ঢাকা ১০:২৮ , Wed, ০৪ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

মিশিগানে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩
  • / 3
মিশিগান থেকে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। ছবি: গার্ডিয়ান

ডেট্রয়েট, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও জোরালো হয়েছে।

বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্র্যাটদের কার্যালয়ে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন এল-সাইয়েদ। বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাররা তাঁকে নিজেদের বাড়ি, গির্জা ও উপাসনালয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অঙ্গরাজ্যের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, এই জয় তারই ফল বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রচারের কঠিন সময়গুলোতে ভোটারদের সমর্থন তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে বলেও জানান।

নির্বাচনী প্রচারে এল-সাইয়েদকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও আক্রমণ ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতা তাঁর নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে প্রচার চালান। ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সিনেটে প্রবেশের সময় তাঁকে ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প তাঁকে ‘কমিউনিস্ট’ এবং মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও আক্রমণ করেন।

বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, তাঁর সমালোচকেরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মানুষের উদ্বেগের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে বিভাজন তৈরির পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘তারা এমন এক আমেরিকা চায়, যেখানে আমাদের কারও কারও জায়গা নেই। আমরা জানি, আমেরিকা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের করের অর্থ দেশের বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত। বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধে অর্থ পাঠানোর পক্ষে তিনি নন বলেও জানান।

এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য। ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রজার্স এর আগে ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট এলিসা স্লটকিনের কাছে প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন।

এবারের নির্বাচনে এল-সাইয়েদ ছিলেন ওয়েইন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। চলতি বছরের ডেমোক্র্যাট প্রাথমিক নির্বাচনে দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে তিনি মনোনয়ন পান। সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ প্রস্তাবের পক্ষে প্রচার চালান তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান।

দুই প্রার্থীই বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনের জন্য লড়েছেন। পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন।

নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রার্থিতা রিপাবলিকানদের কাছে ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থী রাজনীতির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের বিষয় হয়ে ওঠে। সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত মিশিগানে প্রগতিশীল অবস্থানের কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেন কি না, তা নিয়েও ছিল আগ্রহ।

নির্বাচনের আগে ইসরায়েলপন্থী লবি সংগঠন এআইপ্যাকের রাজনৈতিক তহবিল ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট ডেমোক্র্যাট প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সাইয়েদকে ঠেকাতে প্রায় তিন কোটি ডলার ব্যয় করে। একক কোনো নির্বাচনী লড়াইয়ে এটি ছিল তাদের সর্বোচ্চ ব্যয়। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থীদের পক্ষে বিজ্ঞাপনে মোট ব্যয় ছাড়িয়েছিল ২২ কোটি ডলার।

রজার্স ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ এবং ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। এর আগে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ারের বিরোধিতা, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে সমর্থন এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন রজার্স।

রিপাবলিকানরা মিশিগানের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে এল-সাইয়েদকে অতিরিক্ত বামপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আগস্টে ফক্স নিউজের এক জরিপে ৫৪ শতাংশ ভোটার তাঁর অবস্থানকে অতিরিক্ত কট্টর বলে মনে করেছিলেন। তবে একই জরিপে ৫১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রজার্স ট্রাম্পের খুব ঘনিষ্ঠ।

❤️
👏
🙂
😞

মিশিগানে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ

প্রকাশঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩

ডেট্রয়েট, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও জোরালো হয়েছে।

বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্র্যাটদের কার্যালয়ে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন এল-সাইয়েদ। বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাররা তাঁকে নিজেদের বাড়ি, গির্জা ও উপাসনালয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অঙ্গরাজ্যের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, এই জয় তারই ফল বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রচারের কঠিন সময়গুলোতে ভোটারদের সমর্থন তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে বলেও জানান।

নির্বাচনী প্রচারে এল-সাইয়েদকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও আক্রমণ ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতা তাঁর নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে প্রচার চালান। ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সিনেটে প্রবেশের সময় তাঁকে ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প তাঁকে ‘কমিউনিস্ট’ এবং মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও আক্রমণ করেন।

বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, তাঁর সমালোচকেরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মানুষের উদ্বেগের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে বিভাজন তৈরির পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘তারা এমন এক আমেরিকা চায়, যেখানে আমাদের কারও কারও জায়গা নেই। আমরা জানি, আমেরিকা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের করের অর্থ দেশের বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত। বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধে অর্থ পাঠানোর পক্ষে তিনি নন বলেও জানান।

এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য। ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রজার্স এর আগে ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট এলিসা স্লটকিনের কাছে প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন।

এবারের নির্বাচনে এল-সাইয়েদ ছিলেন ওয়েইন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। চলতি বছরের ডেমোক্র্যাট প্রাথমিক নির্বাচনে দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে তিনি মনোনয়ন পান। সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ প্রস্তাবের পক্ষে প্রচার চালান তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান।

দুই প্রার্থীই বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনের জন্য লড়েছেন। পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন।

নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রার্থিতা রিপাবলিকানদের কাছে ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থী রাজনীতির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের বিষয় হয়ে ওঠে। সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত মিশিগানে প্রগতিশীল অবস্থানের কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেন কি না, তা নিয়েও ছিল আগ্রহ।

নির্বাচনের আগে ইসরায়েলপন্থী লবি সংগঠন এআইপ্যাকের রাজনৈতিক তহবিল ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট ডেমোক্র্যাট প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সাইয়েদকে ঠেকাতে প্রায় তিন কোটি ডলার ব্যয় করে। একক কোনো নির্বাচনী লড়াইয়ে এটি ছিল তাদের সর্বোচ্চ ব্যয়। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থীদের পক্ষে বিজ্ঞাপনে মোট ব্যয় ছাড়িয়েছিল ২২ কোটি ডলার।

রজার্স ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ এবং ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। এর আগে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ারের বিরোধিতা, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে সমর্থন এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন রজার্স।

রিপাবলিকানরা মিশিগানের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে এল-সাইয়েদকে অতিরিক্ত বামপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আগস্টে ফক্স নিউজের এক জরিপে ৫৪ শতাংশ ভোটার তাঁর অবস্থানকে অতিরিক্ত কট্টর বলে মনে করেছিলেন। তবে একই জরিপে ৫১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রজার্স ট্রাম্পের খুব ঘনিষ্ঠ।