ঢাকা ০৯:৪৯ , Mon, ১৯ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের ট্যাক্স রিটার্ন: বাংলাদেশি প্রবাসীদের যেসব নিয়ম জানা জরুরি

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৮
  • / 5
২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন, বিদেশি আয়, ব্যাংক হিসাব ও কর-ক্রেডিটের নিয়ম জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ২০ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ২০২৭ সালে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হলে আয়ের ধরন, কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, বিদেশে থাকা অর্থসম্পদ এবং প্রযোজ্য কর সুবিধা সম্পর্কে আগেভাগে ধারণা রাখা প্রয়োজন। ২০২৭ সালে সাধারণত ২০২৬ করবর্ষের আয় ও আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে কার রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, কতটা কর ছাড় পাওয়া যাবে এবং কোন কোন তথ্য জানাতে হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির আয়, করের হিসাবে আবাসিক পরিচয় ও পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর।

২০২৬ করবর্ষে কর ছাড় ও রিটার্ন জমার নিয়ম

২০২৬ করবর্ষে একক করদাতার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ১০০ ডলার। বিবাহিত দম্পতি যৌথভাবে রিটার্ন জমা দিলে এ ছাড়ের পরিমাণ ৩২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৭ সালে রিটার্ন প্রস্তুত করার সময় তাই সংশ্লিষ্ট করবর্ষের নির্ধারিত অঙ্ক অনুসরণ করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই প্রত্যেক ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয় না। মোট আয়, বয়স, রিটার্ন জমার ধরন, অন্য কারও নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয়টি এবং করের হিসাবে আবাসিক পরিচয় বিবেচনা করে এ বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ করবর্ষে ৬৫ বছরের কম বয়সী, অন্য কারও নির্ভরশীল নন এমন একক করদাতার সাধারণ আয়সীমা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে কিছু পরিস্থিতিতে আয় এ সীমার নিচে থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে।

স্বনিযুক্ত পেশা, স্বাধীনভাবে কাজ বা ছোট ব্যবসা থেকে বছরে নিট আয় ৪০০ ডলার কিংবা তার বেশি হলে সাধারণভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত চাকরির আয় কম হলেও ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। করের হিসাবে অনাবাসী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

আইটিআইএন কর শনাক্তকরণ নম্বর, কাজের অনুমতি নয়

ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বর বা আইটিআইএন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় করসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর পাওয়ার যোগ্য নন, এমন কিছু ব্যক্তির নির্দিষ্ট করসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আইটিআইএন প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এ নম্বর থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বা অন্য কোনো কাজ করার আইনগত অনুমতি পাওয়া যায় না। একইভাবে, আইটিআইএন কোনো ব্যক্তির অভিবাসন পরিচয় বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় না। করসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পৃথক বিষয়।

বাংলাদেশের আয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানাতে হবে কি না

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং করের হিসাবে আবাসিক ব্যক্তিদের সাধারণভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া আয় কর রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। ফলে বাংলাদেশে ব্যাংকের সুদ, বাড়িভাড়া কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আয় থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তা মার্কিন আয়কর রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতে হতে পারে।

বিদেশ থেকে পাওয়া আয় ঘোষণা করা এবং বিদেশে থাকা ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানানো দুটি আলাদা দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত প্রতিবেদন বা এফবিএআর নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযোজ্য মার্কিন ব্যক্তির বিদেশি আর্থিক হিসাবগুলোর সম্মিলিত মূল্য ক্যালেন্ডার বছরের যেকোনো সময়ে ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে সাধারণভাবে এফবিএআর জমা দিতে হয়। একাধিক বিদেশি ব্যাংক হিসাব থাকলে প্রতিটির মূল্য আলাদাভাবে নয়, সম্মিলিত মূল্য বিবেচনা করা হয়। ফিনসেন ফর্ম ১১৪ ব্যবহার করে এ প্রতিবেদন আলাদাভাবে জমা দিতে হয়।

বাংলাদেশে নিজের নামে জমি বা ফ্ল্যাট থাকলেই সেটি এফবিএআর অথবা ফর্ম ৮৯৩৮-এ জানাতে হবে, এমন নয়। সরাসরি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশি আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। তবে কোনো সম্পত্তি বিদেশি কোম্পানি, অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টের মাধ্যমে রাখা হলে মালিকানার ধরন অনুযায়ী আলাদা প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।

বিদেশি আর্থিক সম্পদের তথ্য জানানোর জন্য ফর্ম ৮৯৩৮-এর নিয়মও রয়েছে। এ ফর্ম জমা দিতে হবে কি না, তা নির্ভর করে সম্পদের মূল্য, করদাতার রিটার্ন জমার ধরন এবং যুক্তরাষ্ট্রে নাকি দেশের বাইরে বসবাস করছেন, তার ওপর। ফলে এফবিএআর জমা দিলেই ফর্ম ৮৯৩৮-সংক্রান্ত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আবার কোনো সম্পদের তথ্য জানাতে হয় বলেই তার পুরো মূল্যের ওপর নতুন করে কর দিতে হবে, এমন নয়।

সন্তানদের জন্য কর ক্রেডিট ও আর্থিক সুবিধা

সন্তানদের জন্য কর সুবিধা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি শিশুর জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৬ করবর্ষেও এ ক্রেডিটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সর্বোচ্চ ক্রেডিটের অঙ্ক জানলেই সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত হয় না। শিশুর যোগ্যতা, পরিবারের আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসংক্রান্ত প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণও করদাতার আয় ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ২০২৫ করবর্ষে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা করদাতাদের জন্য এ ক্রেডিটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৪৬ ডলার। ২০২৬ করবর্ষে তা বেড়ে ৮ হাজার ২৩১ ডলার হয়েছে। তবে প্রকৃত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে যোগ্য সন্তানের সংখ্যা, আয়, রিটার্ন জমার ধরন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসংক্রান্ত শর্তের ওপর।

স্বাস্থ্যবিমার নথি ও অভিবাসন স্পন্সরশিপের কাগজপত্র

আয়কর রিটার্ন তৈরির আগে আয়ের প্রমাণ, ব্যয়ের নথি এবং প্রযোজ্য কর ছাড় ও ক্রেডিটের কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা উচিত। স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নেওয়া হলে ফর্ম ১০৯৫-এ গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ফর্মের তথ্যের ভিত্তিতে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট এবং আগাম পাওয়া আর্থিক সহায়তার হিসাব সমন্বয় করতে হয়।

অভিবাসনসংক্রান্ত আর্থিক স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে সব পরিস্থিতিতে আগের তিন বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার ফর্ম আই-৮৬৪-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে সর্বশেষ করবর্ষের কেন্দ্রীয় আয়কর রিটার্ন বা কর প্রতিলিপির তথ্য দিতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বছরের নথিও জমা দেওয়া যেতে পারে।

আয়কর প্রস্তুতকারী নিয়োগে যে সতর্কতা প্রয়োজন

পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আয়কর রিটার্ন তৈরি করানোর ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারীর পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী, পারিশ্রমিক নিয়ে রিটার্ন প্রস্তুতকারীকে রিটার্নে স্বাক্ষর করতে এবং নিজের প্রস্তুতকারক কর শনাক্তকরণ নম্বর বা পিটিআইএন উল্লেখ করতে হয়।

কখনোই ফাঁকা আয়কর রিটার্নে স্বাক্ষর করা উচিত নয়। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়ের হিসাব, দাবি করা ব্যয়, কর ক্রেডিট এবং অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য দেওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। জমা দেওয়া রিটার্নের একটি কপিও নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

ব্যক্তিগত আয়, বিদেশি সম্পদ, অভিবাসন পরিচয় কিংবা একাধিক দেশের করসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে যোগ্য সনদপ্রাপ্ত পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনরোলড এজেন্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের ট্যাক্স রিটার্ন: বাংলাদেশি প্রবাসীদের যেসব নিয়ম জানা জরুরি

প্রকাশঃ ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৮

ওয়াশিংটন, ২০ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ২০২৭ সালে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হলে আয়ের ধরন, কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, বিদেশে থাকা অর্থসম্পদ এবং প্রযোজ্য কর সুবিধা সম্পর্কে আগেভাগে ধারণা রাখা প্রয়োজন। ২০২৭ সালে সাধারণত ২০২৬ করবর্ষের আয় ও আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে কার রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, কতটা কর ছাড় পাওয়া যাবে এবং কোন কোন তথ্য জানাতে হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির আয়, করের হিসাবে আবাসিক পরিচয় ও পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর।

২০২৬ করবর্ষে কর ছাড় ও রিটার্ন জমার নিয়ম

২০২৬ করবর্ষে একক করদাতার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ১০০ ডলার। বিবাহিত দম্পতি যৌথভাবে রিটার্ন জমা দিলে এ ছাড়ের পরিমাণ ৩২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৭ সালে রিটার্ন প্রস্তুত করার সময় তাই সংশ্লিষ্ট করবর্ষের নির্ধারিত অঙ্ক অনুসরণ করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই প্রত্যেক ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয় না। মোট আয়, বয়স, রিটার্ন জমার ধরন, অন্য কারও নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয়টি এবং করের হিসাবে আবাসিক পরিচয় বিবেচনা করে এ বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ করবর্ষে ৬৫ বছরের কম বয়সী, অন্য কারও নির্ভরশীল নন এমন একক করদাতার সাধারণ আয়সীমা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে কিছু পরিস্থিতিতে আয় এ সীমার নিচে থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে।

স্বনিযুক্ত পেশা, স্বাধীনভাবে কাজ বা ছোট ব্যবসা থেকে বছরে নিট আয় ৪০০ ডলার কিংবা তার বেশি হলে সাধারণভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত চাকরির আয় কম হলেও ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। করের হিসাবে অনাবাসী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

আইটিআইএন কর শনাক্তকরণ নম্বর, কাজের অনুমতি নয়

ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বর বা আইটিআইএন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় করসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর পাওয়ার যোগ্য নন, এমন কিছু ব্যক্তির নির্দিষ্ট করসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আইটিআইএন প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এ নম্বর থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বা অন্য কোনো কাজ করার আইনগত অনুমতি পাওয়া যায় না। একইভাবে, আইটিআইএন কোনো ব্যক্তির অভিবাসন পরিচয় বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় না। করসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পৃথক বিষয়।

বাংলাদেশের আয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানাতে হবে কি না

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং করের হিসাবে আবাসিক ব্যক্তিদের সাধারণভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া আয় কর রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। ফলে বাংলাদেশে ব্যাংকের সুদ, বাড়িভাড়া কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আয় থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তা মার্কিন আয়কর রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতে হতে পারে।

বিদেশ থেকে পাওয়া আয় ঘোষণা করা এবং বিদেশে থাকা ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানানো দুটি আলাদা দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত প্রতিবেদন বা এফবিএআর নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযোজ্য মার্কিন ব্যক্তির বিদেশি আর্থিক হিসাবগুলোর সম্মিলিত মূল্য ক্যালেন্ডার বছরের যেকোনো সময়ে ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে সাধারণভাবে এফবিএআর জমা দিতে হয়। একাধিক বিদেশি ব্যাংক হিসাব থাকলে প্রতিটির মূল্য আলাদাভাবে নয়, সম্মিলিত মূল্য বিবেচনা করা হয়। ফিনসেন ফর্ম ১১৪ ব্যবহার করে এ প্রতিবেদন আলাদাভাবে জমা দিতে হয়।

বাংলাদেশে নিজের নামে জমি বা ফ্ল্যাট থাকলেই সেটি এফবিএআর অথবা ফর্ম ৮৯৩৮-এ জানাতে হবে, এমন নয়। সরাসরি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশি আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। তবে কোনো সম্পত্তি বিদেশি কোম্পানি, অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টের মাধ্যমে রাখা হলে মালিকানার ধরন অনুযায়ী আলাদা প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।

বিদেশি আর্থিক সম্পদের তথ্য জানানোর জন্য ফর্ম ৮৯৩৮-এর নিয়মও রয়েছে। এ ফর্ম জমা দিতে হবে কি না, তা নির্ভর করে সম্পদের মূল্য, করদাতার রিটার্ন জমার ধরন এবং যুক্তরাষ্ট্রে নাকি দেশের বাইরে বসবাস করছেন, তার ওপর। ফলে এফবিএআর জমা দিলেই ফর্ম ৮৯৩৮-সংক্রান্ত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আবার কোনো সম্পদের তথ্য জানাতে হয় বলেই তার পুরো মূল্যের ওপর নতুন করে কর দিতে হবে, এমন নয়।

সন্তানদের জন্য কর ক্রেডিট ও আর্থিক সুবিধা

সন্তানদের জন্য কর সুবিধা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি শিশুর জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৬ করবর্ষেও এ ক্রেডিটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সর্বোচ্চ ক্রেডিটের অঙ্ক জানলেই সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত হয় না। শিশুর যোগ্যতা, পরিবারের আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসংক্রান্ত প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণও করদাতার আয় ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ২০২৫ করবর্ষে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা করদাতাদের জন্য এ ক্রেডিটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৪৬ ডলার। ২০২৬ করবর্ষে তা বেড়ে ৮ হাজার ২৩১ ডলার হয়েছে। তবে প্রকৃত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে যোগ্য সন্তানের সংখ্যা, আয়, রিটার্ন জমার ধরন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসংক্রান্ত শর্তের ওপর।

স্বাস্থ্যবিমার নথি ও অভিবাসন স্পন্সরশিপের কাগজপত্র

আয়কর রিটার্ন তৈরির আগে আয়ের প্রমাণ, ব্যয়ের নথি এবং প্রযোজ্য কর ছাড় ও ক্রেডিটের কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা উচিত। স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নেওয়া হলে ফর্ম ১০৯৫-এ গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ফর্মের তথ্যের ভিত্তিতে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট এবং আগাম পাওয়া আর্থিক সহায়তার হিসাব সমন্বয় করতে হয়।

অভিবাসনসংক্রান্ত আর্থিক স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে সব পরিস্থিতিতে আগের তিন বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার ফর্ম আই-৮৬৪-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে সর্বশেষ করবর্ষের কেন্দ্রীয় আয়কর রিটার্ন বা কর প্রতিলিপির তথ্য দিতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বছরের নথিও জমা দেওয়া যেতে পারে।

আয়কর প্রস্তুতকারী নিয়োগে যে সতর্কতা প্রয়োজন

পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আয়কর রিটার্ন তৈরি করানোর ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারীর পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী, পারিশ্রমিক নিয়ে রিটার্ন প্রস্তুতকারীকে রিটার্নে স্বাক্ষর করতে এবং নিজের প্রস্তুতকারক কর শনাক্তকরণ নম্বর বা পিটিআইএন উল্লেখ করতে হয়।

কখনোই ফাঁকা আয়কর রিটার্নে স্বাক্ষর করা উচিত নয়। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়ের হিসাব, দাবি করা ব্যয়, কর ক্রেডিট এবং অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য দেওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। জমা দেওয়া রিটার্নের একটি কপিও নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

ব্যক্তিগত আয়, বিদেশি সম্পদ, অভিবাসন পরিচয় কিংবা একাধিক দেশের করসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে যোগ্য সনদপ্রাপ্ত পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনরোলড এজেন্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।