হাদি হত্যা মামলা: অপরাধ স্বীকার করলেন ফয়সালের স্ত্রী-শ্যালকসহ ৩ জন
- প্রকাশঃ ০১:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 50
ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই তিন আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, প্রধান আসামি ফয়সালকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম রাজুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে রাজুর জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসামি রাজু ঘটনার দিন বিকেলে ফিলিপ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ফয়সালকে সীমান্ত এলাকা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এবং আত্মগোপনকারীদের অর্থায়নের সাথে রাজু সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন শুনানিতে জানান, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। শুরুতে এটি হত্যাচেষ্টা মামলা থাকলেও পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মৃত্যুতে ৩০২ ধারা (হত্যা মামলা) যুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন: ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম (ইতিপূর্বেই তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন)। স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। সহযোগিতাকারী রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল এবং মো. কবির।
মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের দেশত্যাগের ওপর আদালত ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধৃত আসামিদের জবানবন্দি থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।






























