ঢাকা ১০:০৮ , Tue, ২৭ Oct ২০২৬
যুক্তরাজ্য
লন্ডন

যানবাহনমুক্ত হলো লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিট, বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক শপিং এলাকা

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৩
  • / 3
লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ যানবাহনমুক্ত করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

লন্ডন, ২৮ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – কালো ট্যাক্সি, লাল দোতলা বাস আর যানবাহনের কোলাহলে পরিচিত লন্ডনের বিখ্যাত শপিং এলাকা অক্সফোর্ড স্ট্রিটের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখন যানবাহনমুক্ত। গত ২৬ অক্টোবর থেকে গ্রেট পোর্টল্যান্ড স্ট্রিট ও অর্চার্ড স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশে বাস, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সাইকেলসহ অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। পথচারীদের জন্য আরও উন্মুক্ত ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসা চাঙা করাই উদ্যোগটির লক্ষ্য।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের পরিকল্পনায় নেওয়া এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে রাস্তাটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ যানবাহনমুক্ত করা হয়েছে। অক্সফোর্ড স্ট্রিট উন্নয়ন করপোরেশন জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে পথচারীদের চলাচলের সুযোগ বাড়ানো হবে। বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন ও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে স্থায়ী নকশা চূড়ান্ত করা হবে।

অক্সফোর্ড স্ট্রিট যুক্তরাজ্যের অন্যতম পরিচিত কেনাকাটার কেন্দ্র। সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে বছরে প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ডের খুচরা কেনাকাটা হয়। কর্মসংস্থান, পর্যটন ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে অনলাইন কেনাকাটার প্রসার, ক্রেতাদের ব্যয়সংকোচন এবং দোকানপাটের ধরন বদলে যাওয়ায় এলাকাটির আকর্ষণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মেয়র সাদিক খানের পরিকল্পনা হলো, যানবাহনের চাপ কমিয়ে অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে এমন একটি জনপরিসরে রূপ দেওয়া, যেখানে মানুষ স্বচ্ছন্দে হাঁটতে, কেনাকাটা করতে এবং অবসর কাটাতে পারবেন। তাঁর প্রশাসনের আশা, পথচারীদের জন্য জায়গা বাড়লে ক্রেতাদের আনাগোনা ও কেনাকাটা বাড়বে। এতে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে ৫০টির বেশি গাছ, ১০০টির বেশি বসার আসন, দুটি উন্মুক্ত চত্বর, বিশ্রামের জায়গা এবং উন্নত নির্দেশক চিহ্ন স্থাপনের কথা রয়েছে। নতুন নকশা চূড়ান্ত করার আগে অস্থায়ী ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জনসাধারণের মতামত মূল্যায়ন করা হবে।

তবে উদ্যোগটি নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টার কাউন্সিলের মতো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কিছু বাসিন্দা আশঙ্কা করছেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিট থেকে যানবাহন সরিয়ে আশপাশের সড়কে চাপ বাড়তে পারে। বাসের রুট পরিবর্তন, যানজট, শব্দদূষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বাসগুলোকে আশপাশের সড়কে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উইগমোর স্ট্রিট, হেনরিয়েটা প্লেস ও ক্যাভেনডিশ প্লেসে নতুন বাসস্টপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। পণ্য সরবরাহের গাড়িগুলো নির্ধারিত পথে রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে।

অক্সফোর্ড স্ট্রিট উন্নয়ন করপোরেশনের ভাষ্য, যানবাহনমুক্ত অংশের আশপাশে চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে নতুন ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়কে তাই চূড়ান্ত রূপের আগে পরীক্ষা ও মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লন্ডনের এই উদ্যোগ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে পথচারীদের জন্য সড়ক উন্মুক্ত করার প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমর্থকদের মতে, এ ধরনের পরিকল্পনা শহরের জনপরিসর উন্নত করতে এবং হাঁটাচলা ও কেনাকাটার পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে পারে। তবে অক্সফোর্ড স্ট্রিটে যানবাহন কমানোর ফলে আশপাশের এলাকায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নির্ধারণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রাথমিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে পথচারীদের অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পরিবহন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ওপর। পরিকল্পনাটি সফল হলে লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক সড়কের ব্যবহার ও চেহারায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

যানবাহনমুক্ত হলো লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিট, বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক শপিং এলাকা

প্রকাশঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৩

লন্ডন, ২৮ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – কালো ট্যাক্সি, লাল দোতলা বাস আর যানবাহনের কোলাহলে পরিচিত লন্ডনের বিখ্যাত শপিং এলাকা অক্সফোর্ড স্ট্রিটের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখন যানবাহনমুক্ত। গত ২৬ অক্টোবর থেকে গ্রেট পোর্টল্যান্ড স্ট্রিট ও অর্চার্ড স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশে বাস, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সাইকেলসহ অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। পথচারীদের জন্য আরও উন্মুক্ত ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসা চাঙা করাই উদ্যোগটির লক্ষ্য।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের পরিকল্পনায় নেওয়া এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে রাস্তাটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ যানবাহনমুক্ত করা হয়েছে। অক্সফোর্ড স্ট্রিট উন্নয়ন করপোরেশন জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে পথচারীদের চলাচলের সুযোগ বাড়ানো হবে। বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন ও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে স্থায়ী নকশা চূড়ান্ত করা হবে।

অক্সফোর্ড স্ট্রিট যুক্তরাজ্যের অন্যতম পরিচিত কেনাকাটার কেন্দ্র। সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে বছরে প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ডের খুচরা কেনাকাটা হয়। কর্মসংস্থান, পর্যটন ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে অনলাইন কেনাকাটার প্রসার, ক্রেতাদের ব্যয়সংকোচন এবং দোকানপাটের ধরন বদলে যাওয়ায় এলাকাটির আকর্ষণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মেয়র সাদিক খানের পরিকল্পনা হলো, যানবাহনের চাপ কমিয়ে অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে এমন একটি জনপরিসরে রূপ দেওয়া, যেখানে মানুষ স্বচ্ছন্দে হাঁটতে, কেনাকাটা করতে এবং অবসর কাটাতে পারবেন। তাঁর প্রশাসনের আশা, পথচারীদের জন্য জায়গা বাড়লে ক্রেতাদের আনাগোনা ও কেনাকাটা বাড়বে। এতে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে ৫০টির বেশি গাছ, ১০০টির বেশি বসার আসন, দুটি উন্মুক্ত চত্বর, বিশ্রামের জায়গা এবং উন্নত নির্দেশক চিহ্ন স্থাপনের কথা রয়েছে। নতুন নকশা চূড়ান্ত করার আগে অস্থায়ী ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জনসাধারণের মতামত মূল্যায়ন করা হবে।

তবে উদ্যোগটি নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টার কাউন্সিলের মতো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কিছু বাসিন্দা আশঙ্কা করছেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিট থেকে যানবাহন সরিয়ে আশপাশের সড়কে চাপ বাড়তে পারে। বাসের রুট পরিবর্তন, যানজট, শব্দদূষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বাসগুলোকে আশপাশের সড়কে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উইগমোর স্ট্রিট, হেনরিয়েটা প্লেস ও ক্যাভেনডিশ প্লেসে নতুন বাসস্টপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। পণ্য সরবরাহের গাড়িগুলো নির্ধারিত পথে রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে।

অক্সফোর্ড স্ট্রিট উন্নয়ন করপোরেশনের ভাষ্য, যানবাহনমুক্ত অংশের আশপাশে চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে নতুন ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়কে তাই চূড়ান্ত রূপের আগে পরীক্ষা ও মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লন্ডনের এই উদ্যোগ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে পথচারীদের জন্য সড়ক উন্মুক্ত করার প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমর্থকদের মতে, এ ধরনের পরিকল্পনা শহরের জনপরিসর উন্নত করতে এবং হাঁটাচলা ও কেনাকাটার পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে পারে। তবে অক্সফোর্ড স্ট্রিটে যানবাহন কমানোর ফলে আশপাশের এলাকায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নির্ধারণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রাথমিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে পথচারীদের অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পরিবহন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ওপর। পরিকল্পনাটি সফল হলে লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক সড়কের ব্যবহার ও চেহারায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে।