যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের বড় হার, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা
- প্রকাশঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০১
- / 2
ওয়াশিংটন, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবারের ভোটে প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।
সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। এবারের নির্বাচনে দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, ওহাইও ও কানসাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন নিজেদের করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে, সিনেটে অন্তত ছয়টি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেছে।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি জয় করেন। রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন পর ডেমোক্র্যাটদের সিনেট আসন জয়কে এবারের নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেশী নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেন। টেক্সাসেও বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান আধিপত্যের রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা জেমস তালারিকো অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।
ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান সিনেটর জন হুস্টেডকে পরাজিত করে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। কানসাসে ডেমোক্র্যাট যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনও বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন। কানসাসে ১৯৩২ সালের পর এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ১১৯তম কংগ্রেসের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৫টি। এ ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে কাজ করতেন।
এবারের নির্বাচনে সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং ওহাইও ও ফ্লোরিডায় দুটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দেওয়ায় তাঁদের ছেড়ে যাওয়া আসনগুলোতে বিশেষ নির্বাচন হয়।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নীতির ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়বে। নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ পাবে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা থাকায় দুই দলের মধ্যে আইন প্রণয়ন নিয়ে অচলাবস্থার আশঙ্কাও রয়েছে।
জয়ের পর বক্তব্যে অ্যাডাম হ্যামিলটন বলেন, ওয়াশিংটনে যা ঘটছে, তা নিয়ে রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র ও ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। তাঁর মতে, এই অসন্তোষই কানসাসের নির্বাচনে ফল বদলে দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফের আসনসহ নিজেদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনও ধরে রেখেছে। ভার্জিনিয়ায় ২০০৯ সাল থেকে সিনেটের দায়িত্বে থাকা মার্ক ওয়ার্নার চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ভোট গণনা চলছিল। ফলে সিনেটের পাশাপাশি কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের ফলও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
























