যুক্তরাজ্যের নতুন ভ্রমণ নিয়মে বিপাকে দ্বৈত নাগরিকরা, ইতালিতে সন্তানকে রেখে একাই ফিরলেন মা
- প্রকাশঃ ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:২৯
- / 9
লন্ডন, ৩০ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নথির নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বিদেশে থাকা অনেক পরিবারের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকার প্রমাণকারী ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ সঙ্গে রাখা প্রয়োজন হচ্ছে।
নতুন নিয়মের কারণে ইতালিতে একটি পরিবারকে ১২ দিন আটকে থাকতে হয়েছে। ইতালীয় নাগরিক মারিকা ভেরোকা চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে ইতালি থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় বিমানযাত্রায় বাধার মুখে পড়েন। শিশুটির কাছে শুধু ইতালীয় পাসপোর্ট থাকায় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভেরোকাকে তার সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ইতালিতে রেখে একাই যুক্তরাজ্যে ফিরতে হয়। পরে প্রয়োজনীয় জরুরি নথিপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারটি আরও ১২ দিন ইতালিতে আটকে ছিল।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ভ্রমণের আগে তাদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বা যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অধিকার প্রমাণ করতে হচ্ছে। ব্রিটিশ নাগরিকরা সাধারণভাবে ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমতিপত্রের আওতাভুক্ত নন। তবে অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে ফিরতে চাইলে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের উপযুক্ত প্রমাণ থাকতে হবে।
এর আগে অনেক দ্বৈত নাগরিক, বিশেষ করে যাদের দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্ট দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে ভিসার প্রয়োজন হতো না, তারা বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করতেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই পদ্ধতি আর আগের মতো সহজ থাকছে না।
সবচেয়ে সহজ ব্যবস্থা হলো বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করা। ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকলে বিদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে এই সনদ ডিজিটাল পদ্ধতিতেও দেওয়া হচ্ছে এবং এটি যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অধিকার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে এই বিকল্প ব্যবস্থার খরচও কম নয়। ব্রিটিশ সংসদের গবেষণা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’-এর জন্য ৫৮৯ পাউন্ড ফি দিতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় সময়ও লাগতে পারে।
নতুন নিয়মে দ্বৈত নাগরিক পরিবারের শিশুদের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো শিশু ব্রিটিশ নাগরিক হলে তারও যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্রিটিশ ভ্রমণ নথি বা উপযুক্ত ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ আগে থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় দ্বৈত নাগরিকদের সন্তানদের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় নথির জন্য আগাম আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিদেশে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সন্তানের ভ্রমণ নথি আগে থেকে প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নিয়মের কারণে বিমান সংস্থাগুলোর দায়িত্বও বেড়েছে। যাত্রী বিমানে ওঠার আগেই প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি যাচাই করতে হয়। কোনো দ্বৈত নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বা যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অধিকার প্রমাণ করতে না পারলে বিমান সংস্থা তাকে বিমানে উঠতে না-ও দিতে পারে।
এর ফলে বিদেশে থাকা পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া হঠাৎ ভ্রমণ সংকটে পড়তে পারে। ফ্লাইট বাতিল বা পুনরায় বুকিং, জরুরি নথি সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত থাকা-খাওয়ার খরচের কারণে আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে।
কিছু পরিস্থিতিতে পরিবহন সংস্থাগুলোকে বিকল্প নথি গ্রহণের বিষয়ে সীমিত বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংসদের গবেষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ১৯৮৯ সালের পর ইস্যু করা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্টের সঙ্গে বৈধ বিদেশি পাসপোর্ট থাকলে কোনো পরিবহন সংস্থা নিজস্ব বিবেচনায় যাত্রীকে বিমানে উঠতে দিতে পারে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। তাই এর ওপর নির্ভর করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা নিরাপদ নয়।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষ্পত্তি প্রকল্পের আওতায় ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু ব্যক্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের যুক্তরাজ্যের ভিসা-অবস্থা বৈধভাবে যুক্ত থাকলে বিদেশি পাসপোর্ট বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভ্রমণের সুযোগ থাকতে পারে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, দ্বৈত নাগরিকদের বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ নিয়ে ভ্রমণের বিষয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল। তবে ব্রিটিশ সংসদের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দ্বৈত নাগরিক ২০২৬ সালের শুরুতে বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার আগে নতুন নিয়ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
ইতালিতে আটকে পড়া পরিবারের ঘটনাটি তাই বিদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। যুক্তরাজ্যে ফেরার আগে বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের শিশুদের নথিও আগেই যাচাই করে নেওয়া জরুরি।





























