চীনের জিউঝাং কোয়ান্টাম কম্পিউটার গড়ল বিশ্ব রেকর্ড
- প্রকাশঃ ০৯:২৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 3
চীনের বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে নতুন এক যুগের সূচনা করেছেন। তাদের উদ্ভাবিত ‘জিউঝাং’ নামের কোয়ান্টাম কম্পিউটার এমন একটি জটিল গণনা মাত্র কয়েক মিনিটে সম্পন্ন করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের জন্য লাগতো বিলিয়ন বছরেরও বেশি সময়।
ফোটনভিত্তিক এই কোয়ান্টাম কম্পিউটারটি আলোর কণা ব্যবহার করে কাজ করে। গবেষকরা জানান, ‘গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং’ নামের অত্যন্ত জটিল একটি সমস্যা জিউঝাং মাত্র ২০০ সেকেন্ডে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ একই কাজ করতে সুপারকম্পিউটার ‘সানওয়ে তাইহুলাইট’-এর সময় লাগতো প্রায় আড়াই বিলিয়ন বছর।
এই যুগান্তকারী গবেষণাটি ২০২০ সালে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার বিজ্ঞানীরা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষায় ৭৬টি ফোটনের পারস্পরিক হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য বণ্টন বিশ্লেষণ করা হয়, যা প্রচলিত কম্পিউটারের জন্য প্রায় অসম্ভব।
পরবর্তীতে প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে ‘জিউঝাং ৪.০’ সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। এই সংস্করণে ৩০৫০টি ফোটন ডিটেকশন ইভেন্ট নিয়ে কাজ করা হয়েছে এবং মাত্র ২৫.৬ মাইক্রোসেকেন্ডে একটি স্যাম্পল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, একই কাজ করতে বিশ্বের শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার ‘এল ক্যাপিটান’-এর সময় লাগতে পারে ১০ থেকে ৪২ বছর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত বিটের পরিবর্তে ‘কিউবিট’ ব্যবহার করে, যা সুপারপজিশন ও এনট্যাঙ্গেলমেন্টের মাধ্যমে একসঙ্গে বহু সম্ভাবনার হিসাব করতে পারে। জিউঝাংয়ের ক্ষেত্রে আলোর কণা ব্যবহারের ফলে এটি ঘরের তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম—যা প্রযুক্তিগতভাবে একটি বড় অগ্রগতি।
গবেষকরা বলছেন, এই অর্জন শুধু গতির রেকর্ড নয়; বরং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির বাস্তব সম্ভাবনার একটি শক্ত প্রমাণ। ভবিষ্যতে ওষুধ আবিষ্কার, কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি, নতুন উপাদান ডিজাইন এবং অত্যন্ত নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এখনো এটি সাধারণ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। এটি নির্দিষ্ট ধরনের সমস্যায় ‘কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ’ প্রদর্শন করেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করতে এখনও নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় চীন ইতোমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। গুগলের ‘সাইকামোর’-এর পর জিউঝাংকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অন্যতম বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ধরনের উদ্ভাবন ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কম্পিউটিং ব্যবস্থার সীমা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এই প্রযুক্তির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসা, কৃষি, জলবায়ু বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
















