ঢাকা ০৪:৫০ , Thu, ২৩ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক: ৩০ হাজার কিলোমিটারের প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে, যেখানে নেই একটিও ইউ-টার্ন

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৫
  • / 1
ছবি: সংগৃহীত

একটি রাস্তা ধরে টানা চলেছেন। প্রতিদিন ৫০০ কিলোমিটার করে পথ পাড়ি দিচ্ছেন। তারপরও গন্তব্যে পৌঁছাতে লেগে যাচ্ছে দুই মাসেরও বেশি সময়। বিস্ময়কর এই যাত্রাপথে কোথাও ইউ-টার্ন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়, বাস্তবের বিশ্বের দীর্ঘতম মোটরযান চলাচলযোগ্য সড়ক, প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই মহাসড়ক টানা ১৪টি দেশের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে একই সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করা এই পথ প্রকৌশল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কোথা থেকে শুরু, কোথায় শেষ

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে উত্তর আমেরিকার আলাস্কার প্রুডো বে থেকে। সেখান থেকে প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এটি দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা পর্যন্ত পৌঁছেছে। দীর্ঘ এই মহাসড়ক উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে স্থলপথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

The Longest Road in the World 🚘 Pan-American Highway ↕️

১৪টি দেশের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত পথ

এই মহাসড়কটি মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা ও পানামা অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবেশ করেছে। এরপর কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, চিলি এবং আর্জেন্টিনার ভেতর দিয়ে এর বিস্তার ঘটেছে। এছাড়া যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো অংশে এই রুটের একাধিক বিকল্প পথও রয়েছে।

পুরো পথ পাড়ি দিতে কত সময় লাগে

স্বাভাবিক গতিতে ভ্রমণ করলে এই মহাসড়কের পুরো পথ অতিক্রম করতে প্রায় ৬০ দিন বা দুই মাস সময় লাগে। তবে যাত্রার গতি, বিরতি এবং ভ্রমণ পরিকল্পনার ওপর সময়ের তারতম্য হতে পারে।

এর উদাহরণ হিসেবে কার্লোস সান্তামারিয়া নামের এক পর্যটকের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি পুরো পথটি সম্পন্ন করতে ১১৭ দিন সময় নিয়েছিলেন।

এক যাত্রায় রেইনফরেস্ট থেকে মরুভূমি

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের অন্যতম আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি। এই দীর্ঘ পথে ভ্রমণকারীরা কখনও ঘন রেইনফরেস্ট, কখনও বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল, আবার কখনও ধূ ধূ মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাত্রা করেন। এক মহাসড়কেই প্রকৃতির এত বৈচিত্র্য খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।

মহাসড়কের বড় একটি অংশ স্প্যানিশভাষী দেশগুলোর মধ্যে অবস্থিত। তাই এই পথে দীর্ঘ ভ্রমণে বের হওয়ার আগে প্রাথমিক পর্যায়ের স্প্যানিশ ভাষা জানা পর্যটকদের জন্য যোগাযোগ সহজ করতে সহায়ক হতে পারে।

ইতিহাসের সূচনা

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে। সে সময় মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বৃদ্ধি এবং আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন।

পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে ১৪টি দেশ এই মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে একটি চুক্তিতে অংশ নেয়। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর ১৯৬০ সালে প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়।

❤️
👏
🙂
😞

বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক: ৩০ হাজার কিলোমিটারের প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে, যেখানে নেই একটিও ইউ-টার্ন

প্রকাশঃ ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৫

একটি রাস্তা ধরে টানা চলেছেন। প্রতিদিন ৫০০ কিলোমিটার করে পথ পাড়ি দিচ্ছেন। তারপরও গন্তব্যে পৌঁছাতে লেগে যাচ্ছে দুই মাসেরও বেশি সময়। বিস্ময়কর এই যাত্রাপথে কোথাও ইউ-টার্ন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়, বাস্তবের বিশ্বের দীর্ঘতম মোটরযান চলাচলযোগ্য সড়ক, প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই মহাসড়ক টানা ১৪টি দেশের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে একই সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করা এই পথ প্রকৌশল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কোথা থেকে শুরু, কোথায় শেষ

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে উত্তর আমেরিকার আলাস্কার প্রুডো বে থেকে। সেখান থেকে প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এটি দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা পর্যন্ত পৌঁছেছে। দীর্ঘ এই মহাসড়ক উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে স্থলপথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

The Longest Road in the World 🚘 Pan-American Highway ↕️

১৪টি দেশের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত পথ

এই মহাসড়কটি মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা ও পানামা অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবেশ করেছে। এরপর কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, চিলি এবং আর্জেন্টিনার ভেতর দিয়ে এর বিস্তার ঘটেছে। এছাড়া যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো অংশে এই রুটের একাধিক বিকল্প পথও রয়েছে।

পুরো পথ পাড়ি দিতে কত সময় লাগে

স্বাভাবিক গতিতে ভ্রমণ করলে এই মহাসড়কের পুরো পথ অতিক্রম করতে প্রায় ৬০ দিন বা দুই মাস সময় লাগে। তবে যাত্রার গতি, বিরতি এবং ভ্রমণ পরিকল্পনার ওপর সময়ের তারতম্য হতে পারে।

এর উদাহরণ হিসেবে কার্লোস সান্তামারিয়া নামের এক পর্যটকের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি পুরো পথটি সম্পন্ন করতে ১১৭ দিন সময় নিয়েছিলেন।

এক যাত্রায় রেইনফরেস্ট থেকে মরুভূমি

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের অন্যতম আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি। এই দীর্ঘ পথে ভ্রমণকারীরা কখনও ঘন রেইনফরেস্ট, কখনও বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল, আবার কখনও ধূ ধূ মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাত্রা করেন। এক মহাসড়কেই প্রকৃতির এত বৈচিত্র্য খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।

মহাসড়কের বড় একটি অংশ স্প্যানিশভাষী দেশগুলোর মধ্যে অবস্থিত। তাই এই পথে দীর্ঘ ভ্রমণে বের হওয়ার আগে প্রাথমিক পর্যায়ের স্প্যানিশ ভাষা জানা পর্যটকদের জন্য যোগাযোগ সহজ করতে সহায়ক হতে পারে।

ইতিহাসের সূচনা

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে। সে সময় মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বৃদ্ধি এবং আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন।

পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে ১৪টি দেশ এই মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে একটি চুক্তিতে অংশ নেয়। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর ১৯৬০ সালে প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়।