জার্মানিতে চাকরি করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি নির্দেশনা, যেভাবে করবেন আবেদন
- প্রকাশঃ ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৮
- / 19
বার্লিন, ১৫ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি করার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। কারও লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা শেষে সেখানেই কর্মজীবন শুরু করা, আবার কেউ সরাসরি বিদেশ থেকে চাকরির সুযোগ খুঁজছেন। তবে জার্মানিতে কাজের জন্য শুধু একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুঁজে আবেদন করলেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, ভিসা ও বসবাসের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় জার্মানির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে জার্মান সরকারের সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির বিভিন্ন সেবা বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।
জার্মান সরকারের ‘মেক ইট ইন জার্মানি’ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি খোঁজার আগে নিজেদের যোগ্যতা ও জার্মানিতে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত যাচাই করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যারা আবেদন করবেন, তাদের জন্য চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কাজের অনুমতি ও ভিসার বিষয়টি শুরুতেই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
জার্মানিতে চাকরির আবেদন শুরু করার আগে ‘কুইক-চেক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারী জার্মানিতে কাজ ও বসবাসের মৌলিক শর্ত পূরণ করছেন কি না, তা যাচাই করতে পারেন। বিদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য এটি প্রাথমিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
কোন ধরনের কাজের জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেই পেশায় কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এবং বিদেশি যোগ্যতার স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে কি না, সেসব বিষয়ও আগে জানা দরকার। নিজের যোগ্যতা ও কাঙ্ক্ষিত পেশার সঙ্গে জার্মানির চাকরির বাজারের চাহিদার মিল রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা যেতে পারে।
জার্মানিতে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে পেশাটির স্থানীয় নাম জানা বেশ কাজে আসে। সরকারি ‘বেরুফেনেট’ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে একটি পেশার জার্মান নাম, কাজের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট পেশা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে দেখা যায়। চাকরির ওয়েবসাইটে অনুসন্ধানের সময় জার্মান ভাষার পেশাগত শব্দ ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তাই নিজের পেশার জার্মান নাম ও সংশ্লিষ্ট চাকরির পরিভাষাগুলো আগে থেকে জেনে রাখা উপকারী।
ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির বিনামূল্যের সহায়তা
জার্মানির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা চাকরির আবেদন প্রস্তুতি থেকে শুরু করে জার্মানিতে কাজ ও বসবাস শুরু করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরামর্শ দিতে পারেন।
যারা ইতোমধ্যে জার্মানিতে বসবাস করছেন অথবা সাময়িকভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তারা স্থানীয় এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির কাছ থেকেও সরাসরি পরামর্শ নিতে পারেন। জার্মানির প্রায় সব বড় শহরেই এ ধরনের বিনামূল্যের সেবা রয়েছে।
অপরচুনিটি কার্ডে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ
বিদেশে বসে চাকরির আবেদন করার পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার একটি পথ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বিদেশিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জার্মানিতে গিয়ে চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন।
তবে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে জার্মান সরকারের সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখে নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটে চাকরি খুঁজুন
জার্মানিতে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমগুলোর একটি হলো সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইট। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আগ্রহ থাকলে কোম্পানিটির ওয়েবসাইটের ‘Stellenangebote’, ‘Karriere’ বা ‘Vakanzen’ বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খোঁজা যায়।
শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অপেক্ষায় না থেকে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করেও আবেদন করা যেতে পারে। তবে আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা এবং চাকরির শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়া প্রয়োজন।
কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম ও পেশাগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও জার্মানিতে চাকরির সুযোগ খোঁজা যায়। এসব প্ল্যাটফর্মে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কাঙ্ক্ষিত চাকরির ক্ষেত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে প্রোফাইল তৈরি করা যেতে পারে।
নিয়মিত প্রোফাইল হালনাগাদ রাখা এবং নিজের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদে আবেদন করা চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়াকে আরও সংগঠিত করতে পারে।
বেসরকারি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন
বেসরকারি নিয়োগকারী সংস্থাও জার্মানিতে চাকরি খোঁজার একটি বিকল্প পথ। এসব প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ খুঁজে দিতে পারে।
তবে কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়, নিয়োগের প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ফি এবং অন্যান্য শর্ত পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জার্মান সরকারের ‘মেক ইট ইন জার্মানি’ প্ল্যাটফর্ম। চাকরির নিশ্চয়তার নামে কোনো অর্থ দাবি করা হলে শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও চাকরি খোঁজার সুযোগ
শুধু জার্মানি নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও চাকরির সুযোগ খুঁজতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউরেস’ পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। এতে জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের চাকরির বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়। ইউরেসে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশে বসবাস ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য এবং পরামর্শদাতাদের যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে এবং অনলাইনে চাকরির মেলার আয়োজনও করে এই প্ল্যাটফর্ম।
বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে চাকরির জন্য আবেদন করতে চাইলে প্রথমে নিজের পেশা ও যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরির ক্ষেত্র নির্ধারণ করা যেতে পারে। এরপর পেশাটির জার্মান নাম, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বিদেশি যোগ্যতার স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।
এরপর সরকারি ‘মেক ইট ইন জার্মানি’ প্ল্যাটফর্মে কুইক-চেক করে কাজ ও বসবাসের মৌলিক শর্ত সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির আন্তর্জাতিক সেবা থেকে পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। চাকরির আবেদন প্রস্তুত করার সময় সংশ্লিষ্ট পদে চাওয়া যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট, অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম, পেশাগত নেটওয়ার্ক এবং ইউরেসে নিয়মিত নতুন বিজ্ঞপ্তি খোঁজা যেতে পারে।
জার্মানিতে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় শুরু থেকেই পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে। প্রথমত, নিজের যোগ্যতা ও ভিসা বা বসবাসের শর্ত যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কাঙ্ক্ষিত পেশার জার্মান নাম ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত পরিভাষা জানা দরকার। তৃতীয়ত, সরকারি কর্মসংস্থান সেবার পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
এর পাশাপাশি কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খোঁজা, পেশাগত অনলাইন নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকা এবং ইউরোপীয় চাকরির পোর্টাল ব্যবহার করা যেতে পারে। বেসরকারি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের পরিচয়, ফি ও চুক্তির শর্ত যাচাই করে তারপর এগোনো উচিত।
জার্মানিতে চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় চাকরির সন্ধান, যোগ্যতা যাচাই এবং অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত আলাদা বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই শুধু একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি পাওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আবেদন শুরু করাই নিরাপদ পদ্ধতি।




























