ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন শিশুর হত্যাকাণ্ডে মা লিন্ডসে ক্লান্সির বিচার জুলাইয়ে শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০২:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 4

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ডাক্সবারি শহরে তিন শিশুকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্লান্সির বিরুদ্ধে বিচার আগামী জুলাই মাসে শুরু হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানের মৃত্যু হয়।

সরকারপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, লিন্ডসে ক্লান্সি “অত্যন্ত নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতার সাথে” তার তিন সন্তানকে হত্যা করেন। মামলাটি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় থাকলেও নতুন করে উপস্থাপিত প্রমাণের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।

ঘটনার দিন লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্লান্সি ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তিনি বাড়ির বেসমেন্টে সন্তানদের নিথর অবস্থায় খুঁজে পান। প্রতিটি শিশুর গলায় ব্যায়ামের রাবার ব্যান্ড ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনে জরুরি সেবাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “সে বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলেছে!” পরে তিনি নিজেই ব্যান্ডগুলো সরানোর চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে শিশুদের মৃত্যু ঘটে গেছে।

সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে দাবি করেছেন, ব্যান্ডগুলো যেভাবে সরানো হয়েছিল, তা ইচ্ছাকৃত হত্যার ইঙ্গিত দেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি দুর্ঘটনা বা অবহেলার ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

লিন্ডসে ক্লান্সি ৩৫ বছর বয়সী একজন প্রশিক্ষিত নার্স। তার আইনজীবীরা জানান, তারা হত্যার ঘটনা অস্বীকার করবেন না। তবে প্রতিরক্ষা পক্ষের যুক্তি হবে, ঘটনার সময় তিনি গুরুতর প্রসবোত্তর মানসিক রোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভুল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই কারণে তাকে মানসিক অস্বাভাবিকতার ভিত্তিতে নির্দোষ ঘোষণার আবেদন করা হবে।

লিন্ডসে ও তার স্বামী প্যাট্রিক পৃথকভাবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রসবোত্তর মানসিক সমস্যার সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যর্থতা ঘটেছে।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রসবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ নতুন মা প্রসবোত্তর বিষণ্নতা বা মানসিক সমস্যায় ভোগেন বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানে উল্লেখ রয়েছে।

এই ঘটনায় তিনটি শিশুর মৃত্যু এবং একটি পরিবারের ভাঙনের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুলাইয়ে শুরু হতে যাওয়া বিচার সেই বিতর্ক আরও সামনে নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

তিন শিশুর হত্যাকাণ্ডে মা লিন্ডসে ক্লান্সির বিচার জুলাইয়ে শুরু

প্রকাশঃ ০২:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ডাক্সবারি শহরে তিন শিশুকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্লান্সির বিরুদ্ধে বিচার আগামী জুলাই মাসে শুরু হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানের মৃত্যু হয়।

সরকারপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, লিন্ডসে ক্লান্সি “অত্যন্ত নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতার সাথে” তার তিন সন্তানকে হত্যা করেন। মামলাটি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় থাকলেও নতুন করে উপস্থাপিত প্রমাণের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।

ঘটনার দিন লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্লান্সি ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তিনি বাড়ির বেসমেন্টে সন্তানদের নিথর অবস্থায় খুঁজে পান। প্রতিটি শিশুর গলায় ব্যায়ামের রাবার ব্যান্ড ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনে জরুরি সেবাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “সে বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলেছে!” পরে তিনি নিজেই ব্যান্ডগুলো সরানোর চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে শিশুদের মৃত্যু ঘটে গেছে।

সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে দাবি করেছেন, ব্যান্ডগুলো যেভাবে সরানো হয়েছিল, তা ইচ্ছাকৃত হত্যার ইঙ্গিত দেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি দুর্ঘটনা বা অবহেলার ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

লিন্ডসে ক্লান্সি ৩৫ বছর বয়সী একজন প্রশিক্ষিত নার্স। তার আইনজীবীরা জানান, তারা হত্যার ঘটনা অস্বীকার করবেন না। তবে প্রতিরক্ষা পক্ষের যুক্তি হবে, ঘটনার সময় তিনি গুরুতর প্রসবোত্তর মানসিক রোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভুল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই কারণে তাকে মানসিক অস্বাভাবিকতার ভিত্তিতে নির্দোষ ঘোষণার আবেদন করা হবে।

লিন্ডসে ও তার স্বামী প্যাট্রিক পৃথকভাবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রসবোত্তর মানসিক সমস্যার সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যর্থতা ঘটেছে।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রসবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ নতুন মা প্রসবোত্তর বিষণ্নতা বা মানসিক সমস্যায় ভোগেন বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানে উল্লেখ রয়েছে।

এই ঘটনায় তিনটি শিশুর মৃত্যু এবং একটি পরিবারের ভাঙনের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুলাইয়ে শুরু হতে যাওয়া বিচার সেই বিতর্ক আরও সামনে নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।