আপিল আদালতের আদেশে ফের স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি
- প্রকাশঃ ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫
- / 2
ওয়াশিংটন, ৩০ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন পুনরায় চালুর বিষয়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২০২৭ অর্থবছরের গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন বন্ধ রাখার সুযোগ পাচ্ছে মার্কিন সরকার। এতে ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরুর সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সরকারের জরুরি আবেদন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এর আগে ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল জেলা আদালত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্তে ডিভি লটারির বিষয়ে সরকারের মূল আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি। তবে আপিল চলাকালে নিম্ন আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকবে না। ফলে পররাষ্ট্র দপ্তর আপাতত নিবন্ধন চালু না করেই কর্মসূচি স্থগিত রাখতে পারবে।
ডাইভার্সিটি ভিসা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
কংগ্রেসের উদ্যোগে ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে কর্মসূচিটি স্থায়ী রূপ পায়। এর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থায় তুলনামূলক কম প্রতিনিধিত্ব থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করা।
২০২৭ অর্থবছরের লটারির নিবন্ধন শুরু না হওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গত আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটি ডাইভার্সিটি ভিসার নির্বাচিত আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করে।
গত ১৪ অক্টোবর জেলা আদালতের বিচারক নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দিয়ে বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে এবং ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করার যোগ্যতা সম্পর্কে অবহিত করার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্দেশটির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানায়। ২৯ অক্টোবর বিচারক এম. মার্গারেট ম্যাককিওন, এন. র্যান্ডি স্মিথ ও হলি এ. থমাসের সমন্বয়ে গঠিত আপিল আদালতের প্যানেল সরকারের আবেদন মঞ্জুর করেন।
আপিল আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত জানিয়েছে, ডিভি লটারির নিবন্ধন না খোলার বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এর ফলে কার্যত ২০২৭ অর্থবছরের কর্মসূচি বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে আপিল আদালতের মতে, রেড ঈগল ল মামলার মূল বিষয়বস্তুতে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখাতে পারেনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ডাইভার্সিটি ভিসা কর্মসূচি আইনপ্রণেতারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর জন্য, আইনজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় তৈরির জন্য নয়। রেড ঈগল ল-এর আর্থিক স্বার্থ কর্মসূচিটির আইনি উদ্দেশ্যের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পর্কিত নয় বলেও মন্তব্য করেন বিচারকেরা।
বিচারক র্যান্ডি স্মিথ পৃথক সম্মতিমূলক মতামতে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিকভাবে মামলা করার অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্ত সরকারের মূল আপিলের চূড়ান্ত রায় নয়। আপিলের পরবর্তী শুনানি ও নিষ্পত্তির ওপর ডিভি-২০২৭ নিবন্ধন চালুর বিষয়টি নির্ভর করবে।
নতুন মামলা করার প্রস্তুতি
রেড ঈগল ল-এর মালিক কার্টিস মরিসন নিউজউইককে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের নিবন্ধন চালু না করার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে তাঁদের প্রতিষ্ঠান দ্রুত নতুন আইনি পদক্ষেপ নেবে।
মরিসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১, এইচ-১বি অথবা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় বসবাস করছেন, এমন একজন বিদেশি নাগরিককে মামলার বাদী হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য বাদী যেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কায় পিছিয়ে না যান, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউজউইক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কোনো জবাব পায়নি।
ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন কবে শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপিল আদালতের আদেশে আগের সময়সূচি কার্যকর রাখার বাধ্যবাধকতা স্থগিত হওয়ায় আবেদনপ্রত্যাশীদের পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্ত ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।
সূত্র: নিউজউইক





























