ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পিছিয়ে ২২ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 2

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও হয়নি। আসামিপক্ষের সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আগামী ২২ জুন নির্ধারণ করেছেন।

রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন

আসামিপক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার মাহিন রহমান সময় প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন আসামির পক্ষে পূর্বে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দায়িত্ব পালন করছিলেন, যিনি মৃত্যুবরণ করায় নতুন আইনজীবী নিয়োগ প্রয়োজন। এ কারণে আরও সময় দরকার বলে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন। একই সঙ্গে আরেক আইনজীবীর অসুস্থতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী আদালতে উপস্থিত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিপক্ষের জেরা অব্যাহত রাখার সুযোগ রেখে এক থেকে দুই দিনের সময় দেওয়ার আবেদন জানান।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২২ জুন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

মামলার অগ্রগতি

মামলায় এদিন পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা ছিল। এর আগে ৩ জুন নির্ধারিত তারিখেও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সব মিলিয়ে দুই দফা এ তারিখ পেছাল।

এ পর্যন্ত মামলায় ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়।

আসামিদের অবস্থান

মামলায় মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

পলাতক রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পিছিয়ে ২২ জুন

প্রকাশঃ ০৩:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও হয়নি। আসামিপক্ষের সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আগামী ২২ জুন নির্ধারণ করেছেন।

রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন

আসামিপক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার মাহিন রহমান সময় প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন আসামির পক্ষে পূর্বে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দায়িত্ব পালন করছিলেন, যিনি মৃত্যুবরণ করায় নতুন আইনজীবী নিয়োগ প্রয়োজন। এ কারণে আরও সময় দরকার বলে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন। একই সঙ্গে আরেক আইনজীবীর অসুস্থতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী আদালতে উপস্থিত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিপক্ষের জেরা অব্যাহত রাখার সুযোগ রেখে এক থেকে দুই দিনের সময় দেওয়ার আবেদন জানান।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২২ জুন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

মামলার অগ্রগতি

মামলায় এদিন পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা ছিল। এর আগে ৩ জুন নির্ধারিত তারিখেও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সব মিলিয়ে দুই দফা এ তারিখ পেছাল।

এ পর্যন্ত মামলায় ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়।

আসামিদের অবস্থান

মামলায় মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

পলাতক রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।