ঢাকা ১০:৪৬ , Sun, ২৩ Aug ২০২৬

‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের সব সুবিধা চায়’: কানাডার পাল্টা শুল্কে চটেছেন ট্রাম্প

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫
  • / 7
ট্রাম্প ও কার্নি ফাইল ছবি: এপি

ওয়াশিংটন, ২৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের মতো সুবিধা পেতে চায়।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের মতো সব সুবিধা ভোগ করতে চায়!!!’ বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের ওপর ‘বিপুল অঙ্কের শুল্ক’ আরোপ করে আসছে। তিনি বলেন, ‘তারা বহু বছর ধরে আমাদের মহান কৃষকদের ওপর বিপুল অঙ্কের শুল্ক চাপিয়ে এসেছে। আর নয়!!!’

এর আগে মার্কিন প্রশাসনের শুল্কনীতিকে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শনিবার তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে অটোয়া। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা জানান তিনি।

কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এখন বাণিজ্য ‘যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘তাদের দাবি ছিল মাত্রাতিরিক্ত, আর দিতে চেয়েছিল যৎসামান্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্ত হলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। আমাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে।’

শনিবার থেকেই কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা [যুক্তরাষ্ট্র] যা প্রস্তাব করেছে তা আমরা মেনে নিতে পারি না, আর ওরা যা দাবি করেছে তা-ও আমরা দেব না।’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় কানাডা ‘অনিচ্ছাসত্ত্বেও’ পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশই বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী ছিল। তবে শেষ পর্যায়ে এসে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে আলোচনার শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ তোলায় সমঝোতার উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

এর ফলে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, অটোমোবাইল ও কাঠের ওপর ওয়াশিংটনের আগের শুল্ক বহাল থাকছে। এর পাশাপাশি কানাডার একাধিক পণ্যের ওপর নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে দেখার বিষয়ে বারবার মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। তাঁর এই মন্তব্য কানাডার নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কার্নির পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কানাডার বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিসহ অন্যান্য ফেডারেল দলের নেতারা এবং বিভিন্ন প্রদেশের শীর্ষ নেতারা।

কানাডার সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও কার্নির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ট্রাম্প সম্পর্কে বলেন, ‘বিশ্বাস করা যায় না।’

❤️
👏
🙂
😞

‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের সব সুবিধা চায়’: কানাডার পাল্টা শুল্কে চটেছেন ট্রাম্প

প্রকাশঃ ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫

ওয়াশিংটন, ২৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের মতো সুবিধা পেতে চায়।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের মতো সব সুবিধা ভোগ করতে চায়!!!’ বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের ওপর ‘বিপুল অঙ্কের শুল্ক’ আরোপ করে আসছে। তিনি বলেন, ‘তারা বহু বছর ধরে আমাদের মহান কৃষকদের ওপর বিপুল অঙ্কের শুল্ক চাপিয়ে এসেছে। আর নয়!!!’

এর আগে মার্কিন প্রশাসনের শুল্কনীতিকে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শনিবার তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে অটোয়া। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা জানান তিনি।

কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এখন বাণিজ্য ‘যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘তাদের দাবি ছিল মাত্রাতিরিক্ত, আর দিতে চেয়েছিল যৎসামান্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্ত হলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। আমাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে।’

শনিবার থেকেই কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা [যুক্তরাষ্ট্র] যা প্রস্তাব করেছে তা আমরা মেনে নিতে পারি না, আর ওরা যা দাবি করেছে তা-ও আমরা দেব না।’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় কানাডা ‘অনিচ্ছাসত্ত্বেও’ পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশই বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী ছিল। তবে শেষ পর্যায়ে এসে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে আলোচনার শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ তোলায় সমঝোতার উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

এর ফলে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, অটোমোবাইল ও কাঠের ওপর ওয়াশিংটনের আগের শুল্ক বহাল থাকছে। এর পাশাপাশি কানাডার একাধিক পণ্যের ওপর নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে দেখার বিষয়ে বারবার মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। তাঁর এই মন্তব্য কানাডার নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কার্নির পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কানাডার বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিসহ অন্যান্য ফেডারেল দলের নেতারা এবং বিভিন্ন প্রদেশের শীর্ষ নেতারা।

কানাডার সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও কার্নির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ট্রাম্প সম্পর্কে বলেন, ‘বিশ্বাস করা যায় না।’