প্রতিবেশীকে বিশ্বাস করেন মাত্র ২১% মানুষ! লন্ডনের সবচেয়ে বন্ধুহীন এলাকা বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম
- প্রকাশঃ ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৫
- / 14
লন্ডন, ২৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম বরোকে রাজধানীর সবচেয়ে কম বন্ধুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সাম্প্রতিক এক জরিপ। ‘ন্যাশনাল কনভারসেশন’-এর সরকারি তথ্যভিত্তিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বরোটির মাত্র ২১.১ শতাংশ বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা প্রতিবেশীদের বিশ্বাস করেন। একই সূচকে লন্ডনের ৩২টি বরোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে।
ইংল্যান্ডের ২৯৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তুলনাতেও বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যামের অবস্থান সর্বশেষ। সামাজিক সংযোগ বা ‘কানেকশন’ সূচকে বরোটির স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৮, যা সেখানে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরেছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যামের ১০.১ শতাংশ বাসিন্দা নিয়মিত একাকীত্ব অনুভব করেন। ইংল্যান্ডের জাতীয় গড় এ ক্ষেত্রে ৬.৬ শতাংশ। একই সঙ্গে মাত্র ৪২.৮ শতাংশ বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা নিজেদের এলাকায় বসবাস নিয়ে গর্বিত। জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৫৯.৭ শতাংশ।
সামাজিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বরোটির চিত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল। মাসে অন্তত একবার স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেন এমন বাসিন্দার হার ১০.৯ শতাংশ। প্রতিবেশীদের প্রতি আস্থার হারও কম, মাত্র ২১.১ শতাংশ বাসিন্দা জানিয়েছেন যে তারা পাশের বাড়ির মানুষদের বিশ্বাস করেন।
তবে জরিপের পরিসংখ্যানের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় এখনো প্রতিবেশীদের মধ্যে খাবার ভাগাভাগি করা, বাড়ির চাবি একে অন্যের কাছে রেখে যাওয়া এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করার মতো সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে অপরিচ্ছন্ন জনপরিসর, সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং অবকাঠামোগত ঘাটতিকে তারা এলাকার বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনের বঞ্চিত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, বরোটির ৪৬ হাজার ১০০টি পরিবার, অর্থাৎ ৬২.৪ শতাংশ পরিবার শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য অথবা আবাসনের অন্তত একটি ক্ষেত্রে বঞ্চনার মধ্যে রয়েছে। এসব আর্থসামাজিক পরিস্থিতি সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একই সময়ে এলাকাটিতে বড় ধরনের আবাসন ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নও চলছে। বার্কিং রিভারসাইড এলাকায় এরই মধ্যে ২ হাজারের বেশি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বাড়ির ৪১ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যের। পাশাপাশি নতুন ওভারগ্রাউন্ড স্টেশন, টেমস নদীতে নৌযানঘাট এবং ডেগেনহ্যামে প্রায় ১ হাজার ৩০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আবাসন ব্যয়ের দিক থেকেও বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম লন্ডনের অনেক এলাকার তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী। গত এক বছরে বরোটিতে একটি বাড়ির গড় মূল্য ছিল প্রায় ৪ লাখ ২৮ হাজার ৯০৮ পাউন্ড, যা লন্ডনের গড় বাড়ির দামের তুলনায় কম। এ কারণে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে এলাকাটি এখনো একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রঃ ট্রাস্ট ফর লন্ডন




























