বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড নীতি স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র, সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার জামানত
- প্রকাশঃ ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৫
- / 5
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পর ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও অবস্থান করা বা ‘ওভারস্টে’ কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত নীতি স্থায়ী করতে যাচ্ছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নতুন নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত ক্ষেত্রে ব্যবসা (বি-১) ও পর্যটন (বি-২) ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গেজেট ফেডারেল রেজিস্টার-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নীতিটি আগামী ৩ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
নতুন তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও ভুটান রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার রাষ্ট্র।
নতুন নীতিতে যা থাকছে
এর আগে পরিচালিত ভিসা বন্ড-সংক্রান্ত পাইলট কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করতে পারতেন।
স্থায়ী নীতিমালায় সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলারের ক্যাটাগরি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ও ভিসার শর্ত মেনে চলতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করার প্রবণতা কমাতেই এই ব্যবস্থা স্থায়ী করা হচ্ছে।
সমালোচনা
নতুন নীতির সমালোচনা করেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁদের মতে, এত বড় অঙ্কের জামানত বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং অনেক যোগ্য আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন।
অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এই নীতি নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সমালোচকদের মতে, অবৈধ অভিবাসন রোধের পাশাপাশি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের প্রক্রিয়াও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ভিসায় ফি বৃদ্ধি এবং আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম পর্যালোচনার মতো ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত দেশ ও কার্যকরের সময়
স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বন্ড নীতি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য হবে। তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও পৃথক কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
















