রংপুরে পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষোভে মধ্যরাতে মহাসড়ক অবরোধ
- প্রকাশঃ ০১:০১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 62
রংপুরে পুলিশ হেফাজতে এক আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ওই ব্যক্তি মারা যান এবং পুলিশ তাঁর লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রেখে চলে যায়।
নিহত ব্যক্তির নাম মুকুল মিয়া (৪৫)। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তাঁর বাড়ি রংপুর নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধাপ চিকলী ভাটা এলাকায়।
ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও স্বজনরা দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মুকুল মিয়ার লাশ নিয়ে নগরের শহীদ মুখতার এলাহী চত্বরে অবস্থান নেন এবং ঢাকা–দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, পরশুরাম থানায় গাড়িসংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাঁদের বাসায় গিয়ে মুকুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের প্রায় ১০ মিনিট পর প্রতিবেশী ওয়ার্ডবয় মাহিন ফোন করে জানান, তাঁর স্বামীর লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পড়ে আছে।
নিহতের মেয়ে মুতমাইনা তূর্যা অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা তাঁর বাবার লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
মুকুল মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে জড়ো হন। পরে তাঁরা লাশ নিয়ে শহীদ মুখতার এলাহী চত্বরে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিতে চাইছে। মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করতে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।’
এএসআই মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে ওসি শাহজালাল আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
আজ সকাল ১০টার দিকে কোতোয়ালি থানার সামনে নিহতের স্ত্রী, মেয়ে ও অন্যান্য স্বজনদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। লাভলী বেগম বলেন, ‘পুলিশ আমাদের আজ ১০টার সময় ডাকছে। কিন্তু আমি আমার স্বামীর ময়নাতদন্ত করাতে চাই না। আল্লাহর ওপর বিচার ছেড়ে দিলাম।’
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।






























