ঢাকা ১০:৩৫ , Sun, ১১ Oct ২০২৬
ইউরোপ
জার্মানি

ইউরোপের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বতন্ত্র ইসলামি ধর্মতত্ত্ব অনুষদ জার্মানিতে

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৭
  • / 5
জার্মানির ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বতন্ত্র ইসলামি ধর্মতত্ত্ব অনুষদ। ছবি: সংগৃহীত

ম্যুনস্টার, ১১ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) : ইসলামি ধর্মতত্ত্বকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র অনুষদের মর্যাদা দিয়েছে জার্মানির ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬তম অনুষদ। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের গবেষণা, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও উচ্চতর ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি একাডেমিক স্বাধীনতা পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের কার্যক্রম পরিচালিত হতো সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি নামের একটি কেন্দ্রের মাধ্যমে। নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার পর ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বতন্ত্র অনুষদের কাঠামোয় যুক্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক ইয়োহানেস ভেসেলস এ উদ্যোগকে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সমাজ ও রাজনীতিতে সহনশীলতা বাড়ানোর বার্তাও বহন করে।

গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বাড়ছে স্বাধীনতা

নতুন অনুষদটি নিজস্ব গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, পাঠ্যক্রম তৈরি এবং পরীক্ষার বিধি প্রণয়নের স্বাধীনতা পেয়েছে। পাশাপাশি ডক্টরেট ও পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ের ডিগ্রি প্রদানের সুযোগও থাকবে।

অনুষদটির প্রতিষ্ঠাতা ডিন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মুহানাদ খোরচিদে। তিনি ২০১০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন। খোরচিদের মতে, নতুন অনুষদ ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যকে আরও শক্তিশালী করবে। জার্মানির মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগের তাৎপর্য রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আট অধ্যাপকের অধীনে পড়বেন ৪৫০ শিক্ষার্থী

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শীতকালীন সেমিস্টার থেকে নতুন অনুষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে আটজন অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁদের মধ্যে চারজন নারী ও চারজন পুরুষ। ইসলামি দর্শন থেকে শুরু করে সমাজকল্যাণে ইসলামের ভূমিকা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণা হবে।

বর্তমানে অনুষদটিতে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্র অনুষদ হিসেবে এর প্রতিষ্ঠা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর গবেষণা ও একাডেমিক অগ্রগতির সুযোগ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ধর্মীয় শিক্ষকের চাহিদা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

জার্মানিতে ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে যোগ্য শিক্ষকের চাহিদাও বাড়ছে। অনুষদের ডিন মুহানাদ খোরচিদে মনে করেন, এ ক্ষেত্রে স্নাতকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষকের ঘাটতির বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৩৩০ জন। এই ব্যবধান পূরণে প্রশিক্ষিত স্নাতকেরা ভূমিকা রাখতে পারেন।

ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার ফলে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব এখন স্বতন্ত্র একাডেমিক কাঠামোয় গবেষণা ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে জার্মানিতে ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষার জন্য যোগ্য শিক্ষক তৈরির ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

ইউরোপের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বতন্ত্র ইসলামি ধর্মতত্ত্ব অনুষদ জার্মানিতে

প্রকাশঃ ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৭

ম্যুনস্টার, ১১ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) : ইসলামি ধর্মতত্ত্বকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র অনুষদের মর্যাদা দিয়েছে জার্মানির ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬তম অনুষদ। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের গবেষণা, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও উচ্চতর ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি একাডেমিক স্বাধীনতা পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের কার্যক্রম পরিচালিত হতো সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজি নামের একটি কেন্দ্রের মাধ্যমে। নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার পর ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বতন্ত্র অনুষদের কাঠামোয় যুক্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক ইয়োহানেস ভেসেলস এ উদ্যোগকে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সমাজ ও রাজনীতিতে সহনশীলতা বাড়ানোর বার্তাও বহন করে।

গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বাড়ছে স্বাধীনতা

নতুন অনুষদটি নিজস্ব গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, পাঠ্যক্রম তৈরি এবং পরীক্ষার বিধি প্রণয়নের স্বাধীনতা পেয়েছে। পাশাপাশি ডক্টরেট ও পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ের ডিগ্রি প্রদানের সুযোগও থাকবে।

অনুষদটির প্রতিষ্ঠাতা ডিন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মুহানাদ খোরচিদে। তিনি ২০১০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন। খোরচিদের মতে, নতুন অনুষদ ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যকে আরও শক্তিশালী করবে। জার্মানির মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগের তাৎপর্য রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আট অধ্যাপকের অধীনে পড়বেন ৪৫০ শিক্ষার্থী

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শীতকালীন সেমিস্টার থেকে নতুন অনুষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে আটজন অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁদের মধ্যে চারজন নারী ও চারজন পুরুষ। ইসলামি দর্শন থেকে শুরু করে সমাজকল্যাণে ইসলামের ভূমিকা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণা হবে।

বর্তমানে অনুষদটিতে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্র অনুষদ হিসেবে এর প্রতিষ্ঠা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর গবেষণা ও একাডেমিক অগ্রগতির সুযোগ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ধর্মীয় শিক্ষকের চাহিদা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

জার্মানিতে ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে যোগ্য শিক্ষকের চাহিদাও বাড়ছে। অনুষদের ডিন মুহানাদ খোরচিদে মনে করেন, এ ক্ষেত্রে স্নাতকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষকের ঘাটতির বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৩৩০ জন। এই ব্যবধান পূরণে প্রশিক্ষিত স্নাতকেরা ভূমিকা রাখতে পারেন।

ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার ফলে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব এখন স্বতন্ত্র একাডেমিক কাঠামোয় গবেষণা ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে জার্মানিতে ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষার জন্য যোগ্য শিক্ষক তৈরির ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।