ঢাকা ০৭:২২ , Mon, ৩১ Aug ২০২৬
যুক্তরাজ্যে
লন্ডন

সাদিক খানকে চ্যালেঞ্জ, লন্ডনের মেয়র পদে লড়তে ছায়া মন্ত্রিসভা ছাড়লেন জেমস ক্লেভারলি

ফাহিম আহমেদ
  • প্রকাশঃ ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৪৭
  • / 11
২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা স্যার জেমস ক্লেভারলি ছবি: প্রজন্ম কথা

লন্ডন, ৩০ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য স্যার জেমস ক্লেভারলি ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রায় দুই বছর আগে তার এই সিদ্ধান্তে লন্ডনের মেয়র নির্বাচন ঘিরে কনজারভেটিভ দলের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

ক্লেভারলি কনজারভেটিভ দলের ছায়া আবাসন, সম্প্রদায় ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় নেতা কেমি ব্যাডেনককে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি পদটি ছেড়ে দেন। ক্লেভারলির ভাষ্য, লন্ডনের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার জন্য ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে ক্লেভারলি বলেন, লন্ডনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা শহরের সম্ভাবনা বোঝেন এবং এর ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি লন্ডনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তি পুনর্গঠন এবং শহরটিকে বসবাস, কাজ, বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থানে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বর্তমান মেয়র স্যার সাদিক খানের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন ক্লেভারলি। তার অভিযোগ, লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের শাসনে লন্ডন হতাশ হয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা হয়নি। সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং উদ্যোক্তাদের ওপর ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিরও সমালোচনা করেছেন ক্লেভারলি। তার অভিযোগ, সরকার লন্ডনকে মূলত কর আদায় ও নিয়ন্ত্রণের উৎস হিসেবে দেখছে। রাজধানীর অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পুরো দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পরিবর্তে লন্ডনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ক্লেভারলির ঘোষণা এখনো কনজারভেটিভ দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন নয়। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং লন্ডনের রাজনীতিতে তার পূর্ববর্তী ভূমিকার কারণে অবশ্য তাকে দলের সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কেমি ব্যাডেনক ক্লেভারলিকে ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে হারাতে চাননি। তবে লন্ডন মেয়র নির্বাচনে তার মতো অভিজ্ঞ ও পরিচিত রাজনীতিককে প্রার্থী হিসেবে পাওয়া কনজারভেটিভ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্লেভারলির পদত্যাগের পর ছায়া মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে হবে ব্যাডেনককে।

ক্লেভারলি কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালে ব্রেইনট্রি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে লন্ডন পরিষদেও কনজারভেটিভ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

২০২৪ সালে কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ক্লেভারলি। শেষ পর্যন্ত কেমি ব্যাডেনকের কাছে পরাজিত হন তিনি। এবার তার লক্ষ্য দলীয় নেতৃত্বের পরিবর্তে লন্ডনের মেয়র পদে জয়ী হয়ে রাজধানীতে কনজারভেটিভ দলের অবস্থান শক্তিশালী করা।

২০২৪ সালের সর্বশেষ মেয়র নির্বাচনে সাদিক খান কনজারভেটিভ প্রার্থী সুসান হলকে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি মোট ভোটের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ পান এবং লন্ডনের ১৪টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ৯টিতে জয়ী হন। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এদিকে কনজারভেটিভ দলের পাশাপাশি রিফর্ম ইউকেও ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি জানুয়ারিতে ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর লায়লা কানিংহামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে আগামী নির্বাচন লেবার ও কনজারভেটিভ দলের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে।

ক্লেভারলির ঘোষণার পর রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ কনজারভেটিভদের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ক্লেভারলি এসেক্সে নিজের সংসদীয় আসন ধরে রাখার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ক্লেভারলি এখনো সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

লন্ডনে লেবার দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচন কনজারভেটিভ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে। রাজধানীতে দলটির অবস্থান পুনরুদ্ধারে ক্লেভারলির প্রার্থিতা কতটা কার্যকর হয়, তা নির্বাচনী প্রচারণা এগোনোর সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

❤️
👏
🙂
😞

সাদিক খানকে চ্যালেঞ্জ, লন্ডনের মেয়র পদে লড়তে ছায়া মন্ত্রিসভা ছাড়লেন জেমস ক্লেভারলি

প্রকাশঃ ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৪৭

লন্ডন, ৩০ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য স্যার জেমস ক্লেভারলি ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রায় দুই বছর আগে তার এই সিদ্ধান্তে লন্ডনের মেয়র নির্বাচন ঘিরে কনজারভেটিভ দলের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

ক্লেভারলি কনজারভেটিভ দলের ছায়া আবাসন, সম্প্রদায় ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় নেতা কেমি ব্যাডেনককে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি পদটি ছেড়ে দেন। ক্লেভারলির ভাষ্য, লন্ডনের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার জন্য ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে ক্লেভারলি বলেন, লন্ডনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা শহরের সম্ভাবনা বোঝেন এবং এর ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি লন্ডনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তি পুনর্গঠন এবং শহরটিকে বসবাস, কাজ, বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থানে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বর্তমান মেয়র স্যার সাদিক খানের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন ক্লেভারলি। তার অভিযোগ, লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের শাসনে লন্ডন হতাশ হয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা হয়নি। সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং উদ্যোক্তাদের ওপর ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিরও সমালোচনা করেছেন ক্লেভারলি। তার অভিযোগ, সরকার লন্ডনকে মূলত কর আদায় ও নিয়ন্ত্রণের উৎস হিসেবে দেখছে। রাজধানীর অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পুরো দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পরিবর্তে লন্ডনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ক্লেভারলির ঘোষণা এখনো কনজারভেটিভ দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন নয়। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং লন্ডনের রাজনীতিতে তার পূর্ববর্তী ভূমিকার কারণে অবশ্য তাকে দলের সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কেমি ব্যাডেনক ক্লেভারলিকে ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে হারাতে চাননি। তবে লন্ডন মেয়র নির্বাচনে তার মতো অভিজ্ঞ ও পরিচিত রাজনীতিককে প্রার্থী হিসেবে পাওয়া কনজারভেটিভ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্লেভারলির পদত্যাগের পর ছায়া মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে হবে ব্যাডেনককে।

ক্লেভারলি কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালে ব্রেইনট্রি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে লন্ডন পরিষদেও কনজারভেটিভ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

২০২৪ সালে কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ক্লেভারলি। শেষ পর্যন্ত কেমি ব্যাডেনকের কাছে পরাজিত হন তিনি। এবার তার লক্ষ্য দলীয় নেতৃত্বের পরিবর্তে লন্ডনের মেয়র পদে জয়ী হয়ে রাজধানীতে কনজারভেটিভ দলের অবস্থান শক্তিশালী করা।

২০২৪ সালের সর্বশেষ মেয়র নির্বাচনে সাদিক খান কনজারভেটিভ প্রার্থী সুসান হলকে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি মোট ভোটের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ পান এবং লন্ডনের ১৪টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ৯টিতে জয়ী হন। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এদিকে কনজারভেটিভ দলের পাশাপাশি রিফর্ম ইউকেও ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি জানুয়ারিতে ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর লায়লা কানিংহামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে আগামী নির্বাচন লেবার ও কনজারভেটিভ দলের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে।

ক্লেভারলির ঘোষণার পর রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ কনজারভেটিভদের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ক্লেভারলি এসেক্সে নিজের সংসদীয় আসন ধরে রাখার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ক্লেভারলি এখনো সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

লন্ডনে লেবার দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচন কনজারভেটিভ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে। রাজধানীতে দলটির অবস্থান পুনরুদ্ধারে ক্লেভারলির প্রার্থিতা কতটা কার্যকর হয়, তা নির্বাচনী প্রচারণা এগোনোর সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।