ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে নিকস সমর্থকদের উল্লাসে বিশৃঙ্খলা, স্কুলবাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০২:০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 6

নিউইয়র্ক নিকসকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস শনিবার গভীর রাতে চরম বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার এলাকায় একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি একাধিক স্কুলবাসে ভাঙচুর চালায় এবং অন্তত একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২তম স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশনের কাছে পার্ক করা কয়েকটি স্কুলবাসের বিভিন্ন অংশ খুলে ফেলছে একদল সমর্থক। বাসগুলোর হুড, গ্রিল ও সাইড মিরর খুলে নেওয়ার পাশাপাশি কেউ কেউ বাসের ইঞ্জিন উন্মুক্ত করে তার ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়।

একপর্যায়ে কয়েকজন নিজেদের পোশাকে আগুন লাগিয়ে তা একটি বাসের ভেতরে নিক্ষেপ করে। এতে বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। আগুন জ্বলতে থাকলেও কয়েকজনকে বাসের ছাদে উঠে নাচতে দেখা যায়।

A bus was set on fire during a chaotic celebration in the streets of New York City after the Knicks won the NBA title on June 14, 2026.


ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমার বন্ধুদের জন্য ভয় পাচ্ছি!”

আরেকটি ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, “তোমরা জানো তো, এসব সরকারি স্কুলের সম্পদ এবং করদাতাদের টাকায় পরিচালিত হয়?”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে ভাঙচুরকারীরা বাসগুলোর গ্রিল ও আয়না খুলে ফেলে। পরে এক ব্যক্তি একটি গ্রিল সড়কে ছুড়ে মারলে আরও অনেকে সেটির ওপর লাফিয়ে পড়ে এবং তা ভেঙে ফেলে।

ভাঙচুরের শিকার একটি বাসে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে “Let’s Go Knicks” এবং “F–k ICE” লেখা হয় বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।

এ সময় উচ্ছৃঙ্খল জনতা আরেকটি বাসে হামলার চেষ্টা করলে বাসচালক তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বাসটির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর দিয়ে সেটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।

বাসচালক বলেন, “এতে আমারই ক্ষতি হবে। এর খরচ আমার বেতন থেকেই কাটা হবে।”

ঘটনা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় পর, রাত আড়াইটার দিকে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে রোববার ভোর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি পুলিশ।

অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এবং এতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

নিউইয়র্কে নিকস সমর্থকদের উল্লাসে বিশৃঙ্খলা, স্কুলবাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর

প্রকাশঃ ০২:০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নিউইয়র্ক নিকসকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস শনিবার গভীর রাতে চরম বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার এলাকায় একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি একাধিক স্কুলবাসে ভাঙচুর চালায় এবং অন্তত একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২তম স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশনের কাছে পার্ক করা কয়েকটি স্কুলবাসের বিভিন্ন অংশ খুলে ফেলছে একদল সমর্থক। বাসগুলোর হুড, গ্রিল ও সাইড মিরর খুলে নেওয়ার পাশাপাশি কেউ কেউ বাসের ইঞ্জিন উন্মুক্ত করে তার ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়।

একপর্যায়ে কয়েকজন নিজেদের পোশাকে আগুন লাগিয়ে তা একটি বাসের ভেতরে নিক্ষেপ করে। এতে বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। আগুন জ্বলতে থাকলেও কয়েকজনকে বাসের ছাদে উঠে নাচতে দেখা যায়।

A bus was set on fire during a chaotic celebration in the streets of New York City after the Knicks won the NBA title on June 14, 2026.


ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমার বন্ধুদের জন্য ভয় পাচ্ছি!”

আরেকটি ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, “তোমরা জানো তো, এসব সরকারি স্কুলের সম্পদ এবং করদাতাদের টাকায় পরিচালিত হয়?”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে ভাঙচুরকারীরা বাসগুলোর গ্রিল ও আয়না খুলে ফেলে। পরে এক ব্যক্তি একটি গ্রিল সড়কে ছুড়ে মারলে আরও অনেকে সেটির ওপর লাফিয়ে পড়ে এবং তা ভেঙে ফেলে।

ভাঙচুরের শিকার একটি বাসে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে “Let’s Go Knicks” এবং “F–k ICE” লেখা হয় বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।

এ সময় উচ্ছৃঙ্খল জনতা আরেকটি বাসে হামলার চেষ্টা করলে বাসচালক তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বাসটির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর দিয়ে সেটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।

বাসচালক বলেন, “এতে আমারই ক্ষতি হবে। এর খরচ আমার বেতন থেকেই কাটা হবে।”

ঘটনা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় পর, রাত আড়াইটার দিকে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে রোববার ভোর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি পুলিশ।

অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এবং এতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।