ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনসংখ্যা সীমিত রাখতে সুইজারল্যান্ডে গণভোট অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৩:১৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 2


ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সীমা আরোপের প্রস্তাব নিয়ে রোববার (১৪ জুন) গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রস্তাবটি পাস হলে দেশটির মোট জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমিত রাখার বিধান কার্যকর হতে পারে।

বিতর্কিত এই গণভোটে সমর্থন জানিয়েছে উগ্রডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি)। প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি আবাসন, গণপরিবহন, সরকারি সেবা ও পরিবেশের ওপর চাপ কমানো।

সরকারি ও পরিসংখ্যানগত তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৩ লাখ, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৯১ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ বিদেশি নাগরিক।

দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসাভাড়া বৃদ্ধি, গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ার বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে গণভোটের বিরোধীরা এটিকে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এই প্রস্তাব পাস হলে দেশটির হাসপাতাল, হোটেলসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধান রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও ব্লকটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

গণভোটের বিরোধীরা প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি ব্যবহার করে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে, প্রস্তাবটি পাস হলে সুইজারল্যান্ড ইউরোপ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, গণভোট আয়োজনের জন্য অন্তত এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন, ৪৫ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন

জনসংখ্যা সীমিত রাখতে সুইজারল্যান্ডে গণভোট অনুষ্ঠিত

প্রকাশঃ ০৩:১৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬


ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সীমা আরোপের প্রস্তাব নিয়ে রোববার (১৪ জুন) গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রস্তাবটি পাস হলে দেশটির মোট জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমিত রাখার বিধান কার্যকর হতে পারে।

বিতর্কিত এই গণভোটে সমর্থন জানিয়েছে উগ্রডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি)। প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি আবাসন, গণপরিবহন, সরকারি সেবা ও পরিবেশের ওপর চাপ কমানো।

সরকারি ও পরিসংখ্যানগত তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৩ লাখ, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৯১ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ বিদেশি নাগরিক।

দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসাভাড়া বৃদ্ধি, গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ার বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে গণভোটের বিরোধীরা এটিকে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এই প্রস্তাব পাস হলে দেশটির হাসপাতাল, হোটেলসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধান রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও ব্লকটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

গণভোটের বিরোধীরা প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি ব্যবহার করে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে, প্রস্তাবটি পাস হলে সুইজারল্যান্ড ইউরোপ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, গণভোট আয়োজনের জন্য অন্তত এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন, ৪৫ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

সূত্র: বিবিসি