ঢাকা ১০:৫৫ , Fri, ১৬ Oct ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে জার্মানি, বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রিক বিমানের কারিগর, ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের দেবযানী!

মাহিম ইসলাম
  • প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৯
  • / 4
হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারির সমন্বয়ে পরিচালিত এইচওয়াই৪ বিমান পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – জেট জ্বালানির পরিবর্তে হাইড্রোজেন ও ব্যাটারির শক্তিতে বিমান চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের প্রকৌশলী দেবযানী ঘোষ। জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, শক্তি রূপান্তর ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের সম্ভাবনা তৈরিতে এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দেবযানীর শিক্ষাজীবন শুরু চট্টগ্রামের অপর্ণাচরণ স্কুলে। পরে তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পড়াশোনা করেন। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য পাড়ি জমান জার্মানিতে। সেখানে আরডব্লিউটিএইচ আচেন ও উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করেন বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে।

হাইড্রোজেনচালিত বিমানের নতুন অধ্যায়

২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে প্রথমবারের মতো উড্ডয়ন করে এইচওয়াই৪ নামের চার আসনের একটি বিমান। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারির সমন্বয়ে পরিচালিত এই বিমানকে চার আসনের যাত্রীবাহী হাইড্রোজেন-চালিত বৈদ্যুতিক বিমানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিল জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার, উলম বিশ্ববিদ্যালয় ও এইচটু-ফ্লাইসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেন থেকে জ্বালানি কোষের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। সেই বিদ্যুৎ বৈদ্যুতিক মোটর চালাতে ব্যবহৃত হয়। জ্বালানি কোষে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় পানি তৈরি হয়; তবে পুরো বিমানব্যবস্থার পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করে হাইড্রোজেন উৎপাদন ও সরবরাহের পদ্ধতির ওপর।

বিমানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা

বিমানের মোটর চালানোর জন্য সব সময় সমান পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় না। উড্ডয়নের সময় বেশি শক্তি লাগে, আর আকাশে স্থিতিশীলভাবে চলার সময় শক্তির চাহিদা তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই জ্বালানি কোষ, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মোটরের মধ্যে শক্তির প্রবাহ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে দেবযানী শূন্য-নিঃসরণভিত্তিক হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের ডিসি-এসি রূপান্তরক ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বিদ্যুৎ রূপান্তর এবং বিমানের বিভিন্ন শক্তি-উৎসের মধ্যে সমন্বয়। এ বিষয়ে ২০১৮ সালে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতেও তাঁর কাজ প্রকাশিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহজভাবে বললে, বিমানের বিভিন্ন অংশে কখন কতটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি উন্নয়নে তাঁর গবেষণা ভূমিকা রেখেছে।

পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বিমান চলাচলে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কার্বন নিঃসরণের অন্যতম উৎস। হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে বিকল্প সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে ছোট পরীক্ষামূলক বিমান থেকে বড় বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানে এই প্রযুক্তি বিস্তারের পথে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা।

এইচওয়াই৪ প্রকল্প দেখিয়েছে, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারির সমন্বয়ে যাত্রীবাহী বিমান চালানো সম্ভব। তবে এ প্রযুক্তি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য আরও গবেষণা, পরীক্ষা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

দেবযানী ঘোষের শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথ বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। চট্টগ্রামে প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত গবেষণায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উদ্ভাবনী উদ্যোগে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

চট্টগ্রাম থেকে জার্মানি, বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রিক বিমানের কারিগর, ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের দেবযানী!

প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৯

ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – জেট জ্বালানির পরিবর্তে হাইড্রোজেন ও ব্যাটারির শক্তিতে বিমান চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের প্রকৌশলী দেবযানী ঘোষ। জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, শক্তি রূপান্তর ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের সম্ভাবনা তৈরিতে এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দেবযানীর শিক্ষাজীবন শুরু চট্টগ্রামের অপর্ণাচরণ স্কুলে। পরে তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পড়াশোনা করেন। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য পাড়ি জমান জার্মানিতে। সেখানে আরডব্লিউটিএইচ আচেন ও উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করেন বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে।

হাইড্রোজেনচালিত বিমানের নতুন অধ্যায়

২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে প্রথমবারের মতো উড্ডয়ন করে এইচওয়াই৪ নামের চার আসনের একটি বিমান। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারির সমন্বয়ে পরিচালিত এই বিমানকে চার আসনের যাত্রীবাহী হাইড্রোজেন-চালিত বৈদ্যুতিক বিমানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিল জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার, উলম বিশ্ববিদ্যালয় ও এইচটু-ফ্লাইসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেন থেকে জ্বালানি কোষের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। সেই বিদ্যুৎ বৈদ্যুতিক মোটর চালাতে ব্যবহৃত হয়। জ্বালানি কোষে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় পানি তৈরি হয়; তবে পুরো বিমানব্যবস্থার পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করে হাইড্রোজেন উৎপাদন ও সরবরাহের পদ্ধতির ওপর।

বিমানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় গবেষণা

বিমানের মোটর চালানোর জন্য সব সময় সমান পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় না। উড্ডয়নের সময় বেশি শক্তি লাগে, আর আকাশে স্থিতিশীলভাবে চলার সময় শক্তির চাহিদা তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই জ্বালানি কোষ, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মোটরের মধ্যে শক্তির প্রবাহ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে দেবযানী শূন্য-নিঃসরণভিত্তিক হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের ডিসি-এসি রূপান্তরক ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বিদ্যুৎ রূপান্তর এবং বিমানের বিভিন্ন শক্তি-উৎসের মধ্যে সমন্বয়। এ বিষয়ে ২০১৮ সালে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতেও তাঁর কাজ প্রকাশিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহজভাবে বললে, বিমানের বিভিন্ন অংশে কখন কতটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি উন্নয়নে তাঁর গবেষণা ভূমিকা রেখেছে।

পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বিমান চলাচলে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কার্বন নিঃসরণের অন্যতম উৎস। হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে বিকল্প সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে ছোট পরীক্ষামূলক বিমান থেকে বড় বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানে এই প্রযুক্তি বিস্তারের পথে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা।

এইচওয়াই৪ প্রকল্প দেখিয়েছে, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারির সমন্বয়ে যাত্রীবাহী বিমান চালানো সম্ভব। তবে এ প্রযুক্তি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য আরও গবেষণা, পরীক্ষা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

দেবযানী ঘোষের শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথ বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। চট্টগ্রামে প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত গবেষণায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উদ্ভাবনী উদ্যোগে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।