ঢাকা ০৯:০৩ , Thu, ২৩ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

আমেরিকার আসল ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়? ওয়াশিংটন ডিসি নাকি নিউইয়র্ক

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:১৮
  • / 8
ছবি: কোলাজ / প্রজন্ম কথা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী শহর হলো ওয়াশিংটন ডিসি (Washington, D.C.)। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (District of Columbia) নামে পরিচিত। অনেক সময় সংক্ষেপে ডি.সি. বা ওয়াশিংটন নামেও শহরটিকে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও দেশটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ওয়াশিংটনের নাম অনুসারে শহরটির নামকরণ করা হয়েছে।

আমেরিকান বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৯৭৭ জন এবং এর আয়তন প্রায় ৬৮ দশমিক ৩৪ বর্গমাইল।

ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। শহরটি ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছে। শহরের সর্বোচ্চ স্থান হলো ফোর্ট রেনো পার্ক। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০৯ ফুট। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন এলাকা পোটোম্যাক নদীর কাছাকাছি অঞ্চলে অবস্থিত।

ওয়াশিংটন ডিসির জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ সামুদ্রিক ধরনের। শীতকালে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শহরটির দৈনিক গড় আর্দ্রতা প্রায় ৬৬ শতাংশ। এ অঞ্চলে নিয়মিত বজ্রঝড় দেখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে টর্নেডোর ঘটনাও ঘটতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯১৮ সালে, যা ছিল ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮৯৯ সালে, যা ছিল মাইনাস ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট।যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অর্থনীতি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির একটি। সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি শিল্প, পর্যটন এবং বিভিন্ন সেবা খাত শহরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বিবেচনায় ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অবস্থানে ছিল। ২০১৬ সালে শহরটির মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৭২ ডলার, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

ওয়াশিংটন ডিসির অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হলো পর্যটন। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ কোটি পর্যটক শহরটি ভ্রমণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হওয়ায় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

ওয়াশিংটন ডিসির উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  1. ওয়াশিংটন মনুমেন্ট
  2. ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি
  3. লিংকন মেমোরিয়াল
  4. ন্যাশনাল গ্যালারি অব আর্ট

২০১২ সালে পর্যটন খাত থেকে ওয়াশিংটন ডিসির অর্থনীতিতে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার অবদান আসে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তিনটি প্রধান শাখার সদর দপ্তর রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে:

  1. নির্বাহী বিভাগ, যার নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট
  2. আইনসভা, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস
  3. বিচার বিভাগ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই শহরে অবস্থিত। ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান রেড ক্রস, হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি একজন মেয়র এবং ১৩ সদস্যের কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী শহরটি কংগ্রেসের বিশেষ কর্তৃত্বের আওতায় রয়েছে।

এর ফলে কংগ্রেস শহরের কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কারণে ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে বিবেচিত।

❤️
👏
🙂
😞

আমেরিকার আসল ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়? ওয়াশিংটন ডিসি নাকি নিউইয়র্ক

প্রকাশঃ ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:১৮

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী শহর হলো ওয়াশিংটন ডিসি (Washington, D.C.)। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (District of Columbia) নামে পরিচিত। অনেক সময় সংক্ষেপে ডি.সি. বা ওয়াশিংটন নামেও শহরটিকে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও দেশটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ওয়াশিংটনের নাম অনুসারে শহরটির নামকরণ করা হয়েছে।

আমেরিকান বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৯৭৭ জন এবং এর আয়তন প্রায় ৬৮ দশমিক ৩৪ বর্গমাইল।

ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। শহরটি ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছে। শহরের সর্বোচ্চ স্থান হলো ফোর্ট রেনো পার্ক। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০৯ ফুট। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন এলাকা পোটোম্যাক নদীর কাছাকাছি অঞ্চলে অবস্থিত।

ওয়াশিংটন ডিসির জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ সামুদ্রিক ধরনের। শীতকালে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শহরটির দৈনিক গড় আর্দ্রতা প্রায় ৬৬ শতাংশ। এ অঞ্চলে নিয়মিত বজ্রঝড় দেখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে টর্নেডোর ঘটনাও ঘটতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯১৮ সালে, যা ছিল ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮৯৯ সালে, যা ছিল মাইনাস ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট।যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অর্থনীতি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির একটি। সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি শিল্প, পর্যটন এবং বিভিন্ন সেবা খাত শহরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বিবেচনায় ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অবস্থানে ছিল। ২০১৬ সালে শহরটির মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৭২ ডলার, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

ওয়াশিংটন ডিসির অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হলো পর্যটন। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ কোটি পর্যটক শহরটি ভ্রমণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হওয়ায় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

ওয়াশিংটন ডিসির উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  1. ওয়াশিংটন মনুমেন্ট
  2. ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি
  3. লিংকন মেমোরিয়াল
  4. ন্যাশনাল গ্যালারি অব আর্ট

২০১২ সালে পর্যটন খাত থেকে ওয়াশিংটন ডিসির অর্থনীতিতে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার অবদান আসে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তিনটি প্রধান শাখার সদর দপ্তর রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে:

  1. নির্বাহী বিভাগ, যার নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট
  2. আইনসভা, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস
  3. বিচার বিভাগ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই শহরে অবস্থিত। ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান রেড ক্রস, হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি একজন মেয়র এবং ১৩ সদস্যের কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী শহরটি কংগ্রেসের বিশেষ কর্তৃত্বের আওতায় রয়েছে।

এর ফলে কংগ্রেস শহরের কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কারণে ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে বিবেচিত।