ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমিশনে দায়িত্ব পালন করলেও সরকারের অংশ ছিলাম না: বদিউল আলম মজুমদার

  • প্রকাশঃ ০৩:০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 42

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে। ছবি: সংগৃহীত


নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, সরকারের কোনো সদস্য হিসেবে নয়, বরং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

অনুষ্ঠানে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কোনো কোনো সময়ে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়, যেন তিনি সরকারের অংশ ছিলেন। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি প্রথম জানতে পারেন উল্লেখ করে বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর কোনো আলোচনা হয়নি এবং এ বিষয়ে তাঁর মতামতও নেওয়া হয়নি।

এ সময় দর্শকসারি থেকে একজন মন্তব্য করেন, এটা তো অসৌজন্যমূলক।

জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হয়তো প্রধান উপদেষ্টা ভেবেছেন যে, তাঁর কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা কাজে লাগানো যেতে পারে। এ সময় মঞ্চে থাকা সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, কাছের লোক।

এর উত্তরে বদিউল আলম মজুমদার হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, তাঁর মনে হয় না প্রধান উপদেষ্টা কারও সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বরং তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিভাবকসুলভ দায়িত্ব হিসেবেই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তিনি ও কমিশনের অন্য আট সদস্য কয়েক মাস কাজ করে একটি প্রতিবেদন ও সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করেছেন। সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এতটুকুই ছিল। এ কাজের জন্য তিনি কোনো সম্মানী গ্রহণ করেননি বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তিনি সুজন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

মঞ্চে উপস্থিত সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের দিকে ইঙ্গিত করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তাঁর যতটুকু সম্পৃক্ততা ছিল, নিজের সম্পৃক্ততাও ততটুকুই ছিল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্যের পর তাঁকে উদ্দেশ করে জিল্লুর রহমান বলেন, তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ। আর আপনি যত সুন্দর পোশাকই পরুন না কেন, যত পারফিউমই ব্যবহার করুন না কেন, কর্দমাক্ত রাস্তায় হাঁটলে কাদা কিছুটা লাগবেই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

কমিশনে দায়িত্ব পালন করলেও সরকারের অংশ ছিলাম না: বদিউল আলম মজুমদার

প্রকাশঃ ০৩:০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে। ছবি: সংগৃহীত


নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, সরকারের কোনো সদস্য হিসেবে নয়, বরং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

অনুষ্ঠানে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কোনো কোনো সময়ে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়, যেন তিনি সরকারের অংশ ছিলেন। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি প্রথম জানতে পারেন উল্লেখ করে বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর কোনো আলোচনা হয়নি এবং এ বিষয়ে তাঁর মতামতও নেওয়া হয়নি।

এ সময় দর্শকসারি থেকে একজন মন্তব্য করেন, এটা তো অসৌজন্যমূলক।

জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হয়তো প্রধান উপদেষ্টা ভেবেছেন যে, তাঁর কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা কাজে লাগানো যেতে পারে। এ সময় মঞ্চে থাকা সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, কাছের লোক।

এর উত্তরে বদিউল আলম মজুমদার হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, তাঁর মনে হয় না প্রধান উপদেষ্টা কারও সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বরং তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিভাবকসুলভ দায়িত্ব হিসেবেই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তিনি ও কমিশনের অন্য আট সদস্য কয়েক মাস কাজ করে একটি প্রতিবেদন ও সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করেছেন। সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এতটুকুই ছিল। এ কাজের জন্য তিনি কোনো সম্মানী গ্রহণ করেননি বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তিনি সুজন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

মঞ্চে উপস্থিত সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের দিকে ইঙ্গিত করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তাঁর যতটুকু সম্পৃক্ততা ছিল, নিজের সম্পৃক্ততাও ততটুকুই ছিল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্যের পর তাঁকে উদ্দেশ করে জিল্লুর রহমান বলেন, তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ। আর আপনি যত সুন্দর পোশাকই পরুন না কেন, যত পারফিউমই ব্যবহার করুন না কেন, কর্দমাক্ত রাস্তায় হাঁটলে কাদা কিছুটা লাগবেই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”