ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ব্রাজিলের পর কুরাসাওকেও ‘সেভেন আপ’ খাওয়াল জার্মানি

  • প্রকাশঃ ০১:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 11

কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ের পর জার্মান ফুটবলারদের উদ্‌যাপন ছবি: সংগৃহীত


ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সপ্তম গোল করে জার্মানির বড় জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের ম্যাচের স্মৃতিও ফিরে আসে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে তাদের সময় লাগে মাত্র ৬ মিনিট। মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অভিষেক হওয়া কুরাসাও দ্রুতই ম্যাচে সমতা ফেরায়। ২১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঠেকাতে ব্যর্থ হন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে কুরাসাও।

গোল করার পর রেসলার জন সিনার পরিচিত উদ্‌যাপনও করেন কোমেনেনসিয়া। গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশের জন্য এটি ছিল স্মরণীয় এক মুহূর্ত।

সমতা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি জার্মানি। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানরা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় জার্মানি। কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন ফেলিক্স এনমেচা। স্পটকিক থেকে গোল করেন কাই হাভার্টজ। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় জার্মানি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি জার্মানি। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পঞ্চম গোল করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ৭৮তম মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই আসে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে।

ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল করেন কাই হাভার্টজ। তার গোলেই ৭-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ কারণে আলোচনায় আসে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক প্রধান কোচ কুরাসাওয়ের ডিক অ্যাডভোকাট, যার বয়স ৭৮ বছর। অন্যদিকে জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের বয়স ৩৮ বছর। দুই কোচের বয়সের পার্থক্য ৪০ বছর, যা ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রধান কোচের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ম্যাচের আগে ডিক অ্যাডভোকাট বলেছিলেন, তার দল জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, “কোচেরা সব সময়ই প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার পরিকল্পনা করেন। এই ম্যাচে জার্মানি যে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে, তা বলাই বাহুল্য। তারা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যেই ছোট দলগুলো বড় দলকে হারিয়ে দেয়। জার্মানির পাশে আমরা খুবই ছোট একটি দল, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাদের জন্য আমরা কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করব।”

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ স্পষ্ট ছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে তাদের অভিষেক ইতোমধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছে।

অন্যদিকে জার্মানি এই বড় জয়ের মাধ্যমে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এবার কুরাসাওকেও সাত গোলের স্বাদ দিল ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তিটি।

শেয়ার করুন

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ব্রাজিলের পর কুরাসাওকেও ‘সেভেন আপ’ খাওয়াল জার্মানি

প্রকাশঃ ০১:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ের পর জার্মান ফুটবলারদের উদ্‌যাপন ছবি: সংগৃহীত


ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সপ্তম গোল করে জার্মানির বড় জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের ম্যাচের স্মৃতিও ফিরে আসে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে তাদের সময় লাগে মাত্র ৬ মিনিট। মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অভিষেক হওয়া কুরাসাও দ্রুতই ম্যাচে সমতা ফেরায়। ২১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঠেকাতে ব্যর্থ হন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে কুরাসাও।

গোল করার পর রেসলার জন সিনার পরিচিত উদ্‌যাপনও করেন কোমেনেনসিয়া। গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশের জন্য এটি ছিল স্মরণীয় এক মুহূর্ত।

সমতা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি জার্মানি। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানরা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় জার্মানি। কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন ফেলিক্স এনমেচা। স্পটকিক থেকে গোল করেন কাই হাভার্টজ। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় জার্মানি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি জার্মানি। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পঞ্চম গোল করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ৭৮তম মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই আসে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে।

ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল করেন কাই হাভার্টজ। তার গোলেই ৭-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ কারণে আলোচনায় আসে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক প্রধান কোচ কুরাসাওয়ের ডিক অ্যাডভোকাট, যার বয়স ৭৮ বছর। অন্যদিকে জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের বয়স ৩৮ বছর। দুই কোচের বয়সের পার্থক্য ৪০ বছর, যা ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রধান কোচের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ম্যাচের আগে ডিক অ্যাডভোকাট বলেছিলেন, তার দল জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, “কোচেরা সব সময়ই প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার পরিকল্পনা করেন। এই ম্যাচে জার্মানি যে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে, তা বলাই বাহুল্য। তারা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যেই ছোট দলগুলো বড় দলকে হারিয়ে দেয়। জার্মানির পাশে আমরা খুবই ছোট একটি দল, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাদের জন্য আমরা কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করব।”

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ স্পষ্ট ছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে তাদের অভিষেক ইতোমধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছে।

অন্যদিকে জার্মানি এই বড় জয়ের মাধ্যমে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এবার কুরাসাওকেও সাত গোলের স্বাদ দিল ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তিটি।