ঢাকা ০৫:৪৯ , Tue, ২৫ Aug ২০২৬

মদের বার থেকে মসজিদ, লন্ডনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর ভিন্নধর্মী উদ্যোগে বদলে গেল ভবন

লন্ডন প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:৩৯
  • / 3
পূর্ব লন্ডনের যে ভবনটি মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে ছবি: এল এম সি

লন্ডন, ২৫ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – পূর্ব লন্ডনের একটি ভবনে একসময় চলত মদ্যপান ও আড্ডা। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন সেখানে শোনা যায় আজান ও কুরআন তিলাওয়াত। নামাজের সময় কাতারবদ্ধ হয়ে সালাত আদায় করেন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি। ভবনটিকে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন লন্ডনপ্রবাসী ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান জিয়া বিন রাসেল।

ভবনটি কিনে সেখানে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে ধর্মীয় উপাসনালয় ও কমিউনিটি কার্যক্রমের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।

তবে জিয়া বিন রাসেলের কর্মকাণ্ড একটি ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর সহযোগিতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য এককালীন খাদ্য সহায়তা ও হুইলচেয়ার বিতরণের পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাভারের নবীনগরে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে জিয়া বিন রাসেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অসহায় নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতেও বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন আয়মুখী উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের নিজেদের ও পরিবারের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর সহযোগিতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকার মক্তব ও মাদ্রাসায় অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর অর্থায়নে একাধিক শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশের বাইরে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের কাছেও তাঁর সহায়তা পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনের গাজা ও সুদানে সংকটে থাকা মানুষের জন্য রান্না করা খাবার, রুটি, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হয়েছে।

দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সহযোগিতার কথা জানা যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে তিনি সহায়তা করেছেন।

জিয়া বিন রাসেল ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর অন্যতম অভিভাবক ও সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত প্রচার নয়; বরং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করা।

রাউজান থেকে লন্ডন, জিয়া বিন রাসেলের জীবনযাত্রায় ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। একটি পুরোনো মদের বারকে মসজিদে রূপান্তর থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর কর্মসংস্থান, দ্বীনি শিক্ষা, দুর্যোগে ত্রাণ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

মদের বার থেকে মসজিদ, লন্ডনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর ভিন্নধর্মী উদ্যোগে বদলে গেল ভবন

প্রকাশঃ ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:৩৯

লন্ডন, ২৫ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – পূর্ব লন্ডনের একটি ভবনে একসময় চলত মদ্যপান ও আড্ডা। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন সেখানে শোনা যায় আজান ও কুরআন তিলাওয়াত। নামাজের সময় কাতারবদ্ধ হয়ে সালাত আদায় করেন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি। ভবনটিকে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন লন্ডনপ্রবাসী ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান জিয়া বিন রাসেল।

ভবনটি কিনে সেখানে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে ধর্মীয় উপাসনালয় ও কমিউনিটি কার্যক্রমের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।

তবে জিয়া বিন রাসেলের কর্মকাণ্ড একটি ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর সহযোগিতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য এককালীন খাদ্য সহায়তা ও হুইলচেয়ার বিতরণের পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাভারের নবীনগরে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে জিয়া বিন রাসেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অসহায় নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতেও বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন আয়মুখী উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের নিজেদের ও পরিবারের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর সহযোগিতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকার মক্তব ও মাদ্রাসায় অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর অর্থায়নে একাধিক শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশের বাইরে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের কাছেও তাঁর সহায়তা পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনের গাজা ও সুদানে সংকটে থাকা মানুষের জন্য রান্না করা খাবার, রুটি, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হয়েছে।

দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সহযোগিতার কথা জানা যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে তিনি সহায়তা করেছেন।

জিয়া বিন রাসেল ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর অন্যতম অভিভাবক ও সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত প্রচার নয়; বরং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করা।

রাউজান থেকে লন্ডন, জিয়া বিন রাসেলের জীবনযাত্রায় ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। একটি পুরোনো মদের বারকে মসজিদে রূপান্তর থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর কর্মসংস্থান, দ্বীনি শিক্ষা, দুর্যোগে ত্রাণ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে।