ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি থেকে হার্ভার্ডে পিএইচডি, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান
- প্রকাশঃ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৫
- / 4
নিউইয়র্ক, ০৯ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়া থেকে শুরু। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে যোগদান, জাতিসংঘে দীর্ঘ কর্মজীবন এবং দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দায়িত্ব। দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় মঞ্চ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান।
২ জুন ২০২৬, নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তর। ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকুরিস। গোপন ব্যালটে ১৯০টি ভোট পড়ে। খলিলুর রহমান পান ৯৯ ভোট, আর কাকুরিস পান ৯১ ভোট। এর মধ্য দিয়ে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের এই কূটনীতিক। ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে তাঁর এক বছরের দায়িত্বকাল, যা চলবে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
খলিলুর রহমানের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের শিক্ষা ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ সরকারের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে তিনি আইন ও কূটনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তবে তাঁর পথচলা একাডেমিক জগতেই থেমে থাকেনি। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯১ সালে জাতিসংঘের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তী প্রায় ২৫ বছর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেন তিনি।
জাতিসংঘে তাঁর কাজের ক্ষেত্রও ছিল বিস্তৃত। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের ধারাবাহিক একটি বড় দায়িত্ব হিসেবেই এসেছে। জাতিসংঘের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জাতিসংঘের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ৩০ বছরের বেশি এবং তিনি সাধারণ পরিষদের ১৬টি অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশের জন্য এই দায়িত্বের ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
৮১তম অধিবেশনের জন্য খলিলুর রহমানের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য, ‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তনকে পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। তাঁর ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন, জাতিসংঘ সংস্কার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি, জলবায়ু ও উন্নয়ন ইস্যু এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। একই সঙ্গে অধিবেশন চলাকালে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়াও সামনে থাকবে।
একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়া একজন শিক্ষার্থী থেকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিস, সেখান থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসন। খলিলুর রহমানের দীর্ঘ পথচলায় শিক্ষা, কূটনীতি ও বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই ৮১তম সাধারণ পরিষদের এক বছরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের এই কূটনীতিক।




























