারপর কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।