যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের ধারাবাহিক রায়, ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি অবস্থান আরও শক্তিশালী
- প্রকাশঃ ০৩:৩০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 6
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একই দিনে অভিবাসন-সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের আইনি বিজয় এনে দিয়েছে। ২৫ জুন বৃহস্পতিবার ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য সাময়িক সুরক্ষা কর্মসূচি (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন সীমিত করার ‘মিটারিং’ নীতি পুনরায় কার্যকরের পথও উন্মুক্ত করে। এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে বহুল আলোচিত আরেকটি মামলার রায় এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে। সেটি জুলাইয়ের শুরুতে প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতির নাগরিক এবং ৬ হাজার সিরিয়ার নাগরিকের টিপিএস সুবিধা বাতিলের অনুমতি পেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এ সিদ্ধান্তকে “বিশাল জয়” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টিপিএস কখনোই স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ হিসেবে তৈরি করা হয়নি। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনজীবীরা এ রায়কে “দুঃখজনক দিন” বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রায় এমন সময় এসেছে যখন ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অতীতে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ টিপিএস সুবিধা দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অন্য একটি রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ‘মুলানি বনাম ওট্রো ল্যাবো’ মামলায় নিম্ন আদালতের সেই আদেশ বাতিল করেছে, যার মাধ্যমে সীমান্তে প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক আশ্রয় আবেদন গ্রহণের ‘মিটারিং’ নীতি স্থগিত ছিল। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে নীতিটি পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে আর আইনি বাধার মুখে পড়বে না।
এই মামলায় ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন বলেন, ২০২১ সালেই নীতিটি প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ায় এ মামলা গ্রহণের প্রয়োজন ছিল না। তার মতে, বাস্তবে কার্যকর না থাকা একটি নীতি নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত দেওয়ার যৌক্তিকতা ছিল না।
এদিকে অভিবাসন নীতির সবচেয়ে আলোচিত মামলা ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ এখনো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ বা সাময়িক অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অস্বীকার করা যাবে কি না।
এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রশাসনের ‘ডোমিসাইল’ তত্ত্ব নিয়ে বিচারপতিরা বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সলিসিটর জেনারেল সয়্যারকে বলেন, “এটা একই সংবিধান”, যখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আইনের ব্যাখ্যাও বদলানো উচিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম এই মামলায় পরাজয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মামলার রায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ৫ জুন রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিতাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে। এতে হাজারো আবেদনকারী সাময়িক স্বস্তি পান।
বর্তমানে ইউএসসিআইএস ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ নীতি অনুসরণ করছে, যেখানে নগদ সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে বিদেশে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও জানুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে। ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ নীতি বাতিল করে আরও কঠোর নীতি চালুর একটি প্রস্তাব এখনো বিচারাধীন। এটি ২০২৬ সালের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে এবং এরপর তা আদালতে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আইনজীবীরা বলছেন, অনেক অভিবাসী পরিবার এখনো ভুল ধারণার কারণে এসএনএপি বা ডব্লিউআইসির মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকছে, যদিও বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এসব সুবিধা পাবলিক চার্জ নির্ধারণে গণনা করা হয় না।
অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, একের পর এক আদালতের রায় এবং পরিবর্তিত নীতিমালার কারণে লাখো অভিবাসী পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এসিএলইউর আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, “যারা এই দেশে জন্মেছে তারা সবাই আমেরিকান। কোনো রাজনীতিবিদ নির্ধারণ করতে পারেন না কে এই দেশে জন্ম নেওয়ার যোগ্য।”
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





















