বাগেরহাটে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় ৩৫ জন আহত, ২০ বসতবাড়ি ভাঙচুর
- প্রকাশঃ ০৯:৩৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 40
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বিজয়ী ও পরাজিত দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ চলাকালে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হুমায়ুনপুর ইউনিয়নের হুমায়ুনপুর গ্রামে। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী সহিংসতা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বাগেরহাটসহ অন্তত ছয়টি জেলায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাগেরহাট: বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র
বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়েছে।
সদর উপজেলা: বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে জামায়াত নেতা কারি মোল্লাসহ বেশ কয়েকজনের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা মিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে বিএনপির ৭-৮টি বাড়িতেও হামলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ইমরান ও তারেক নামের দুজনকে আটক করেছে।
কচুয়া: এখানে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল পরবর্তী সংঘর্ষে তিন বিএনপি কর্মী আহত হয়েছেন।
ফলাফল চিত্র: জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াত (বাগেরহাট ১, ২, ৪) এবং একটিতে (বাগেরহাট-৩) বিএনপি জয়ী হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কিশোরগঞ্জ: ধানের শীষ ও হাঁস প্রতীকের সমর্থকদের সংঘর্ষ
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে (নিকলী-বাজিতপুর) বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী বিএনপি) শেখ মজিবুর রহমান ও পরাজিত ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। বাজিতপুরের হুমায়ুনপুর গ্রামে সংঘটিত এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মেহেরপুর: জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা
গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারে চা পান করার সময় জামায়াতের তিন কর্মীর ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে পরাজিত করে জামায়াতের নাজমুল হুদা জয়ী হওয়ার জের ধরেই এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আহত উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঝিনাইদহ ও পটুয়াখালী: পাল্টাপাল্টি তণ্ডব
ঝিনাইদহ: শৈলকুপা, সদর ও কালীগঞ্জে ৫টি পৃথক সহিংসতায় ২৬ জন আহত হয়েছেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্যাম্প ও মহেশপুর প্রেসক্লাব ভাঙচুর করা হয়েছে।
পটুয়াখালী (বাউফল): কালাইয়া বন্দরে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি লুটপাট ও ভাঙচুর চলেছে। উভয় দলের অন্তত ৪ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বাউফলের বিজয়ী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ জানিয়েছেন, তার কোনো কর্মী সহিংসতায় জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর: ভোট গণনা নিয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই
বিরামপুর উপজেলায় ভোট গণনা বিলম্বকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। জামায়াতের এক নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের বক্তব্য
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম এই সহিংসতাকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম জানিয়েছেন, দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী জানান, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।


















