ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি সরকার গঠন করলে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আলাদা বিভাগ গঠন হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৪:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 51

বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা একটি বিভাগ গঠন করা হবে, যদি দলটি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যারা লড়েছেন, তাঁরা একই ধারার যোদ্ধা। তিনি আরও বলেন, যাঁরা আমাদের ছেড়ে গেছেন, তাঁদের আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি না। তবে যারা পেছনে রয়ে গেছেন, তাঁদের পরিবারের সুবিধা-অসুবিধা রাষ্ট্রকে দেখভাল করতে হবে। কারণ, আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা, আপনারাও যোদ্ধা।

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের স্বাধীনতা রক্ষার ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ৭১-এ, আর সেই স্বাধীনতাকেই রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভয়াবহ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, একমাত্র জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১,৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩,০০০ মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকের এক বা দুই চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। তিনি বলেন, যেভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তা এক কথায় গণহত্যা।

তিনি ১৯ আগস্ট ২০২৪ সালের নিজের বক্তব্যের কথাও স্মরণ করান। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, স্কুল ছাত্র, আইনজীবী, রাজমিস্ত্রি, দোকানের কর্মচারী, গাড়িচালক, দিনমজুর—সহ সকল শ্রেণিপেশার শহীদদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। এমনকি ছয় বছরের শিশু রিওও সেই গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ দল-মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে রাজপথে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনের চেতনাকে সংহত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কষ্ট কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার বাস্তবায়ন করা হলো আমাদের দায়িত্ব পালন।

তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও এভাবেই শোকগাঁথা ও শোকসমাবেশ চলতে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

বিএনপি সরকার গঠন করলে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আলাদা বিভাগ গঠন হবে: তারেক রহমান

প্রকাশঃ ০৪:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা একটি বিভাগ গঠন করা হবে, যদি দলটি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যারা লড়েছেন, তাঁরা একই ধারার যোদ্ধা। তিনি আরও বলেন, যাঁরা আমাদের ছেড়ে গেছেন, তাঁদের আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি না। তবে যারা পেছনে রয়ে গেছেন, তাঁদের পরিবারের সুবিধা-অসুবিধা রাষ্ট্রকে দেখভাল করতে হবে। কারণ, আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা, আপনারাও যোদ্ধা।

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের স্বাধীনতা রক্ষার ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ৭১-এ, আর সেই স্বাধীনতাকেই রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভয়াবহ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, একমাত্র জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১,৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩,০০০ মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকের এক বা দুই চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। তিনি বলেন, যেভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তা এক কথায় গণহত্যা।

তিনি ১৯ আগস্ট ২০২৪ সালের নিজের বক্তব্যের কথাও স্মরণ করান। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, স্কুল ছাত্র, আইনজীবী, রাজমিস্ত্রি, দোকানের কর্মচারী, গাড়িচালক, দিনমজুর—সহ সকল শ্রেণিপেশার শহীদদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। এমনকি ছয় বছরের শিশু রিওও সেই গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ দল-মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে রাজপথে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনের চেতনাকে সংহত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কষ্ট কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার বাস্তবায়ন করা হলো আমাদের দায়িত্ব পালন।

তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও এভাবেই শোকগাঁথা ও শোকসমাবেশ চলতে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”