প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ তিন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত
- প্রকাশঃ ১১:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 39
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ তিনজন সচিবকে নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা সচিবরা হলেন—
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না,
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে পরিবর্তন আনা হলো।
এর আগে নতুন সরকার গঠনের আগের তিন দিনের মধ্যে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদের কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে দায়িত্ব থেকে সরে যান। তারা হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। পরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। তিনি এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। খালি হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্তত চারটি সচিব পদে নতুন নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন সচিবের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। এসব নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়। প্রথম ছয় মাসে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের একজন এবং অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ১৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে বহু কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
বর্তমানে সচিব ও সমপর্যায়ের পদে অন্তত ১৬ কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে আছেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকার আসার পর প্রশাসনে পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। তবে তারা আশা করছেন, নিয়োগ ও পদায়নে যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কোনো কর্মকর্তা যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন।
ক্ষমতাসীন বিএনপির ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ গড়তে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
















