ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে ঘিরে টানাপোড়েন, নতুন রাজনৈতিক জোটের ইঙ্গিত ইসলামী আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:১৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 59

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোটগত আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য সংশয় জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ঘোষিত সময়ের মধ্যে আসন বণ্টন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় নতুন জোট গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরেন মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়ার তৈরি ঐক্যের পাটাতন মেরামতের যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এতে প্রশ্ন উঠছে—জামায়াতে ইসলামী কি ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মতো একটি ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আজ বিকেলে ওই জোটের ১১ দলের চূড়ান্ত আসন তালিকা ঘোষণার জন্য সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, আসন সমঝোতায় মতৈক্য না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানালেও জামায়াতে ইসলামী ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়-এ নিয়েই মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে-এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন মেনে নেবে, এমন রাজনীতি আমরা কখনো করিনি। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের পরিবেশ থাকলে আসন কমবেশি নিয়ে সমস্যা হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, জোটের শরিক হয়েও কোনো কোনো দল তিনশ আসনেই নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রচার চালাচ্ছে, যা সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ধরনের মিথ্যাচার হলে সামনে একসঙ্গে পথচলা কঠিন হয়ে যাবে, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমন আশা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে মজলিসে আমেলার বৈঠকও হয়েছে।

নতুন জোট বা এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, বলেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোট যে চূড়ান্ত নয়, সে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগপর্যন্ত যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

জামায়াতকে ঘিরে টানাপোড়েন, নতুন রাজনৈতিক জোটের ইঙ্গিত ইসলামী আন্দোলনের

প্রকাশঃ ০৯:১৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোটগত আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য সংশয় জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ঘোষিত সময়ের মধ্যে আসন বণ্টন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় নতুন জোট গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরেন মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়ার তৈরি ঐক্যের পাটাতন মেরামতের যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এতে প্রশ্ন উঠছে—জামায়াতে ইসলামী কি ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মতো একটি ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আজ বিকেলে ওই জোটের ১১ দলের চূড়ান্ত আসন তালিকা ঘোষণার জন্য সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, আসন সমঝোতায় মতৈক্য না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানালেও জামায়াতে ইসলামী ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়-এ নিয়েই মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে-এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন মেনে নেবে, এমন রাজনীতি আমরা কখনো করিনি। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের পরিবেশ থাকলে আসন কমবেশি নিয়ে সমস্যা হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, জোটের শরিক হয়েও কোনো কোনো দল তিনশ আসনেই নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রচার চালাচ্ছে, যা সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ধরনের মিথ্যাচার হলে সামনে একসঙ্গে পথচলা কঠিন হয়ে যাবে, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমন আশা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে মজলিসে আমেলার বৈঠকও হয়েছে।

নতুন জোট বা এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, বলেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোট যে চূড়ান্ত নয়, সে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগপর্যন্ত যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”