‘বাংলাদেশ-পাকিস্তানে গিয়ে নামাজ পড়ুন’—বিজেপি নেতার মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক
- প্রকাশঃ ১১:২০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 3
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচি ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির মধ্যে ঈদের নামাজের জন্য একই স্থানে অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা জানা গেছে।
এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে রেড রোড এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় গত ১৪ জুন রাত থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক ঈদুল আজহায় রেড রোডে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে মুসল্লিদের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যেতে বলা হয়েছিল। একই স্থানে যোগ দিবসের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ায় তারা এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কয়েকজন ইমাম ও ধর্মীয় নেতাও প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা স্বাভাবিক বিষয়। তার দাবি, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তুলনামূলক কম হবে, সেখানেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কর্মসূচির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হতেই পারে।
এ সময় তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, যারা এ নিয়ে আপত্তি করছেন তারা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্য লোক পাল্টেছে, আর এগুলো বন্ধ হবেই।
দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

























