বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে পোল্যান্ডের এলপিপি
- প্রকাশঃ ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:২৯
- / 7
ঢাকা, ১০ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার ১২ দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানিয়েছেন, আলোচনার পর প্রতিষ্ঠানটি আগের মতোই বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এলপিপি ও সংগঠনটির মধ্যে এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি বলেন, এলপিপি বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাবে।
তবে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পাওনা অর্থ আদায়ে সহায়তা করার বিষয়েও এলপিপি সম্মত হয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা রাশিয়ার ওই প্রতিষ্ঠানে যে পণ্য পাঠিয়েছেন, সেসব রপ্তানির অর্থ তারা যাতে পান, সে বিষয়ে এলপিপি সহযোগিতা করবে।
বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের প্রায় ৪ কোটি ডলার পাওনা নিয়ে বিরোধের মধ্যেই এলপিপির ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এসেছিল। রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, রাশিয়ার এফইএস রিটেইলের কাছে পাঠানো পণ্যের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে তারা পাচ্ছেন না। প্রায় ৪০টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এ অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের দাবি, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রপ্তানি চুক্তি এলপিপির ঢাকার কার্যালয়ের মাধ্যমে করা হয়েছিল। পাওনা আদায়ে কয়েকজন রপ্তানিকারক আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পর এলপিপির ঢাকার কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায় বলেও জানা গেছে।
এরপর গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয় এলপিপি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাতে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিজিএমইএর সঙ্গে আলোচনার পর প্রতিষ্ঠানটি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এলপিপির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিসরও বড়। প্রায় ৭৭২টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এলপিপিকে পণ্য সরবরাহ করে। এসব সরবরাহের বার্ষিক মূল্য ৭০ কোটি ডলারের বেশি বলে জানানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলপিপি বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং রাশিয়ায় রপ্তানি করা পণ্যের পাওনা অর্থ আদায়ের বিষয়েও সহযোগিতা করবে।





























