ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবমেরিন কেবল সুরক্ষায় আন্ডারওয়াটার ড্রোন তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৯:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / 2

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, নতুন এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্য ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখবে ছবি:রয়টার্স


সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবল ও অবকাঠামোর সুরক্ষা জোরদারে যৌথভাবে আন্ডারওয়াটার ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। ‘অকাস’ (AUKUS) সামরিক জোটের আওতায় চালকবিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (ইউইউভি) বা সমুদ্রতলের যান তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আশা, আগামী বছরই প্রযুক্তিটি প্রস্তুত হবে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাঙ্গরি-লা নিরাপত্তা সংলাপে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো না হলেও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, এ খাতে তার দেশ ১৫ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে।

অকাস চুক্তির কার্যক্রম ধীরগতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা আসে। বিষয়টি স্বীকার করে জন হিলি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত ছিল। তবে বর্তমান সরকারগুলোর উদ্যোগে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০২১ সালে গঠিত অকাস জোটের মূল লক্ষ্য পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই জোটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

অকাসের ‘পিলার টু’ বা দ্বিতীয় স্তম্ভের আওতায় ইউইউভি প্রযুক্তি প্রথম বড় প্রকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। এই পর্যায়ে অংশীদার দেশগুলো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, সমুদ্রতল রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে।

তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউইউভির জন্য উন্নত পে-লোড ও সক্ষমতা তৈরি করা হবে। এসব যান সমুদ্রতলের অবকাঠামো সুরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণ, নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং রসদ পরিবহনের মতো জটিল কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।

জন হিলি জানান, এসব ড্রোনে অত্যাধুনিক সেন্সর ও অস্ত্র সংযোজন করা হবে, যা মিত্রবাহিনীগুলোকে দ্রুত ও কার্যকর রণকৌশল প্রয়োগে সহায়তা করবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পানির নিচে থাকা কেবল ও পাইপলাইনের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান নানা ঝুঁকি মোকাবেলায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, আটলান্টিক, প্যাসিফিক এবং হাই নর্থ অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধেও এটি কার্যকর হবে।

এক মাস আগে জন হিলি অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমায় কেবল ও পাইপলাইনের আশপাশে রাশিয়া গোপন তৎপরতা চালিয়েছে। যদিও রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ডিসেম্বরে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে থাকা যোগাযোগ কেবলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সাবমেরিন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করে।

বর্তমানে প্রায় ৬০টি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব কেবলের প্রতি মস্কোর আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের জলসীমায় রুশ জাহাজের উপস্থিতিও অন্তত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে তাইওয়ান ও সুইডেনের নিকটবর্তী সমুদ্রাঞ্চলে কয়েকটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় চীনা জাহাজের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। বাল্টিক সাগরেও সামুদ্রিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার বিবিসির পক্ষ থেকে ইউইউভি প্রকল্পটি রাশিয়া ও চীনের সমুদ্রতলভিত্তিক কর্মকাণ্ড মোকাবেলার জন্য কি না জানতে চাওয়া হলেও তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। অকাস প্রকল্পের অগ্রগতির গতি নিয়ে প্রশ্নেরও তারা স্পষ্ট জবাব দেননি।

কী এই অকাস?

অকাস চুক্তির প্রথম ধাপ বা ‘পিলার ওয়ান’-এর আওতায় যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব সাবমেরিন সংশ্লিষ্ট দেশের নৌবাহিনী ব্যবহার করবে।

বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই প্রকল্পকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট গোপন জ্ঞান লাভ করবে।

তবে অস্ট্রেলিয়ায় এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে কার্যকর ফল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, অকাসের নতুন সাবমেরিনগুলো ২০৪০ সালের আগে পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন নাও হতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের পরমাণু সাবমেরিন পালাক্রমে অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালনা করবে। পরে ২০৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যবহৃত কিছু পরমাণু সাবমেরিন সংগ্রহ করবে।

শাঙ্গরি-লা সংলাপ শুরুর কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মারলেস বলেন, এই সাবমেরিন প্রকল্পের বিকল্প কোনো পরিকল্পনা তাদের হাতে নেই।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন ও ব্রিটিশ সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নির্ধারিত পথেই এগোচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম দল সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রিচার্ড মারলেস জানান, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এইচএমএএস স্টারলিং নৌঘাঁটি এসব সাবমেরিন গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় সাবমেরিন নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

শেয়ার করুন

সাবমেরিন কেবল সুরক্ষায় আন্ডারওয়াটার ড্রোন তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশঃ ০৯:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, নতুন এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্য ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখবে ছবি:রয়টার্স


সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবল ও অবকাঠামোর সুরক্ষা জোরদারে যৌথভাবে আন্ডারওয়াটার ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। ‘অকাস’ (AUKUS) সামরিক জোটের আওতায় চালকবিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (ইউইউভি) বা সমুদ্রতলের যান তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আশা, আগামী বছরই প্রযুক্তিটি প্রস্তুত হবে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাঙ্গরি-লা নিরাপত্তা সংলাপে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো না হলেও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, এ খাতে তার দেশ ১৫ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে।

অকাস চুক্তির কার্যক্রম ধীরগতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা আসে। বিষয়টি স্বীকার করে জন হিলি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত ছিল। তবে বর্তমান সরকারগুলোর উদ্যোগে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০২১ সালে গঠিত অকাস জোটের মূল লক্ষ্য পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই জোটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

অকাসের ‘পিলার টু’ বা দ্বিতীয় স্তম্ভের আওতায় ইউইউভি প্রযুক্তি প্রথম বড় প্রকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। এই পর্যায়ে অংশীদার দেশগুলো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, সমুদ্রতল রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে।

তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউইউভির জন্য উন্নত পে-লোড ও সক্ষমতা তৈরি করা হবে। এসব যান সমুদ্রতলের অবকাঠামো সুরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণ, নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং রসদ পরিবহনের মতো জটিল কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।

জন হিলি জানান, এসব ড্রোনে অত্যাধুনিক সেন্সর ও অস্ত্র সংযোজন করা হবে, যা মিত্রবাহিনীগুলোকে দ্রুত ও কার্যকর রণকৌশল প্রয়োগে সহায়তা করবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পানির নিচে থাকা কেবল ও পাইপলাইনের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান নানা ঝুঁকি মোকাবেলায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, আটলান্টিক, প্যাসিফিক এবং হাই নর্থ অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধেও এটি কার্যকর হবে।

এক মাস আগে জন হিলি অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমায় কেবল ও পাইপলাইনের আশপাশে রাশিয়া গোপন তৎপরতা চালিয়েছে। যদিও রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ডিসেম্বরে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে থাকা যোগাযোগ কেবলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সাবমেরিন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করে।

বর্তমানে প্রায় ৬০টি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব কেবলের প্রতি মস্কোর আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের জলসীমায় রুশ জাহাজের উপস্থিতিও অন্তত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে তাইওয়ান ও সুইডেনের নিকটবর্তী সমুদ্রাঞ্চলে কয়েকটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় চীনা জাহাজের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। বাল্টিক সাগরেও সামুদ্রিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার বিবিসির পক্ষ থেকে ইউইউভি প্রকল্পটি রাশিয়া ও চীনের সমুদ্রতলভিত্তিক কর্মকাণ্ড মোকাবেলার জন্য কি না জানতে চাওয়া হলেও তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। অকাস প্রকল্পের অগ্রগতির গতি নিয়ে প্রশ্নেরও তারা স্পষ্ট জবাব দেননি।

কী এই অকাস?

অকাস চুক্তির প্রথম ধাপ বা ‘পিলার ওয়ান’-এর আওতায় যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব সাবমেরিন সংশ্লিষ্ট দেশের নৌবাহিনী ব্যবহার করবে।

বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই প্রকল্পকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট গোপন জ্ঞান লাভ করবে।

তবে অস্ট্রেলিয়ায় এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে কার্যকর ফল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, অকাসের নতুন সাবমেরিনগুলো ২০৪০ সালের আগে পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন নাও হতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের পরমাণু সাবমেরিন পালাক্রমে অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালনা করবে। পরে ২০৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যবহৃত কিছু পরমাণু সাবমেরিন সংগ্রহ করবে।

শাঙ্গরি-লা সংলাপ শুরুর কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মারলেস বলেন, এই সাবমেরিন প্রকল্পের বিকল্প কোনো পরিকল্পনা তাদের হাতে নেই।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন ও ব্রিটিশ সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নির্ধারিত পথেই এগোচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম দল সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রিচার্ড মারলেস জানান, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এইচএমএএস স্টারলিং নৌঘাঁটি এসব সাবমেরিন গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় সাবমেরিন নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।