ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি বছরই দেশে ফিরব, এনডিটিভিকে জানালেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৬:০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 10

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকার পর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাসিত জীবনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”

মৃত্যুকে ভয় পান না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় তিনি অতিক্রম করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে ছিলেন এবং এবারও সব বাধা পেরিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এটি বাংলার মাটি, মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এবং জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তবে মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল করছেন, যা দলটির পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে।

৫ আগস্টের পর দেশের জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তির ওপর আঘাত হানা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।

বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়। এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন বাংলাদেশেই পড়ে থাকে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাবার সমাধি এবং দেশের মানুষের কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত কাটান। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”

শেয়ার করুন

চলতি বছরই দেশে ফিরব, এনডিটিভিকে জানালেন শেখ হাসিনা

প্রকাশঃ ০৬:০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকার পর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাসিত জীবনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”

মৃত্যুকে ভয় পান না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় তিনি অতিক্রম করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে ছিলেন এবং এবারও সব বাধা পেরিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এটি বাংলার মাটি, মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এবং জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তবে মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল করছেন, যা দলটির পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে।

৫ আগস্টের পর দেশের জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তির ওপর আঘাত হানা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।

বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়। এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন বাংলাদেশেই পড়ে থাকে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাবার সমাধি এবং দেশের মানুষের কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত কাটান। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”