ঢাকা ০৮:৩৭ , Sat, ২২ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
নিউইয়র্ক

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ট্রাম্প নীতি বাতিল, নিউইয়র্কের আদালতের রায়

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৪
  • / 10
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

নিউইয়র্ক, ২ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়েছে।

শুক্রবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস এ রায় দেন। ৬১ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি কার্যকর করেছিল, তা বিদ্যমান অভিবাসন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তুলেছে।

জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নীতির আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে ও আলবেনিয়াসহ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপের মোট ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি ছিল, এসব দেশের ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা ও সরকারি সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল।

তবে বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়েছে, কোনো দেশের নাগরিকদের সামগ্রিকভাবে একই ধরনের ঝুঁকির আওতায় ফেলা আইনসম্মত পদ্ধতি হতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এমন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল, যারা নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখার সক্ষমতা দেখাতে পারতেন।

মার্কিন অভিবাসন আইনের কাঠামো অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার নীতিকে আদালত আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি।

রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জানুয়ারির নীতির ভিত্তিতে যেসব অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে আগে প্রত্যাখ্যাত হওয়া বিপুলসংখ্যক আবেদন নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

মামলায় এমন কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন, যারা ঘানা, জ্যামাইকা, গুয়াতেমালা ও ইথিওপিয়ায় থাকা পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা করছিলেন। কলম্বিয়ার কয়েকজন পেশাজীবীও বাদী হিসেবে মামলায় অংশ নেন। নতুন ভিসা নীতির কথা উল্লেখ করে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে মামলায় জানানো হয়।

অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন, ভিসা আবেদনকারী এবং মার্কিন নাগরিকেরা মামলাটিতে যুক্ত ছিলেন। রায়ের পর অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের দেশে প্রবেশ সীমিত করার বিস্তৃত ক্ষমতা স্বীকার করেছিল। তবে বিচারক ভার্গাসের মতে, ওই সিদ্ধান্ত থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরের এই ধরনের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয় না।

আদালতের রায়ের পর এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালতে যেতে পারে। রায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন বিচার বিভাগ বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের যেসব আবেদনকারী জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নীতির কারণে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় আটকে পড়েছিলেন, তাদের জন্য রায়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে কি না, তা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

❤️
👏
🙂
😞

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ট্রাম্প নীতি বাতিল, নিউইয়র্কের আদালতের রায়

প্রকাশঃ ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৪

নিউইয়র্ক, ২ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়েছে।

শুক্রবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস এ রায় দেন। ৬১ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি কার্যকর করেছিল, তা বিদ্যমান অভিবাসন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তুলেছে।

জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নীতির আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে ও আলবেনিয়াসহ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপের মোট ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি ছিল, এসব দেশের ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা ও সরকারি সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল।

তবে বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়েছে, কোনো দেশের নাগরিকদের সামগ্রিকভাবে একই ধরনের ঝুঁকির আওতায় ফেলা আইনসম্মত পদ্ধতি হতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এমন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল, যারা নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখার সক্ষমতা দেখাতে পারতেন।

মার্কিন অভিবাসন আইনের কাঠামো অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার নীতিকে আদালত আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি।

রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জানুয়ারির নীতির ভিত্তিতে যেসব অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে আগে প্রত্যাখ্যাত হওয়া বিপুলসংখ্যক আবেদন নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

মামলায় এমন কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন, যারা ঘানা, জ্যামাইকা, গুয়াতেমালা ও ইথিওপিয়ায় থাকা পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা করছিলেন। কলম্বিয়ার কয়েকজন পেশাজীবীও বাদী হিসেবে মামলায় অংশ নেন। নতুন ভিসা নীতির কথা উল্লেখ করে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে মামলায় জানানো হয়।

অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন, ভিসা আবেদনকারী এবং মার্কিন নাগরিকেরা মামলাটিতে যুক্ত ছিলেন। রায়ের পর অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের দেশে প্রবেশ সীমিত করার বিস্তৃত ক্ষমতা স্বীকার করেছিল। তবে বিচারক ভার্গাসের মতে, ওই সিদ্ধান্ত থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরের এই ধরনের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয় না।

আদালতের রায়ের পর এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালতে যেতে পারে। রায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন বিচার বিভাগ বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের যেসব আবেদনকারী জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নীতির কারণে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় আটকে পড়েছিলেন, তাদের জন্য রায়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে কি না, তা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস