ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুদ ছাড়াই কি আমেরিকায় বাড়ি কেনা সম্ভব? ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিন জনপ্রিয় মডেল

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / 2

ছবি: প্রজন্ম কথা


যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের মধ্যে ইসলামিক বা শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে যারা প্রচলিত সুদভিত্তিক মর্টগেজ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামিক অর্থনীতির প্রসারের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ে উঠেছে শরিয়াহসম্মত অর্থায়নের একটি স্বতন্ত্র খাত, যেখানে সুদের পরিবর্তে সম্পদ, ভাড়া ও অংশীদারিত্বভিত্তিক কাঠামো ব্যবহার করা হয়।

ইসলামিক অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক নীতি হলো সুদ বা ‘রিবা’ পরিহার করা। পাশাপাশি বাস্তব সম্পদের সঙ্গে লেনদেনকে সম্পৃক্ত রাখা, চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি ও লাভের ন্যায্য বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব নীতির ভিত্তিতেই ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের বিভিন্ন মডেল গড়ে উঠেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিনটি প্রধান মডেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকা। মুরাবাহা পদ্ধতিকে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তুলনামূলক সহজ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ব্যবস্থায় অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রথমে গ্রাহকের পছন্দের বাড়িটি কিনে নেয়। এরপর মূল মূল্য এবং পূর্বনির্ধারিত লাভ যোগ করে সেটি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বাড়ির মূল্য ৪ লাখ ডলার হলে প্রতিষ্ঠানটি বাড়িটি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে ৫ লাখ ডলারে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারে। গ্রাহক দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করেন।

চুক্তির শুরুতেই মোট মূল্য নির্ধারিত থাকায় ভবিষ্যতে অর্থ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে না। তবে কিছু ইসলামিক অর্থনীতি গবেষক ও আলেমের মতে, এই মডেলের সঙ্গে প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত মিল রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

ইজারা শব্দের অর্থ ভাড়া। এই মডেলে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাড়িটির মালিক থাকে এবং গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেটি ব্যবহার করেন। গ্রাহক মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া প্রদান করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বাড়িটির মালিকানা অর্জনের সুযোগ পান। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সম্পূর্ণ মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, এ ব্যবস্থায় ঋণের পরিবর্তে সম্পদ ব্যবহারের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হয়, যা শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মালিকানা হস্তান্তর এবং চুক্তির অন্যান্য শর্ত প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আলোচিত এবং বহুল ব্যবহৃত ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং মডেল হলো ডিমিনিশিং মুশারাকা বা হ্রাসমান অংশীদারিত্ব ব্যবস্থা। অনেক ইসলামিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এটিকে তুলনামূলকভাবে বেশি শরিয়াহসম্মত বলে মনে করেন।

এই পদ্ধতিতে গ্রাহক এবং অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। উদাহরণস্বরূপ, একটি বাড়ির মূল্য ৫ লাখ ডলার হলে এবং গ্রাহক ২৫ হাজার ডলার ডাউন পেমেন্ট দিলে তিনি শুরুতে বাড়িটির ৫ শতাংশ মালিকানা অর্জন করেন। বাকি ৯৫ শতাংশ মালিকানা থাকে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে।

পরবর্তীতে গ্রাহক প্রতি মাসে দুটি অংশে অর্থ প্রদান করেন। একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অংশ ব্যবহারের জন্য ভাড়া হিসেবে এবং অন্য অংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধীরে ধীরে কিনে নেওয়ার জন্য। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কমতে থাকে এবং গ্রাহকের মালিকানা বাড়তে থাকে। চুক্তির মেয়াদ শেষে পুরো বাড়ির মালিকানা গ্রাহকের হাতে চলে আসে।

ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত একটি হ্রাসমান অংশীদারিত্ব বা সহ-মালিকানা মডেল, যেখানে ঋণদাতা-ঋণগ্রহীতার সম্পর্কের পরিবর্তে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। গ্রাহকের মালিকানা যত বাড়ে, প্রতিষ্ঠানের অংশের জন্য পরিশোধ করা ভাড়ার পরিমাণও তত কমতে থাকে।

প্রচলিত মর্টগেজে ব্যাংক গ্রাহকের আয় ও ক্রেডিট ইতিহাস যাচাই করে ঋণ প্রদান করে। এরপর গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুদসহ ঋণ পরিশোধে সম্মত হন। অন্যদিকে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ে সাধারণত ঋণ প্রদান বা সুদভিত্তিক চুক্তি করা হয় না। প্রতিষ্ঠান সরাসরি সম্পদ ক্রয় করে, ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে অথবা গ্রাহকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাড়ি কিনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামিক ও প্রচলিত মর্টগেজের সবচেয়ে বড় পার্থক্য সুদের উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; চুক্তির কাঠামো, মালিকানা এবং ঝুঁকি বণ্টনের পদ্ধতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং সেবা প্রদান করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাইডেন্স রেসিডেনশিয়াল, ইউআইএফ করপোরেশন, ইজারা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন, ডেভন ব্যাংক এবং লারিবা। বিশেষ করে গাইডেন্স রেসিডেনশিয়াল বর্তমানে ৩২টি অঙ্গরাজ্যে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং, গাড়ি অর্থায়ন এবং হালাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট সেবা প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটি ডিমিনিশিং মুশারাকা মডেল অনুসরণ করে এবং তাদের আর্থিক পণ্য শরিয়াহ বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে সব আলেম ও গবেষকের মধ্যে অভিন্ন মত নেই। কেউ এটিকে মুসলিমদের জন্য কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কিছু মডেলের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আরও গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাই কোনো চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, ফি, মালিকানা হস্তান্তরের পদ্ধতি, শরিয়াহ বোর্ডের কাঠামো এবং চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আর্থিক সচেতনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সেবার চাহিদা বাড়ার ফলে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং খাত আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

সুদ ছাড়াই কি আমেরিকায় বাড়ি কেনা সম্ভব? ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিন জনপ্রিয় মডেল

প্রকাশঃ ০১:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ছবি: প্রজন্ম কথা


যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের মধ্যে ইসলামিক বা শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে যারা প্রচলিত সুদভিত্তিক মর্টগেজ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামিক অর্থনীতির প্রসারের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ে উঠেছে শরিয়াহসম্মত অর্থায়নের একটি স্বতন্ত্র খাত, যেখানে সুদের পরিবর্তে সম্পদ, ভাড়া ও অংশীদারিত্বভিত্তিক কাঠামো ব্যবহার করা হয়।

ইসলামিক অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক নীতি হলো সুদ বা ‘রিবা’ পরিহার করা। পাশাপাশি বাস্তব সম্পদের সঙ্গে লেনদেনকে সম্পৃক্ত রাখা, চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি ও লাভের ন্যায্য বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব নীতির ভিত্তিতেই ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের বিভিন্ন মডেল গড়ে উঠেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিনটি প্রধান মডেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকা। মুরাবাহা পদ্ধতিকে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তুলনামূলক সহজ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ব্যবস্থায় অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রথমে গ্রাহকের পছন্দের বাড়িটি কিনে নেয়। এরপর মূল মূল্য এবং পূর্বনির্ধারিত লাভ যোগ করে সেটি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বাড়ির মূল্য ৪ লাখ ডলার হলে প্রতিষ্ঠানটি বাড়িটি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে ৫ লাখ ডলারে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারে। গ্রাহক দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করেন।

চুক্তির শুরুতেই মোট মূল্য নির্ধারিত থাকায় ভবিষ্যতে অর্থ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে না। তবে কিছু ইসলামিক অর্থনীতি গবেষক ও আলেমের মতে, এই মডেলের সঙ্গে প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত মিল রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

ইজারা শব্দের অর্থ ভাড়া। এই মডেলে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাড়িটির মালিক থাকে এবং গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেটি ব্যবহার করেন। গ্রাহক মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া প্রদান করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বাড়িটির মালিকানা অর্জনের সুযোগ পান। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সম্পূর্ণ মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, এ ব্যবস্থায় ঋণের পরিবর্তে সম্পদ ব্যবহারের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হয়, যা শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মালিকানা হস্তান্তর এবং চুক্তির অন্যান্য শর্ত প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আলোচিত এবং বহুল ব্যবহৃত ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং মডেল হলো ডিমিনিশিং মুশারাকা বা হ্রাসমান অংশীদারিত্ব ব্যবস্থা। অনেক ইসলামিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এটিকে তুলনামূলকভাবে বেশি শরিয়াহসম্মত বলে মনে করেন।

এই পদ্ধতিতে গ্রাহক এবং অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। উদাহরণস্বরূপ, একটি বাড়ির মূল্য ৫ লাখ ডলার হলে এবং গ্রাহক ২৫ হাজার ডলার ডাউন পেমেন্ট দিলে তিনি শুরুতে বাড়িটির ৫ শতাংশ মালিকানা অর্জন করেন। বাকি ৯৫ শতাংশ মালিকানা থাকে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে।

পরবর্তীতে গ্রাহক প্রতি মাসে দুটি অংশে অর্থ প্রদান করেন। একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অংশ ব্যবহারের জন্য ভাড়া হিসেবে এবং অন্য অংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধীরে ধীরে কিনে নেওয়ার জন্য। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কমতে থাকে এবং গ্রাহকের মালিকানা বাড়তে থাকে। চুক্তির মেয়াদ শেষে পুরো বাড়ির মালিকানা গ্রাহকের হাতে চলে আসে।

ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত একটি হ্রাসমান অংশীদারিত্ব বা সহ-মালিকানা মডেল, যেখানে ঋণদাতা-ঋণগ্রহীতার সম্পর্কের পরিবর্তে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। গ্রাহকের মালিকানা যত বাড়ে, প্রতিষ্ঠানের অংশের জন্য পরিশোধ করা ভাড়ার পরিমাণও তত কমতে থাকে।

প্রচলিত মর্টগেজে ব্যাংক গ্রাহকের আয় ও ক্রেডিট ইতিহাস যাচাই করে ঋণ প্রদান করে। এরপর গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুদসহ ঋণ পরিশোধে সম্মত হন। অন্যদিকে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ে সাধারণত ঋণ প্রদান বা সুদভিত্তিক চুক্তি করা হয় না। প্রতিষ্ঠান সরাসরি সম্পদ ক্রয় করে, ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে অথবা গ্রাহকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাড়ি কিনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামিক ও প্রচলিত মর্টগেজের সবচেয়ে বড় পার্থক্য সুদের উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; চুক্তির কাঠামো, মালিকানা এবং ঝুঁকি বণ্টনের পদ্ধতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং সেবা প্রদান করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাইডেন্স রেসিডেনশিয়াল, ইউআইএফ করপোরেশন, ইজারা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন, ডেভন ব্যাংক এবং লারিবা। বিশেষ করে গাইডেন্স রেসিডেনশিয়াল বর্তমানে ৩২টি অঙ্গরাজ্যে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং, গাড়ি অর্থায়ন এবং হালাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট সেবা প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটি ডিমিনিশিং মুশারাকা মডেল অনুসরণ করে এবং তাদের আর্থিক পণ্য শরিয়াহ বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে সব আলেম ও গবেষকের মধ্যে অভিন্ন মত নেই। কেউ এটিকে মুসলিমদের জন্য কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কিছু মডেলের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আরও গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাই কোনো চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, ফি, মালিকানা হস্তান্তরের পদ্ধতি, শরিয়াহ বোর্ডের কাঠামো এবং চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আর্থিক সচেতনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সেবার চাহিদা বাড়ার ফলে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং খাত আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।