ঢাকা ১২:০৭ , Thu, ১৭ Sep ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে ইউটিউব ব্যবহারে কড়াকড়ি, স্ক্রিন টাইম কমাতে নতুন প্রস্তাব

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১
  • / 9
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে স্কুল-প্রদত্ত ক্রোমবুক ও আইপ্যাডে ইউটিউবের সাধারণ প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্কুল-প্রদত্ত ক্রোমবুক ও আইপ্যাডে ইউটিউবের সাধারণ প্রবেশাধিকার ইতোমধ্যে সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানো, শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার পুনর্বিবেচনা এবং কিছু ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে শেখানোর পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে।

১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এক শুনানিতে স্কুলে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এসব আলোচনা হয়। কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণান ও এরিক ডিনোভিৎস শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের পরিমাণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইউটিউবের পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস, শিক্ষামূলক অ্যাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হয়।

শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা স্কট স্ট্রিকল্যান্ড শুনানিতে জানান, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলের দেওয়া ক্রোমবুক ও আইপ্যাডে শিক্ষার্থীদের ইউটিউব ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা কার্যকর করা হয়েছে।

তবে শিক্ষামূলক প্রয়োজনে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষকরা গুগল ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠের অংশ হিসেবে যেসব ভিডিও শিক্ষার্থীদের দেন, সেগুলো দেখার সুযোগ থাকবে।

তাই নিউইয়র্ক সিটির সব স্কুলে ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। বর্তমানে মূল পরিবর্তন হলো স্কুল-প্রদত্ত ডিভাইসে ইউটিউবের সাধারণ প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য সুযোগ রাখা।

সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও পরিবর্তনের প্রস্তাবও উঠে এসেছে। এর মধ্যে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের হাতে আলাদা ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার ব্যবস্থা কমানো, কিছু গেমভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজে-কলমে শেখানো ও পরীক্ষা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

কাউন্সিল সদস্যদের আলোচনায় প্রশ্ন ওঠে, শিক্ষার্থীদের হাতে বেশি প্রযুক্তি থাকলেই শিক্ষার ফলাফল উন্নত হয় কি না। একই সঙ্গে স্ক্রিন টাইম, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি ও তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগ প্রযুক্তির সব ব্যবহার বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নেয়নি। শুনানিতে প্রথম ডেপুটি চ্যান্সেলর ড্যানিয়েল জিউন্টা বলেন, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহার হলে সেটি উদ্দেশ্যপূর্ণ ও সক্রিয় শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের কেবল একটি ডিভাইসের সামনে বসিয়ে রাখার ব্যবস্থা তারা চান না।

এর ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করা নয়, বরং কোন বয়সে, কোন কাজে এবং কতটা প্রযুক্তি ব্যবহার শিক্ষার জন্য উপযোগী হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ইন্টারনেট-সক্ষম ডিভাইস, যার মধ্যে স্মার্টফোনও রয়েছে, স্কুল চলাকালে ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। অনুমোদিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহারের ওপর এই নীতি প্রযোজ্য।

এর আগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়েও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কে-১২ স্কুলে স্কুল চলাকালে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। তবে স্থানীয় স্কুলগুলোকে নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী নীতিমালা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি ব্যবহারে নিউইয়র্ক সিটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইউটিউব ও স্মার্টফোনে সীমাবদ্ধ নেই। চলতি মাসের শুরুতে মেয়র জোহরান মামদানি দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও এক বছরের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফলে ইউটিউব, স্মার্টফোন, ডিজিটাল ডিভাইস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের নীতিকে ঘিরে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় নতুন করে নীতিগত আলোচনা চলছে।

এখন পর্যন্ত ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কোনো চূড়ান্ত আইন হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা বিভাগ স্কুল-প্রদত্ত ডিভাইসে সাধারণ প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং শিক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ব্যতিক্রম রেখেছে। অন্যদিকে, সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে আরও কঠোর বিধিনিষেধসহ প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন পুনর্বিবেচনার বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউইয়র্কের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা থাকবে, কোন বয়সে কতটা থাকবে এবং কোন ধরনের প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য কার্যকর, এসব প্রশ্নই এখন সিটি কাউন্সিল ও শিক্ষা বিভাগের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

❤️
👏
🙂
😞

নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে ইউটিউব ব্যবহারে কড়াকড়ি, স্ক্রিন টাইম কমাতে নতুন প্রস্তাব

প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১

নিউইয়র্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্কুল-প্রদত্ত ক্রোমবুক ও আইপ্যাডে ইউটিউবের সাধারণ প্রবেশাধিকার ইতোমধ্যে সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানো, শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার পুনর্বিবেচনা এবং কিছু ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে শেখানোর পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে।

১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এক শুনানিতে স্কুলে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এসব আলোচনা হয়। কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণান ও এরিক ডিনোভিৎস শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের পরিমাণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইউটিউবের পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস, শিক্ষামূলক অ্যাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হয়।

শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা স্কট স্ট্রিকল্যান্ড শুনানিতে জানান, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলের দেওয়া ক্রোমবুক ও আইপ্যাডে শিক্ষার্থীদের ইউটিউব ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা কার্যকর করা হয়েছে।

তবে শিক্ষামূলক প্রয়োজনে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষকরা গুগল ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠের অংশ হিসেবে যেসব ভিডিও শিক্ষার্থীদের দেন, সেগুলো দেখার সুযোগ থাকবে।

তাই নিউইয়র্ক সিটির সব স্কুলে ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। বর্তমানে মূল পরিবর্তন হলো স্কুল-প্রদত্ত ডিভাইসে ইউটিউবের সাধারণ প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য সুযোগ রাখা।

সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও পরিবর্তনের প্রস্তাবও উঠে এসেছে। এর মধ্যে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের হাতে আলাদা ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার ব্যবস্থা কমানো, কিছু গেমভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজে-কলমে শেখানো ও পরীক্ষা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

কাউন্সিল সদস্যদের আলোচনায় প্রশ্ন ওঠে, শিক্ষার্থীদের হাতে বেশি প্রযুক্তি থাকলেই শিক্ষার ফলাফল উন্নত হয় কি না। একই সঙ্গে স্ক্রিন টাইম, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি ও তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগ প্রযুক্তির সব ব্যবহার বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নেয়নি। শুনানিতে প্রথম ডেপুটি চ্যান্সেলর ড্যানিয়েল জিউন্টা বলেন, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহার হলে সেটি উদ্দেশ্যপূর্ণ ও সক্রিয় শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের কেবল একটি ডিভাইসের সামনে বসিয়ে রাখার ব্যবস্থা তারা চান না।

এর ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করা নয়, বরং কোন বয়সে, কোন কাজে এবং কতটা প্রযুক্তি ব্যবহার শিক্ষার জন্য উপযোগী হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ইন্টারনেট-সক্ষম ডিভাইস, যার মধ্যে স্মার্টফোনও রয়েছে, স্কুল চলাকালে ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। অনুমোদিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহারের ওপর এই নীতি প্রযোজ্য।

এর আগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়েও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কে-১২ স্কুলে স্কুল চলাকালে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। তবে স্থানীয় স্কুলগুলোকে নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী নীতিমালা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি ব্যবহারে নিউইয়র্ক সিটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইউটিউব ও স্মার্টফোনে সীমাবদ্ধ নেই। চলতি মাসের শুরুতে মেয়র জোহরান মামদানি দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও এক বছরের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফলে ইউটিউব, স্মার্টফোন, ডিজিটাল ডিভাইস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের নীতিকে ঘিরে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় নতুন করে নীতিগত আলোচনা চলছে।

এখন পর্যন্ত ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কোনো চূড়ান্ত আইন হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা বিভাগ স্কুল-প্রদত্ত ডিভাইসে সাধারণ প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং শিক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ব্যতিক্রম রেখেছে। অন্যদিকে, সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে আরও কঠোর বিধিনিষেধসহ প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন পুনর্বিবেচনার বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউইয়র্কের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা থাকবে, কোন বয়সে কতটা থাকবে এবং কোন ধরনের প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য কার্যকর, এসব প্রশ্নই এখন সিটি কাউন্সিল ও শিক্ষা বিভাগের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।