নিউইয়র্কে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, দুঃখ প্রকাশ করল বাংলাদেশ কনস্যুলেট
- প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৬
- / 7
নিউইয়র্ক, ১১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কনস্যুলেট। একই ঘটনায় আমন্ত্রিত অতিথি নূর হোসেনকে কনস্যুলেটে ডেকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কনসাল জেনারেল।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কনস্যুলেট কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনের সময় প্রামাণ্যচিত্রের একটি বিষয় নিয়ে ভিন্নমত জানান নূর হোসেন। এ সময় কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথি তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানালে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে নূর হোসেনকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী রওশন হক বলেন, নূর হোসেনকে সেদিন গায়ে ধাক্কা দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তিনি দীর্ঘ সময় কনস্যুলেটের গেটে অবস্থান করেন। পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষের তাকে ভেতরে এনে বসানো এবং বিষয়টি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রওশন হক বলেন, তারা কনস্যুলেটের আমন্ত্রণেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের আমন্ত্রণে নয়। তাই রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে পরে দুঃখ প্রকাশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রওশন হক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করবে, এমন প্রত্যাশা তাদের।
প্রবাসী কমিউনিটি নেতা এম এ বাতিনও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, নাগরিকের মর্যাদা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সমান আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব।
ঘটনার পর দেওয়া বিবৃতিতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, প্রামাণ্যচিত্রের একটি বিষয়ে নূর হোসেন ভিন্নমত প্রকাশ করলে আমন্ত্রিত অতিথিদের আরও কয়েকজন তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ জন্য কনস্যুলেট দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার পর কনসাল জেনারেল নূর হোসেনকে কনস্যুলেটে আমন্ত্রণ জানান এবং সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সর্বজনীন ও মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে কনস্যুলেট জানিয়েছে, কোনো মতামতের সঙ্গে একমত বা ভিন্নমত পোষণ করা স্বাভাবিক। তবে প্রত্যেকের মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা গুরুত্বপূর্ণ। এ অধিকার সমুন্নত রাখতে কনস্যুলেট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে সৌহার্দ্যপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কনস্যুলেট। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে কনস্যুলেটের ভবিষ্যৎ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্র এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকার ভিত্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কনস্যুলেট।
ঘটনার পর কনস্যুলেটের দুঃখ প্রকাশ এবং নূর হোসেনকে পরে কনস্যুলেটে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের অনেকে মনে করছেন, বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কনস্যুলেটের অনুষ্ঠানে মতপার্থক্য দেখা দিলেও তা মোকাবিলায় সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।



























