এইচ-১বি ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করলে নিয়োগদাতাদের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার প্রস্তাব
- প্রকাশঃ ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৪
- / 5
ওয়াশিংটন, ৬ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে। নতুন একটি বিলে গুরুতর লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে।
টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডাইন গত ১ অক্টোবর ‘এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতি দমন আইন’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে একটি নির্দিষ্ট ধরনের লঙ্ঘনের জরিমানা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে।
আরও গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করা হতে পারে। একই ধরনের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার ন্যূনতম সময়সীমা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাবও রয়েছে।
নথিপত্র জালিয়াতির ক্ষেত্রেও জরিমানা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত থাকা একটি জরিমানার সীমা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। আরেক ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বর্তমান ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের জরিমানা বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে।
বিলটি উত্থাপনের পর বেথ ভ্যান ডাইন বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচিতে গুরুতর অপব্যবহার হচ্ছে। তাঁর মতে, আইন ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ ও মেধাবী কর্মী নিয়োগে সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটির অপব্যবহার ঠেকাতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আইনগত সংস্কার প্রয়োজন।
ভ্যান ডাইন আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম যদি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভঙ্গের ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তন করা উচিত।
বিলটির সঙ্গে ভ্যান ডাইনের পাশাপাশি আরও পাঁচজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি সহ-প্রস্তাবক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। তারা সবাই টেক্সাসের প্রতিনিধি। সহ-প্রস্তাবকদের মধ্যে রয়েছেন ব্র্যান্ডন গিল, পিট সেশনস, কিথ সেলফ, ব্রায়ান বাবিন ও প্যাট ফ্যালন।
এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর তদারকির উদ্যোগের মধ্যেই বিলটি সামনে এসেছে। বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া এই কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। অভিবাসনবিষয়ক কঠোর অবস্থানের সমর্থকেরা কর্মসূচিতে আরও বিধিনিষেধ আরোপ বা এটি বন্ধের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের জন্য ১ লাখ ডলারের একটি ফি আরোপ করা হয়েছিল। জুনে এক ফেডারেল বিচারক ওই ফি বাতিল করে দেন। প্রশাসন পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
এদিকে বার্ষিক সীমার আওতাভুক্ত এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রশাসন। এই অর্থ বিদ্যমান আবেদন ফি থেকে আলাদা হিসেবে দিতে হবে।
এইচ-১বি ভিসার কর্মী বাছাই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের উদ্যোগের পাশাপাশি চাকরি হারানোর পর নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৬০ দিন অবস্থানের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবও করেছে প্রশাসন।
কংগ্রেসে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে ভিন্ন ধরনের আরও কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে। অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেনের একটি বিলে নতুন এইচ-১বি ভিসা দেওয়া তিন বছরের জন্য বন্ধ রাখা, বার্ষিক ভিসার সংখ্যা কমানো এবং বছরে ২ লাখ ডলারের বেতনসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি চিপ রয় আলাদা একটি প্রস্তাবে এইচ-১বি ভিসাধারীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার পথে এই ভিসা ব্যবহারের ব্যবস্থা বন্ধ এবং ভিসা দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা বলেছেন।
এর বিপরীতে, স্থায়ী বসবাসের অনুমতির দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা কমানোর লক্ষ্যে আরেকটি প্রস্তাবও নতুন করে সামনে এসেছে। এতে এইচ-১বি কর্মীসহ স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষায় থাকা লাখো মানুষের জন্য সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলা হয়েছে।
ভ্যান ডাইনের বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপনের পর এটি বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর করতে হলে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পেতে হবে। এর আগে পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাড়তি জরিমানাগুলো কার্যকর হবে না।





























