ঢাকা ০২:৩৫ , Sun, ১৬ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকায় বাড়ি কেনার আগেই বাড়তি খরচ, মর্টগেজের ক্রেডিট রিপোর্টে গুনতে হতে পারে ২০০ ডলার

সামিম সরকার
  • প্রকাশঃ ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৩
  • / 2
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য মর্টগেজ আবেদনের আগে ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের খরচ বেড়েছে ছবি: প্রজন্ম কথা

ওয়াশিংটন, ১৬ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ বা মর্টগেজের আবেদন করার আগেই ক্রেডিট রিপোর্টের জন্য উল্লেখযোগ্য খরচ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ২০২৬ সালের বাজারচিত্র অনুযায়ী, মর্টগেজ আবেদনের সময় ঋণদাতারা যে ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করেন, তার খরচ অনেক ক্ষেত্রে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

মর্টগেজের জন্য আবেদন করলে ব্যাংক বা ঋণদাতা সাধারণত আবেদনকারীর ক্রেডিট ইতিহাস ও স্কোর যাচাই করেন। আগে এই যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৫০ থেকে ৭৫ ডলার খরচ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট রিপোর্টের খরচ টানা চতুর্থ বছর বেড়েছে। চলতি বছরে এই ব্যয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্রেডিট স্কোরের খরচ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফাইকোর ফি অন্যতম কারণ। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রতিটি ক্রেডিট স্কোরের জন্য ১০ ডলার করে নিচ্ছে। গত বছর এই ফি ছিল ৪ দশমিক ৯৫ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ক্রেডিট রিপোর্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইকুইফ্যাক্সও জানিয়েছে, তাদের ফি গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

মর্টগেজের আবেদন যাচাইয়ের সময় ঋণদাতারা সাধারণত তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরো, ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়ন থেকে আবেদনকারীর তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রতিটি ব্যুরোর রিপোর্টের জন্য আলাদা খরচ হওয়ায় মোট ফি বেড়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী দুজন যৌথভাবে ঋণের আবেদন করলে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে রিপোর্ট সংগ্রহের খরচও বাড়তে পারে।

এই খরচ অনেক ঋণদাতা বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের সঙ্গে যুক্ত করেন। কেউ কেউ ঋণ আবেদনের শুরুতেই ফি নিয়ে থাকেন। ঋণ অনুমোদন না হলেও এই অর্থ সাধারণত ফেরত দেওয়া হয় না।

ক্রেডিট রিপোর্টের খরচ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের গড় ক্রেডিট স্কোরে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। ভ্যানটেজস্কোরের মে ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গড় ক্রেডিট স্কোর ৭০১। অর্থাৎ ক্রেডিট স্কোর স্থিতিশীল থাকলেও তা যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যয় বাড়ছে।

বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করে নেওয়া খরচ ও জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অনুমোদিত ওয়েবসাইট অ্যানুয়ালক্রেডিটরিপোর্ট ডটকম থেকে বছরে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোর রিপোর্ট বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়। বাড়ি কেনার অন্তত এক বছর আগে রিপোর্ট যাচাই করলে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের জন্য সময় পাওয়া যায়।

বাড়ি কেনার কয়েক মাস আগে অপ্রয়োজনীয় নতুন গাড়ির ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের নতুন আবেদনে ক্রেডিট রিপোর্টে হার্ড ইনকোয়ারি যুক্ত হতে পারে এবং ঋণদাতা পরবর্তী সময়ে আবার ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন।

মর্টগেজের আবেদন করার আগে ঋণদাতাকে ক্রেডিট রিপোর্টের ফি কত এবং সেটি ফেরতযোগ্য কি না, তা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ঋণদাতা, ক্রেডিট ইউনিয়ন ও ছোট ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ফি ভিন্ন হতে পারে।

তবে ক্রেডিট রিপোর্টের খরচ নির্দিষ্ট কোনো এক অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। ঋণদাতা, অঙ্গরাজ্য এবং ঋণের ধরন অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালের বাজারচিত্রে উল্লেখ করা ৪ দশমিক ৯৫ থেকে ১০ ডলার এবং মোট ১৫০ থেকে ২০০ ডলারের পরিমাণকে গড় পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

আমেরিকায় বাড়ি কেনার আগেই বাড়তি খরচ, মর্টগেজের ক্রেডিট রিপোর্টে গুনতে হতে পারে ২০০ ডলার

প্রকাশঃ ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৩

ওয়াশিংটন, ১৬ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ বা মর্টগেজের আবেদন করার আগেই ক্রেডিট রিপোর্টের জন্য উল্লেখযোগ্য খরচ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ২০২৬ সালের বাজারচিত্র অনুযায়ী, মর্টগেজ আবেদনের সময় ঋণদাতারা যে ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করেন, তার খরচ অনেক ক্ষেত্রে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

মর্টগেজের জন্য আবেদন করলে ব্যাংক বা ঋণদাতা সাধারণত আবেদনকারীর ক্রেডিট ইতিহাস ও স্কোর যাচাই করেন। আগে এই যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৫০ থেকে ৭৫ ডলার খরচ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট রিপোর্টের খরচ টানা চতুর্থ বছর বেড়েছে। চলতি বছরে এই ব্যয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্রেডিট স্কোরের খরচ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফাইকোর ফি অন্যতম কারণ। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রতিটি ক্রেডিট স্কোরের জন্য ১০ ডলার করে নিচ্ছে। গত বছর এই ফি ছিল ৪ দশমিক ৯৫ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ক্রেডিট রিপোর্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইকুইফ্যাক্সও জানিয়েছে, তাদের ফি গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

মর্টগেজের আবেদন যাচাইয়ের সময় ঋণদাতারা সাধারণত তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরো, ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়ন থেকে আবেদনকারীর তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রতিটি ব্যুরোর রিপোর্টের জন্য আলাদা খরচ হওয়ায় মোট ফি বেড়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী দুজন যৌথভাবে ঋণের আবেদন করলে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে রিপোর্ট সংগ্রহের খরচও বাড়তে পারে।

এই খরচ অনেক ঋণদাতা বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের সঙ্গে যুক্ত করেন। কেউ কেউ ঋণ আবেদনের শুরুতেই ফি নিয়ে থাকেন। ঋণ অনুমোদন না হলেও এই অর্থ সাধারণত ফেরত দেওয়া হয় না।

ক্রেডিট রিপোর্টের খরচ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের গড় ক্রেডিট স্কোরে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। ভ্যানটেজস্কোরের মে ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গড় ক্রেডিট স্কোর ৭০১। অর্থাৎ ক্রেডিট স্কোর স্থিতিশীল থাকলেও তা যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যয় বাড়ছে।

বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করে নেওয়া খরচ ও জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অনুমোদিত ওয়েবসাইট অ্যানুয়ালক্রেডিটরিপোর্ট ডটকম থেকে বছরে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোর রিপোর্ট বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়। বাড়ি কেনার অন্তত এক বছর আগে রিপোর্ট যাচাই করলে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের জন্য সময় পাওয়া যায়।

বাড়ি কেনার কয়েক মাস আগে অপ্রয়োজনীয় নতুন গাড়ির ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের নতুন আবেদনে ক্রেডিট রিপোর্টে হার্ড ইনকোয়ারি যুক্ত হতে পারে এবং ঋণদাতা পরবর্তী সময়ে আবার ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন।

মর্টগেজের আবেদন করার আগে ঋণদাতাকে ক্রেডিট রিপোর্টের ফি কত এবং সেটি ফেরতযোগ্য কি না, তা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ঋণদাতা, ক্রেডিট ইউনিয়ন ও ছোট ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ফি ভিন্ন হতে পারে।

তবে ক্রেডিট রিপোর্টের খরচ নির্দিষ্ট কোনো এক অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। ঋণদাতা, অঙ্গরাজ্য এবং ঋণের ধরন অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালের বাজারচিত্রে উল্লেখ করা ৪ দশমিক ৯৫ থেকে ১০ ডলার এবং মোট ১৫০ থেকে ২০০ ডলারের পরিমাণকে গড় পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।