জালিয়াতি করে জার্মান নাগরিকত্বের আবেদন করলে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা
- প্রকাশঃ ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮:১৪
- / 8
বার্লিন, ২৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – জালিয়াতি, ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের আবেদন ১০ বছরের জন্য বন্ধ হতে পারে। জার্মান নাগরিকত্ব আইন (StAG)-এর ৩৫এ ধারায় এ ধরনের ক্ষেত্রে ১০ বছরের ‘Sperrfrist’ বা আবেদন নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী নিজের বা অন্য কারও নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণা, ঘুষ বা হুমকির আশ্রয় নিলে অথবা নাগরিকত্বের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই এমন অনিয়ম শনাক্ত করলে ১০ বছরের জন্য নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ভুয়া ভাষা সনদ, জাল কর্মসংস্থানের কাগজপত্র বা নাগরিকত্বের যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাই আবেদনকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। জার্মান আইনে নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে পরিচয় ও নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট থাকা এবং নির্ধারিত ভাষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণের শর্ত রয়েছে।
এর পাশাপাশি আগে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়ে থাকলেও প্রতারণার মাধ্যমে তা অর্জিত প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের বিধান রয়েছে। StAG-এর ৩৫ ধারায় বলা হয়েছে, প্রতারণা, হুমকি, ঘুষ অথবা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জিত হলে তা প্রত্যাহার করা যেতে পারে। এ ধরনের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নাগরিকত্ব দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যে নেওয়া যায়।
আইনের ৩৫এ ধারায় আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে অথবা নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে ১০ বছরের জন্য নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ বন্ধ থাকবে।
এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজের পরিচয়, বসবাসের অনুমতি, কর্মসংস্থান, আয় এবং নাগরিকত্বের যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত সব নথি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৃতীয় পক্ষ বা কোনো এজেন্সির মাধ্যমে তৈরি নথি ব্যবহারের আগে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
জার্মান নাগরিকত্ব আইনের বর্তমান বিধান অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এর প্রভাব আবেদন প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। পূর্বে দেওয়া নাগরিকত্বও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা সম্ভব এবং এরপর ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।



























