ঢাকা ০৪:৫৯ , Mon, ২০ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

বাংলাদেশিদের মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত: আবেদনকারীদের জানা জরুরি ৭টি বিষয়

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৯ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৪
  • / 5
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে ফাইল ছবি

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা। অনেকেই জানতে চাইছেন, চলমান আবেদন বাতিল হবে কি না, সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকলে কী হবে কিংবা শিক্ষার্থী ও পর্যটক ভিসার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. এই সিদ্ধান্ত কার জন্য প্রযোজ্য?

সাময়িক স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট (Immigrant) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেসব ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়, সেসব ভিসার নতুন ইস্যু আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

২. ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা অন্যান্য ভিসায় কি কোনো প্রভাব পড়বে?

না। পর্যটক (B-1/B-2), শিক্ষার্থী (F-1), এক্সচেঞ্জ ভিজিটর (J-1), অস্থায়ী কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই সিদ্ধান্তের আওতায় নয়। এসব ভিসার আবেদন, সাক্ষাৎকার ও প্রক্রিয়াকরণ স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

৩. চলমান আবেদন কি বাতিল হয়ে যাবে?

না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাময়িক স্থগিতাদেশের অর্থ আবেদন বাতিল নয়। ইতোমধ্যে জমা দেওয়া আবেদন বা চলমান কেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হচ্ছে না। এটি কেবল নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।

৪. যাদের সাক্ষাৎকার বা কেস প্রক্রিয়াধীন, তাদের কী হবে?

যেসব আবেদন ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (NVC) অথবা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে পারে। তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু করা হবে না। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীদের জানানো হবে।

৫. কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর অযৌক্তিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন এবং করদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বিদ্যমান ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

৬. এই সিদ্ধান্ত কি শুধু বাংলাদেশের জন্য?

না। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ নয়। মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের জন্য নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্ষেত্রে একই নীতিমালার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

৭. কবে আবার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু হবে?

এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসা যাচাই-বাছাই ও নীতিমালা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এ কারণে আবেদনকারীদের গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের কেসের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং দূতাবাস বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।

❤️
👏
🙂
😞

বাংলাদেশিদের মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত: আবেদনকারীদের জানা জরুরি ৭টি বিষয়

প্রকাশঃ ১৯ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৪

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা। অনেকেই জানতে চাইছেন, চলমান আবেদন বাতিল হবে কি না, সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকলে কী হবে কিংবা শিক্ষার্থী ও পর্যটক ভিসার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. এই সিদ্ধান্ত কার জন্য প্রযোজ্য?

সাময়িক স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট (Immigrant) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেসব ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়, সেসব ভিসার নতুন ইস্যু আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

২. ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা অন্যান্য ভিসায় কি কোনো প্রভাব পড়বে?

না। পর্যটক (B-1/B-2), শিক্ষার্থী (F-1), এক্সচেঞ্জ ভিজিটর (J-1), অস্থায়ী কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই সিদ্ধান্তের আওতায় নয়। এসব ভিসার আবেদন, সাক্ষাৎকার ও প্রক্রিয়াকরণ স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

৩. চলমান আবেদন কি বাতিল হয়ে যাবে?

না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাময়িক স্থগিতাদেশের অর্থ আবেদন বাতিল নয়। ইতোমধ্যে জমা দেওয়া আবেদন বা চলমান কেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হচ্ছে না। এটি কেবল নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।

৪. যাদের সাক্ষাৎকার বা কেস প্রক্রিয়াধীন, তাদের কী হবে?

যেসব আবেদন ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (NVC) অথবা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে পারে। তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু করা হবে না। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীদের জানানো হবে।

৫. কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর অযৌক্তিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন এবং করদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বিদ্যমান ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

৬. এই সিদ্ধান্ত কি শুধু বাংলাদেশের জন্য?

না। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ নয়। মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের জন্য নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্ষেত্রে একই নীতিমালার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

৭. কবে আবার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু হবে?

এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসা যাচাই-বাছাই ও নীতিমালা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এ কারণে আবেদনকারীদের গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের কেসের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং দূতাবাস বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।