যুক্তরাজ্যে কেয়ার কর্মীদের জন্য সুখবর, ILR নীতিতে বিশেষ সুবিধার পথে সরকার
- প্রকাশঃ ৩০ জুলাই ২০২৬, ২১:৩০
- / 4
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (Indefinite Leave to Remain-ILR) পাওয়ার নতুন কড়াকড়ি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে স্বাস্থ্য ও কেয়ার ভিসায় আসা কর্মীদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আমলে স্বাস্থ্য ও কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা পাঁচ লাখেরও বেশি অভিবাসী নতুন ILR নীতির কঠোরতার আওতার বাইরে থাকতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক পরিচর্যা (Social Care) খাতকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, এই খাতে দ্রুত জনবল বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বক্তব্যে তিনি নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
আলঝেইমার্সে আক্রান্ত তার বাবার সেবায় নিয়োজিত বিদেশি কেয়ার কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব কর্মী যুক্তরাজ্যের মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং সরকার তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তবে দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেয়ার কর্মীদের এই নতুন নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার। তিনি বলেন, যারা নিয়ম মেনে যুক্তরাজ্যে এসে দীর্ঘদিন ধরে দেশের কেয়ার খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, তাদের আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য করা ব্রিটিশ মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
একই ধরনের মতামত আগে দিয়েছিলেন সাবেক ইমিগ্রেশনমন্ত্রী মাইক ট্যাপ। তিনি বলেছিলেন, বৈধভাবে কেয়ার ভিসায় এসে যারা দেশের কেয়ার ব্যবস্থাকে সচল রাখতে অবদান রেখেছেন, তাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ আরও কঠিন করা উচিত নয়। তবে সে সময় তার এই অবস্থান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মতপার্থক্যের সৃষ্টি করে এবং পরে তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
হোম অফিস এবং মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির (MAC) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য ও কেয়ার ভিসা রুটে মোট ৬ লাখ ১২ হাজার ২৬৬টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার বিদেশি কেয়ার কর্মী স্থায়ী বসবাসের জন্য যোগ্য হতে পারেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশি কেয়ার কর্মীর আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ৩০ হাজারে নেমে এসেছে। যদিও যুক্তরাজ্যের কেয়ার খাতে এখনও প্রায় ৯৬ হাজার শূন্যপদ রয়েছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন বিদেশি কেয়ার কর্মী এবং তার নির্ভরশীলদের জন্য করদাতাদের সম্ভাব্য ব্যয় জীবনচক্রে এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে একজন কর্মীর জন্য আনুমানিক ৩৬ হাজার পাউন্ড এবং তার নির্ভরশীলদের জন্য প্রায় ৬৭ হাজার পাউন্ড ব্যয়ের হিসাব ধরা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কর্মরত বিদেশি কেয়ার কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাইজেরিয়ার নাগরিক (২৯ শতাংশ)। এরপর রয়েছে ভারত (১৭ শতাংশ) এবং জিম্বাবুয়ে (৯ শতাংশ)।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আরও বলেন, কেয়ার কর্মীরা সমাজের সবচেয়ে ভালো বেতনপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে থাকা উচিত। তবে এই খাতে ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়নে কর বৃদ্ধি-সহ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
প্রস্তাবিত ILR সংস্কার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কেয়ার কর্মীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হলে, তা যুক্তরাজ্যে কর্মরত হাজারো বিদেশি কেয়ার কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বার্তা হতে পারে।
সূত্র: জিবি নিউজ


























