ঢাকা ০৩:৩১ , Tue, ০৩ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ, আবেদন শেষ ৩ ও ১৫ নভেম্বর

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:১৭
  • / 3
যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের বৃত্তি ও গবেষণা সহায়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ৩ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে চারটি বৃত্তি ও অর্থসহায়তার সুযোগ এসেছে। এসব কর্মসূচির আওতায় চার বছর মেয়াদি সম্পূর্ণ অর্থায়নে স্নাতক শিক্ষা, বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলারের গবেষণা সহায়তা এবং ১ হাজার থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কর্মসূচির আবেদন ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সেগুলোর সময়সীমা পড়ছে ৪ নভেম্বর।

সুযোগগুলো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়, খাবার প্রতিষ্ঠান চিক-ফিল-এ এবং আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংস্থা আইএসএসিএ। তবে চারটি কর্মসূচির যোগ্যতা, অর্থায়নের ধরন ও আবেদনের নিয়ম এক নয়। কোনোটি নির্দিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে, কোনোটি প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য। আবার কোনো বৃত্তিতে আবেদন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব বৃত্তিতে দেশের ভেতরে অবস্থান করে আবেদন করার সুযোগ নেই। তবে আইএসএসিএর ডিজিটাল ট্রাস্ট বৃত্তিতে বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ সরাসরি যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে।

অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বছরে ২৫ থেকে ২৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক কলেজে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থী নেওয়া হচ্ছে। পাইনগাছের বংশগত বৈশিষ্ট্য, বনভূমির স্থিতিশীলতা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে গাছের অভিযোজনক্ষমতা নিয়ে দুটি গবেষণা প্রকল্পে কাজের সুযোগ রয়েছে।

প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি দুটি স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী অথবা একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী নিতে চায়। নির্বাচিত গবেষকেরা বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলার অর্থসহায়তা পাবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৬। গবেষণার কাজ শুরু হতে পারে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে অথবা একই বছরের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে।

প্রথম গবেষণায় লবললি পাইনগাছের বংশগত বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধির হার, কাণ্ডের গঠন এবং কাঠের গুণগত মান নিয়ে কাজ করা হবে। বিদ্যমান বংশগত ও বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন ধরনের গাছ বন ব্যবস্থাপনা ও কাঠ উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী, তা নির্ধারণের চেষ্টা করবেন গবেষকেরা। পাশাপাশি গাছের বৃদ্ধির পূর্বাভাস, বনভূমির উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক দিকও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় গবেষণায় লবণাক্ত মাটিতে পাইনগাছের চারা টিকে থাকা ও বেড়ে ওঠার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে গাছের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা উপকারী ছত্রাক চারার বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখে, তা অনুসন্ধান করা হবে। এ জন্য পরীক্ষাগার, গ্রিনহাউস এবং আলাবামার বিভিন্ন স্থানে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হবে।

পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী চাইলে দুটি প্রকল্পের বিষয় একত্র করে নিজের গবেষণাপত্র তৈরি করতে পারবেন। বনবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিসংখ্যান অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

আবেদনের জন্য জীবনবৃত্তান্ত, গবেষণার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক পৃষ্ঠার বিবৃতি, অনানুষ্ঠানিক নম্বরপত্র এবং তিনজন সুপারিশকারীর যোগাযোগের তথ্য একত্র করে একটি পিডিএফ ফাইল তৈরি করতে হবে।

আবেদনপত্র পাঠাতে হবে অধ্যাপক হাও চেনের কাছে। অনুলিপিতে রাখতে হবে অধ্যাপক ক্রিস অ্যান্ডারসন ও অধ্যাপক অজয় শর্মাকে। ইমেইল ঠিকানা যথাক্রমে hzc0134@auburn.edu, andercj@auburn.edu এবং azs0365@auburn.edu। আবেদনপত্রে কোন ডিগ্রির জন্য আবেদন করছেন এবং কোন গবেষণা প্রকল্পে আগ্রহী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

তবে বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলার অর্থসহায়তার উল্লেখ থাকলেও এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফের বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অর্থায়নের বিস্তারিত শর্ত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

কিং-মরিজ বৃত্তিতে চার বছরের সম্পূর্ণ অর্থায়ন

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ স্কলারস কর্মসূচি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চার বছর মেয়াদি স্নাতক বৃত্তি দিচ্ছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আট সেমিস্টার পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত হন। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নির্ধারিত ফি, আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, বিমানযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। এ ছাড়া ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারবেন।

তবে এই বৃত্তির জন্য আবেদনকারীদের প্রথমবারের মতো স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে হবে। অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হওয়া, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়া কিংবা ইতিমধ্যে কোনো উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির জন্য যোগ্য নন।

আবেদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাম ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে হবে এবং ওই কার্যক্রমের আওতায় ভর্তির সিদ্ধান্ত পেতে হবে। ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাম ভর্তির আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১ নভেম্বর ২০২৬। বৃত্তির পৃথক আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর।

ফলে যাঁরা ১ নভেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগাম ভর্তির আবেদন করেননি, তাঁরা চলতি চক্রে এই বৃত্তির জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন না। অন্যদিকে, যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি আবেদন করেছেন এবং আগাম ভর্তি কার্যক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বৃত্তির আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীদের আর্থিক প্রয়োজন, শিক্ষাগত সাফল্য, নেতৃত্বের গুণাবলি, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং নিজ দেশের দারিদ্র্য ও উন্নয়নসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগ্রহ বিবেচনা করা হবে। স্নাতক শেষ করে নিজ দেশে ফিরে সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদনের সঙ্গে ৫০০ থেকে ৭০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। এতে নিজ দেশের কোনো দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক বা সামাজিক উন্নয়নসংক্রান্ত সমস্যা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সেটি সমাধানের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে হবে।

চিক-ফিল-এ বৃত্তিতে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের খাবার প্রতিষ্ঠান চিক-ফিল-এ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য কমিউনিটি স্কলারস বৃত্তি দিচ্ছে। এ কর্মসূচিতে প্রতিবছর ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হয়। আবেদনের শেষ দিন ৩ নভেম্বর ২০২৬।

বৃত্তির অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, ভর্তি ফি, বই এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত খরচে ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এক বছরব্যাপী নেতৃত্ব বিকাশ ও পরামর্শদান কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাগত সাফল্য, সামাজিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন করা হবে।

তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তিতে বসবাসসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি ১৫ জুলাই ২০২৭ তারিখের মধ্যে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষে স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার পরিকল্পনাও থাকতে হবে। আবেদনের জন্য চার-পয়েন্ট স্কেলে ন্যূনতম তিন পয়েন্টের সমতুল্য শিক্ষাগত ফলাফলসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারবেন। এসব দেশে বসবাসকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাধ্যতামূলক বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। তবে বাংলাদেশ, কাতার কিংবা অন্য কোনো দেশে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা কেবল বাংলাদেশি পরিচয়ের ভিত্তিতে এই বৃত্তির জন্য যোগ্য হবেন না।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদন শেষ হবে ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় বিকেল ৩টায়। বাংলাদেশের সময়ের সঙ্গে ১২ ঘণ্টার পার্থক্য ধরলে সময়সীমাটি দাঁড়ায় ৪ নভেম্বর ভোর ৩টা। ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত কেউ যদি বসবাসের শর্ত পূরণ করে থাকেন, তাঁর জন্যও আবেদনের সময় খুব সীমিত।

আবেদনকারীদের শিক্ষাগত নম্বরপত্র, পরিবারের আয়সংক্রান্ত নির্ধারিত কাগজপত্র এবং সুপারিশকারীর তথ্য জমা দিতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের বসন্তকালে ফলাফল জানানো হবে।

আইএসএসিএর বৃত্তিতে বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীদের সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংস্থা আইএসএসিএর ডিজিটাল ট্রাস্ট বৃত্তি রয়েছে। এই কর্মসূচিতে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হবে।

বৃত্তিটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি বিশ্বের সব দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। ফলে বাংলাদেশে, যুক্তরাষ্ট্রে, কাতারে কিংবা অন্য কোনো দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। স্বীকৃত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকতে হবে কিংবা ভর্তির অনুমতি থাকতে হবে। পড়াশোনার বিষয় হতে হবে তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, পরিচালনব্যবস্থা, নিশ্চয়তা প্রদান অথবা সংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষেত্র।

আবেদনের সঙ্গে একজন শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শক, কর্মস্থলের দায়িত্বশীল ব্যক্তি অথবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের তত্ত্বাবধায়কের সুপারিশপত্র দিতে হবে। আবেদন করতে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে হিসাব খুলে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভর্তির প্রমাণও জমা দিতে হবে।

আইএসএসিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময়। বাংলাদেশে তখন ৪ নভেম্বর সকাল ১১টা ৫৯ মিনিট। অর্থাৎ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা স্থানীয় হিসাবে আগামীকাল দুপুরের আগে শেষ হবে।

নির্বাচিত ১৪ জনের প্রত্যেকে আর্থিক প্রয়োজন, নিজ দেশের শিক্ষাব্যয় এবং মেধার ভিত্তিতে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার পাবেন। অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এই বৃত্তির সঙ্গে আরও কিছু পেশাগত সুবিধা রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এক বছরের শিক্ষার্থী সদস্যপদ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, অনলাইন সনদ কোর্স, সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে বৃত্তি পাওয়ার পর ২০২৭ সালে সংস্থাটির অন্তত একটি সরাসরি অথবা অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হবে। এ ছাড়া পরবর্তী দুই বছর বছরে দুবার নিজের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের অগ্রগতি সম্পর্কে সংস্থাকে জানাতে হবে।

কোন শিক্ষার্থীর জন্য কোন সুযোগ

চারটি কর্মসূচির যোগ্যতা ও অর্থায়নের ধরন বিবেচনায় আবেদনকারীদের নিজেদের শিক্ষাগত পর্যায়, বিষয় এবং বর্তমান বসবাসের স্থান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বনবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহায়তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিশেষ করে বনভূমি, উদ্ভিদের বংশগত বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য এখানে কাজের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে প্রথমবার স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে যাওয়া এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে এ ক্ষেত্রে ১ নভেম্বরের মধ্যে আগাম ভর্তি আবেদন করা এবং ওই কার্যক্রমে ভর্তির সিদ্ধান্ত পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা আইএসএসিএর বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। এ কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা বসবাসের শর্ত নেই। ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি সরাসরি আবেদনের সুযোগ।

চিক-ফিল-এ বৃত্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে। এ শর্ত পূরণ না হলে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশ থেকে সরাসরি আবেদন করে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ নেই।

আবেদনের আগে যেসব বিষয় যাচাই জরুরি

বিদেশে বৃত্তির আবেদন করার সময় অর্থের পরিমাণের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত, অর্থায়নের মেয়াদ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বৃত্তির অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে গবেষণা সহায়তার ক্ষেত্রে বার্ষিক অর্থের পরিমাণ দেখেই পুরো শিক্ষাব্যয় বিনা মূল্যে হবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলার অর্থসহায়তার কথা বলা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফের বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

একইভাবে, কোনো বৃত্তির ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেই আবেদনকারী নির্বাচিত হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অসম্পূর্ণ কাগজপত্র কিংবা যোগ্যতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সময়সীমা হলো চিক-ফিল-এ ও আইএসএসিএর বৃত্তি। দুটির আবেদনই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় অনুযায়ী ৩ নভেম্বর শেষ হলেও বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী যথাক্রমে ৪ নভেম্বর ভোর ৩টা এবং সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে।

অন্যদিকে, অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহায়তা এবং উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ বৃত্তির আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর। তবে কিং-মরিজ বৃত্তির ক্ষেত্রে আগাম ভর্তি আবেদনের শর্ত ইতিমধ্যে পূরণ করা থাকতে হবে।

আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সময়সীমা আবারও যাচাই করা জরুরি। বৃত্তি নিশ্চিত করার নামে কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দেওয়া উচিত নয়। নির্ভুল তথ্য, প্রয়োজনীয় নথি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করাই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ, আবেদন শেষ ৩ ও ১৫ নভেম্বর

প্রকাশঃ ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:১৭

ঢাকা, ৩ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে চারটি বৃত্তি ও অর্থসহায়তার সুযোগ এসেছে। এসব কর্মসূচির আওতায় চার বছর মেয়াদি সম্পূর্ণ অর্থায়নে স্নাতক শিক্ষা, বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলারের গবেষণা সহায়তা এবং ১ হাজার থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কর্মসূচির আবেদন ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সেগুলোর সময়সীমা পড়ছে ৪ নভেম্বর।

সুযোগগুলো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়, খাবার প্রতিষ্ঠান চিক-ফিল-এ এবং আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংস্থা আইএসএসিএ। তবে চারটি কর্মসূচির যোগ্যতা, অর্থায়নের ধরন ও আবেদনের নিয়ম এক নয়। কোনোটি নির্দিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে, কোনোটি প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য। আবার কোনো বৃত্তিতে আবেদন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব বৃত্তিতে দেশের ভেতরে অবস্থান করে আবেদন করার সুযোগ নেই। তবে আইএসএসিএর ডিজিটাল ট্রাস্ট বৃত্তিতে বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ সরাসরি যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে।

অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বছরে ২৫ থেকে ২৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক কলেজে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থী নেওয়া হচ্ছে। পাইনগাছের বংশগত বৈশিষ্ট্য, বনভূমির স্থিতিশীলতা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে গাছের অভিযোজনক্ষমতা নিয়ে দুটি গবেষণা প্রকল্পে কাজের সুযোগ রয়েছে।

প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি দুটি স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী অথবা একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী নিতে চায়। নির্বাচিত গবেষকেরা বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলার অর্থসহায়তা পাবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৬। গবেষণার কাজ শুরু হতে পারে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে অথবা একই বছরের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে।

প্রথম গবেষণায় লবললি পাইনগাছের বংশগত বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধির হার, কাণ্ডের গঠন এবং কাঠের গুণগত মান নিয়ে কাজ করা হবে। বিদ্যমান বংশগত ও বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন ধরনের গাছ বন ব্যবস্থাপনা ও কাঠ উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী, তা নির্ধারণের চেষ্টা করবেন গবেষকেরা। পাশাপাশি গাছের বৃদ্ধির পূর্বাভাস, বনভূমির উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক দিকও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় গবেষণায় লবণাক্ত মাটিতে পাইনগাছের চারা টিকে থাকা ও বেড়ে ওঠার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে গাছের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা উপকারী ছত্রাক চারার বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখে, তা অনুসন্ধান করা হবে। এ জন্য পরীক্ষাগার, গ্রিনহাউস এবং আলাবামার বিভিন্ন স্থানে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হবে।

পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী চাইলে দুটি প্রকল্পের বিষয় একত্র করে নিজের গবেষণাপত্র তৈরি করতে পারবেন। বনবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিসংখ্যান অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

আবেদনের জন্য জীবনবৃত্তান্ত, গবেষণার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক পৃষ্ঠার বিবৃতি, অনানুষ্ঠানিক নম্বরপত্র এবং তিনজন সুপারিশকারীর যোগাযোগের তথ্য একত্র করে একটি পিডিএফ ফাইল তৈরি করতে হবে।

আবেদনপত্র পাঠাতে হবে অধ্যাপক হাও চেনের কাছে। অনুলিপিতে রাখতে হবে অধ্যাপক ক্রিস অ্যান্ডারসন ও অধ্যাপক অজয় শর্মাকে। ইমেইল ঠিকানা যথাক্রমে hzc0134@auburn.edu, andercj@auburn.edu এবং azs0365@auburn.edu। আবেদনপত্রে কোন ডিগ্রির জন্য আবেদন করছেন এবং কোন গবেষণা প্রকল্পে আগ্রহী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

তবে বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলার অর্থসহায়তার উল্লেখ থাকলেও এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফের বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অর্থায়নের বিস্তারিত শর্ত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

কিং-মরিজ বৃত্তিতে চার বছরের সম্পূর্ণ অর্থায়ন

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ স্কলারস কর্মসূচি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চার বছর মেয়াদি স্নাতক বৃত্তি দিচ্ছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আট সেমিস্টার পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত হন। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নির্ধারিত ফি, আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, বিমানযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। এ ছাড়া ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারবেন।

তবে এই বৃত্তির জন্য আবেদনকারীদের প্রথমবারের মতো স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে হবে। অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হওয়া, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়া কিংবা ইতিমধ্যে কোনো উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির জন্য যোগ্য নন।

আবেদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাম ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে হবে এবং ওই কার্যক্রমের আওতায় ভর্তির সিদ্ধান্ত পেতে হবে। ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাম ভর্তির আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১ নভেম্বর ২০২৬। বৃত্তির পৃথক আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর।

ফলে যাঁরা ১ নভেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগাম ভর্তির আবেদন করেননি, তাঁরা চলতি চক্রে এই বৃত্তির জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন না। অন্যদিকে, যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি আবেদন করেছেন এবং আগাম ভর্তি কার্যক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বৃত্তির আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীদের আর্থিক প্রয়োজন, শিক্ষাগত সাফল্য, নেতৃত্বের গুণাবলি, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং নিজ দেশের দারিদ্র্য ও উন্নয়নসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগ্রহ বিবেচনা করা হবে। স্নাতক শেষ করে নিজ দেশে ফিরে সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদনের সঙ্গে ৫০০ থেকে ৭০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। এতে নিজ দেশের কোনো দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক বা সামাজিক উন্নয়নসংক্রান্ত সমস্যা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সেটি সমাধানের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে হবে।

চিক-ফিল-এ বৃত্তিতে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের খাবার প্রতিষ্ঠান চিক-ফিল-এ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য কমিউনিটি স্কলারস বৃত্তি দিচ্ছে। এ কর্মসূচিতে প্রতিবছর ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হয়। আবেদনের শেষ দিন ৩ নভেম্বর ২০২৬।

বৃত্তির অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, ভর্তি ফি, বই এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত খরচে ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এক বছরব্যাপী নেতৃত্ব বিকাশ ও পরামর্শদান কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাগত সাফল্য, সামাজিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন করা হবে।

তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তিতে বসবাসসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি ১৫ জুলাই ২০২৭ তারিখের মধ্যে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষে স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার পরিকল্পনাও থাকতে হবে। আবেদনের জন্য চার-পয়েন্ট স্কেলে ন্যূনতম তিন পয়েন্টের সমতুল্য শিক্ষাগত ফলাফলসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারবেন। এসব দেশে বসবাসকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাধ্যতামূলক বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। তবে বাংলাদেশ, কাতার কিংবা অন্য কোনো দেশে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা কেবল বাংলাদেশি পরিচয়ের ভিত্তিতে এই বৃত্তির জন্য যোগ্য হবেন না।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদন শেষ হবে ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় বিকেল ৩টায়। বাংলাদেশের সময়ের সঙ্গে ১২ ঘণ্টার পার্থক্য ধরলে সময়সীমাটি দাঁড়ায় ৪ নভেম্বর ভোর ৩টা। ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত কেউ যদি বসবাসের শর্ত পূরণ করে থাকেন, তাঁর জন্যও আবেদনের সময় খুব সীমিত।

আবেদনকারীদের শিক্ষাগত নম্বরপত্র, পরিবারের আয়সংক্রান্ত নির্ধারিত কাগজপত্র এবং সুপারিশকারীর তথ্য জমা দিতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের বসন্তকালে ফলাফল জানানো হবে।

আইএসএসিএর বৃত্তিতে বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীদের সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংস্থা আইএসএসিএর ডিজিটাল ট্রাস্ট বৃত্তি রয়েছে। এই কর্মসূচিতে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হবে।

বৃত্তিটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি বিশ্বের সব দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। ফলে বাংলাদেশে, যুক্তরাষ্ট্রে, কাতারে কিংবা অন্য কোনো দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। স্বীকৃত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকতে হবে কিংবা ভর্তির অনুমতি থাকতে হবে। পড়াশোনার বিষয় হতে হবে তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, পরিচালনব্যবস্থা, নিশ্চয়তা প্রদান অথবা সংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষেত্র।

আবেদনের সঙ্গে একজন শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শক, কর্মস্থলের দায়িত্বশীল ব্যক্তি অথবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের তত্ত্বাবধায়কের সুপারিশপত্র দিতে হবে। আবেদন করতে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে হিসাব খুলে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভর্তির প্রমাণও জমা দিতে হবে।

আইএসএসিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময়। বাংলাদেশে তখন ৪ নভেম্বর সকাল ১১টা ৫৯ মিনিট। অর্থাৎ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা স্থানীয় হিসাবে আগামীকাল দুপুরের আগে শেষ হবে।

নির্বাচিত ১৪ জনের প্রত্যেকে আর্থিক প্রয়োজন, নিজ দেশের শিক্ষাব্যয় এবং মেধার ভিত্তিতে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার পাবেন। অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এই বৃত্তির সঙ্গে আরও কিছু পেশাগত সুবিধা রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এক বছরের শিক্ষার্থী সদস্যপদ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, অনলাইন সনদ কোর্স, সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে বৃত্তি পাওয়ার পর ২০২৭ সালে সংস্থাটির অন্তত একটি সরাসরি অথবা অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হবে। এ ছাড়া পরবর্তী দুই বছর বছরে দুবার নিজের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের অগ্রগতি সম্পর্কে সংস্থাকে জানাতে হবে।

কোন শিক্ষার্থীর জন্য কোন সুযোগ

চারটি কর্মসূচির যোগ্যতা ও অর্থায়নের ধরন বিবেচনায় আবেদনকারীদের নিজেদের শিক্ষাগত পর্যায়, বিষয় এবং বর্তমান বসবাসের স্থান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বনবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহায়তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিশেষ করে বনভূমি, উদ্ভিদের বংশগত বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য এখানে কাজের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে প্রথমবার স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে যাওয়া এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে এ ক্ষেত্রে ১ নভেম্বরের মধ্যে আগাম ভর্তি আবেদন করা এবং ওই কার্যক্রমে ভর্তির সিদ্ধান্ত পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা আইএসএসিএর বৃত্তিতে আবেদন করতে পারেন। এ কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা বসবাসের শর্ত নেই। ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি সরাসরি আবেদনের সুযোগ।

চিক-ফিল-এ বৃত্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে। এ শর্ত পূরণ না হলে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশ থেকে সরাসরি আবেদন করে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ নেই।

আবেদনের আগে যেসব বিষয় যাচাই জরুরি

বিদেশে বৃত্তির আবেদন করার সময় অর্থের পরিমাণের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত, অর্থায়নের মেয়াদ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বৃত্তির অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে গবেষণা সহায়তার ক্ষেত্রে বার্ষিক অর্থের পরিমাণ দেখেই পুরো শিক্ষাব্যয় বিনা মূল্যে হবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলার অর্থসহায়তার কথা বলা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফের বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

একইভাবে, কোনো বৃত্তির ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেই আবেদনকারী নির্বাচিত হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অসম্পূর্ণ কাগজপত্র কিংবা যোগ্যতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সময়সীমা হলো চিক-ফিল-এ ও আইএসএসিএর বৃত্তি। দুটির আবেদনই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় অনুযায়ী ৩ নভেম্বর শেষ হলেও বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী যথাক্রমে ৪ নভেম্বর ভোর ৩টা এবং সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে।

অন্যদিকে, অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহায়তা এবং উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ বৃত্তির আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর। তবে কিং-মরিজ বৃত্তির ক্ষেত্রে আগাম ভর্তি আবেদনের শর্ত ইতিমধ্যে পূরণ করা থাকতে হবে।

আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সময়সীমা আবারও যাচাই করা জরুরি। বৃত্তি নিশ্চিত করার নামে কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দেওয়া উচিত নয়। নির্ভুল তথ্য, প্রয়োজনীয় নথি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করাই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি।