ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণহত্যা মামলা: হাসিনা ও কামালের সাজা বাড়াতে আট গ্রাউন্ডে আপিল প্রসিকিউশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 56

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে আপিলটি দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত যেকোনো রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ সময়সীমার আগেই আপিল করেছে।

প্রসিকিউশনের করা আপিলে মোট আটটি গ্রাউন্ড উত্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩–এ শাস্তির প্রথমেই মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় সব অভিযোগেই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রযোজ্য।

আপিলের গ্রাউন্ডগুলোতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধগুলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিষ্ঠুরতম অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। নিরস্ত্র ও নিরীহ জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, যার ভয়াবহতা বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি আইনসঙ্গত নয়।

প্রসিকিউশন আরও যুক্তি দেয়, এ ধরনের অপরাধে শুধু আসামিদের অধিকার নয়, বরং ভুক্তভোগী ও সমাজের যৌক্তিক প্রত্যাশাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তিই কার্যকর বার্তা দিতে পারে।

আপিলে বলা হয়, মামলার কার্যক্রম ও আপিলের সময়সীমা সম্পর্কে জানার পরও আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের আচরণের কারণে শাস্তি লঘু করার কোনো সুযোগ নেই।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, আসামিদের সরাসরি নির্দেশে সারা দেশে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়, যাতে ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রদূত আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডেও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, গত ১৭ নভেম্বর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তরের দাবিতেই এই আপিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপিল বিভাগের বিধান অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই আপিলের শুনানি ও রায় সম্পন্ন হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

জুলাই গণহত্যা মামলা: হাসিনা ও কামালের সাজা বাড়াতে আট গ্রাউন্ডে আপিল প্রসিকিউশনের

প্রকাশঃ ০৩:১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে আপিলটি দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত যেকোনো রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ সময়সীমার আগেই আপিল করেছে।

প্রসিকিউশনের করা আপিলে মোট আটটি গ্রাউন্ড উত্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩–এ শাস্তির প্রথমেই মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় সব অভিযোগেই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রযোজ্য।

আপিলের গ্রাউন্ডগুলোতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধগুলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিষ্ঠুরতম অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। নিরস্ত্র ও নিরীহ জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, যার ভয়াবহতা বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি আইনসঙ্গত নয়।

প্রসিকিউশন আরও যুক্তি দেয়, এ ধরনের অপরাধে শুধু আসামিদের অধিকার নয়, বরং ভুক্তভোগী ও সমাজের যৌক্তিক প্রত্যাশাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তিই কার্যকর বার্তা দিতে পারে।

আপিলে বলা হয়, মামলার কার্যক্রম ও আপিলের সময়সীমা সম্পর্কে জানার পরও আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের আচরণের কারণে শাস্তি লঘু করার কোনো সুযোগ নেই।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, আসামিদের সরাসরি নির্দেশে সারা দেশে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়, যাতে ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রদূত আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডেও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, গত ১৭ নভেম্বর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তরের দাবিতেই এই আপিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপিল বিভাগের বিধান অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই আপিলের শুনানি ও রায় সম্পন্ন হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”