সাংবাদিকতা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্বব্যাংক হয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নেতৃত্বে খালেদ মুহিউদ্দীন
- প্রকাশঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৭
- / 10
সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বাংলা বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী খালেদ মুহিউদ্দীন। পেশাজীবনে একাধিক ভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনার মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত যাত্রার ভিত্তি তৈরি হয়। পরে একই বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
কর্মজীবনের শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে। দৈনিক প্রথম আলোতে কাজ করার সময় নগর, আইন-আদালত ও খনিজ সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকতা করেন খালেদ মুহিউদ্দীন। পরে বিডিনিউজ২৪ ডটকমে সংবাদ সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
তবে সাংবাদিকতার পথেই তাঁর পেশাজীবন থেমে থাকেনি। ২০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনের এই অভিজ্ঞতার পর আবার সাংবাদিকতায় ফিরে আসেন।
নিজের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খালেদ মুহিউদ্দীন জানিয়েছেন, প্রশাসনের চাকরির অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
কর্মজীবনে আরেকটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা আসে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে। নিজের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অল্প সময়ের জন্য বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
টেলিভিশন সাংবাদিকতায়ও পরিচিতি পান তিনি। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখি ও শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খালেদ মুহিউদ্দীন। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক বই লেখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
২০১৯ সালে তাঁর কর্মজীবনে যুক্ত হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। বাংলা ভাষার সংবাদ ও বিশ্লেষণকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার কাজেও যুক্ত হন এ সময়।
২০২৪ সালে ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
খালেদ মুহিউদ্দীনের কর্মজীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাঁর পেশাগত বৈচিত্র্য। সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু করে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা, শিক্ষকতা ও লেখালেখি থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বাংলা বিভাগের নেতৃত্ব, বিভিন্ন সময়ে এসব ভূমিকায় কাজ করেছেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ পথচলা তাই একজন সাংবাদিকের প্রচলিত ক্যারিয়ারপথের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতাকে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছেন খালেদ মুহিউদ্দীন।




























