খাবার খেতে বেরিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সংঘর্ষে আহত ৫
- প্রকাশঃ ০১:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 47
খাবারের সন্ধানে হলের বাইরে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলের অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষমোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চারজন ঈশা খাঁ হল এবং একজন মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—ঈশা খাঁ হলের পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম, ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর ও ইমন, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর এবং মাওলানা ভাসানী হলের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়েকজন বহিরাগত ঈশা খাঁ হল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাদের চোর সন্দেহে আটক করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে হল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বহিরাগতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর জেরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা খাবার খেতে শেষমোড় এলাকায় গেলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের চলাচলে বাধা দেন। একপর্যায়ে বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে লোহার পাইপের আঘাতে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায় এবং আরেকজনের নাক গুরুতরভাবে জখম হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঈশা খাঁ হলসহ অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম বলেন, পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঈশা খাঁ হলের একজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী বলেন, “প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেতে শেষমোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন স্থানীয় আমাদের বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে ইট ছোড়া শুরু করে। সামনে গেলে আমার দুইজন সিনিয়র ভাইয়ের একজনকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়।”
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, ঘটনার পর রাত ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শেষমোড় এলাকায় অবস্থান করেন। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে। নিয়ন্ত্রণে এলে বিস্তারিত জানানো যাবে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।






























